০৩:০১ পি.এম
রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ না করতে চাইলে দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে এবং জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে। এই জন্য তিনি আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের, জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করার এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। এসময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সুদের বিধান ও কুফল প্রসঙ্গে বলেন, সুদ খাওয়াকে মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল বলা হয়েছে। তাই আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ করতে না চাইলে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করা অবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক দেশে সুদমুক্ত অর্থনীতি রয়েছে এবং সেখানকার ব্যাংকগুলোও সুদমুক্ত।
আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানা: "যে পাপ করেছি, তার মাসুল এখন দিতে হচ্ছে"
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও সেটি প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল, এটি প্রমাণ করে যে সুদমুক্ত ব্যাংক কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, সুদ চলতে থাকলে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যায়। তার মতে, সুদের টাকায় শরীরের যে অংশ গঠিত হবে, সেটি জাহান্নামে পুড়বে। তিনি জানান, যদি সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা যায়, তাহলে ২ লাখ কোটি টাকা বের হতে পারে এবং বাংলাদেশের ঘাটতি বাজেট পূরণ হয়ে যাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা জাকাত বোঝে না এবং চুরি করে তাঁদের হাতে জাকাত দিলে হবে না।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই জন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার মাধ্যমে সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কালোটাকা সাদা করা যাবে না। যদি এটি চালু থাকে, তাহলে অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মদ ও বিড়ি যাতে মানুষ না খায়, সেজন্যই দাম বাড়ানো হয়েছে, এর জন্য তিনি সরকারের প্রশংসা করেন। তবে প্রশ্ন তুলে বলেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেন দাম কমাতে বললেন জানি না।
আরও পড়ুন: ‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা ও ছোট ভাইয়ের কী হবে’
মদিনার ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মদিনার ইসলামে সুদ ছিল না, বরং জাকাত ছিল। তাই সুদ বন্ধ করে জাকাত চালু করতে হবে। তিনি বলেন, ফসলের ওশর এবং অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত, কাফফারার সঙ্গেও অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশে একটি জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা উচিত এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। কওমি মাদ্রাসার প্রতি বাজেট থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি কথা বলেন।
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতা এবং ৩৪৬টি ধারায় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ বাজেটের মালিক। তিনি বলেছেন, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। তবে প্রতিবেদনে অপচয়ের কথা অর্থমন্ত্রী বলেছেন কি না, তিনি জানেন না।
ঋণের কুফল সম্পর্কে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, ঋণ পরিশোধ না করে মরতে হবে। তিনি বলেন, কোনো ঋণকে ছোট করে দেখা যাবে না। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঋণ রেখে কারো মারা যাওয়া উচিত নয়। ঋণ করা মানে এক প্রকার ফকিরের হাত।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে ঢাকার চার স্থানে বিআরটিএর রোড শো
তিনি বলেন, ঋণ করে ঘি খাওয়া যাবে না এবং এই ঋণ নিয়ে দেশ চালানো যাবে না। জাতি ও দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মনে করেন।
মসজিদে রাজনীতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মসজিদে নববীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকেও একইভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী প্রাইমারির বাচ্চাদের জন্য জুতা-পোশাক দেবেন, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্যও জুতা-জামা দেওয়ার দাবি রাখছেন।
তিনি শিক্ষকদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের কথা বলেন এবং জানান, শিক্ষকদের সম্মানের হতে হবে। যদি শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: প্রবল বাতাসে উড়ে আসা ছাদের অংশ পড়ে ব্রাজিলের পর্যটকের মৃত্যু
তিনি বলেন, যেগুলো যোগ্য তাদের এমপিও চালু এবং যেগুলোর ঘাটতি রয়েছে তাদের শর্তসাপেক্ষে চালু করা উচিত। বাকিগুলো যাচাই-বাছাই করে তিন কিস্তিতে এমপিওভুক্ত করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে।
শ্রমিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কৃষি কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, জনগণের হাতে কাজ প্রদান করা উচিত, শুধুমাত্র কার্ড নয়। তা না হলে তাদের ভিক্ষার হাতেই থাকতে হবে। রাসুল (সা.) কাজের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কাজ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মহিলা শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাতীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত যে, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সসহ সব সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব এমপির সম্মান রক্ষার্থে গঠনমূলক উন্নয়ন কাজের দিকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রকে রুমে ডাকতেই ইমামের ‘আসল চেহারা’ বেরিয়ে আসে
অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এই সংসদে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাঁরা সরাসরি নেতাদের প্রতি স্মরণ করেছেন এবং দোয়া করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর এসব নির্দেশ মানলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন