ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের নির্দেশে স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনী


ট্রাম্পের নির্দেশে স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌবাহিনীর নতুন বিমানবাহী রণতরিতে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা 'ইএমএএলএস' বাতিল করে পুরোনো বাষ্পচালিত ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থায় ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পরিবর্তনে খরচের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক স্মারকে ট্রাম্প এই নির্দেশনা দিয়েছেন। স্মারকে পেন্টাগন এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে দুই মাসের মধ্যে এ পরিবর্তনের সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে 'ফোর্ড শ্রেণির বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস ডোরিস মিলেরে' এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে একই শ্রেণির ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড, ইউএসএস জন এফ. কেনেডি ও ইউএসএস এন্টারপ্রাইজে এই ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না।

ইএমএএলএস একটি বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা, যা বিমানবাহী রণতরির ডেক থেকে যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে উড্ডয়ন করতে সহায়তা করে। এটি চুম্বকের শক্তি ব্যবহার করে বিমানকে সামনে ঠেলে দেয়। ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, ইউএসএস ডোরিস মিলারে এই ব্যবস্থা বাদ দিয়ে আবার বাষ্পচালিত ক্যাটাপল্ট বসানো হবে। এছাড়া ফোর্ড শ্রেণির রণতরিতে বৈদ্যুতিক অস্ত্রের জন্য ব্যবহার হওয়া লিফটের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা

যদিও জাহাজের নকশা ও নির্মাণ কাজ অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর এ ধরনের পরিবর্তন করাটা সহজ হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ট্রাম্পের ইএমএএলএস ব্যবহারের বিরুদ্ধে আপত্তি নতুন নয়। অন্তত ২০১৭ সাল থেকে তিনি এই ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। সেই সময় 'টাইম' ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী নয় এবং পুরোনো বাষ্পচালিত ব্যবস্থার মতো এটির কার্যকারিতা নেই। সে সময় তিনি পুরোনো বাষ্পচালিত ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছিলেন।

পরে বিভিন্ন জনসভা ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানবাহী রণতরির এই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যৌক্তিকভাবে, ইএমএএলএসের সমর্থকরা বলছেন, এই প্রযুক্তির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যা পুরোনো বাষ্পচালিত ব্যবস্থা থেকে তুলনামূলক বেশি কার্যকর। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমানকে দ্রুত উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করা যায় এবং এটি তুলনামূলকভাবে কম জায়গা নেয়।

ইউএসএস ফোর্ডে ইএমএএলএস ব্যবহারের ফলে ক্যাটাপল্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা ১২ জন থেকে কমে মাত্র দুটি হয়ে গেছে। নৌবাহিনী আগে জানিয়েছিল, ইএমএএলএস ব্যবহারের ফলে ইউএসএস ফোর্ড পুরোনো নিমিটজ শ্রেণির বিমানবাহী রণতরির তুলনায় বেশি হারে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করাতে পারে।

ইএমএএলএস তৈরি করে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান জেনারেল অ্যাটমিকস। ট্রাম্পের নির্দেশনার পর প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ই-মেইলে জানিয়েছে, ইউএসএস ডোরিস মিলারে এই ব্যবস্থা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আবারও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জাহাজটির ক্যাটাপল্ট এবং বিমান থামানোর যন্ত্রপাতির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নতুন নকশা ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আনা হলে খরচ, নির্মাণের সময় এবং বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে জেনারেল অ্যাটমিকস।

আরও পড়ুন: সরাইল থানায় গিয়ে ওসির ওপর চটলেন এমপি রুমিন ফারহানা

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী তাদের নিজস্ব জাহাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের সংকটে ভুগছে। চলতি বছরের শুরুতেই নৌবাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার পদ খালি ছিল বলে জানা গেছে। এই কারণে কমসংখ্যক নাবিক দিয়ে পরিচালনা করা যায় এমন ইএমএএলএস বাদ দিয়ে, বেশি জনবল প্রয়োজন এমন পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া নৌবাহিনীর জন্য বড় পরিবর্তন হতে পারে। নতুন ব্যবস্থা বসানো এবং পরে সেটি বাদ দিয়ে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অবশ্যম্ভাবী। কারণ একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন অগ্রাধিকারের জন্য কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের খরচ বেড়ে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় রিপাবলিকানরা সামরিক বাহিনী এবং হোয়াইট হাউসের অন্যান্য অগ্রাধিকারের জন্য ৯৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হেগসেথ এই অতিরিক্ত অর্থকে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট সামরিক বাহিনীতে এক প্রজন্মের জন্য বড় বিনিয়োগ হবে। প্রতিনিধি পরিষদ অল্প সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রস্তাব পাস করেছে। কিন্তু সিনেট এখনও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সেপ্টেম্বরে সিনেটের অধিবেশন পুনরায় শুরু হবে।

ট্রাম্পের স্মারকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণের আর একটি সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, নৌবাহিনী জাহাজের নকশায় নিয়মিত পরিবর্তন আনে। এসব পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, কাজ শেষ করতে বেশি সময় হয়েছে এবং কিছু প্রকল্প বাতিলও হয়েছে। তবে এবার যে জাহাজে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে। ফলে শেষ পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন হলে বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প যখন মার্কিন রণতরিতে ইএমএএলএস বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন চীন তাদের নতুন বিমানবাহী রণতরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ফ্রান্সও তাদের নতুন বিমানবাহী রণতরিতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো বাষ্পচালিত ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এসেছে, যখন চীন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো আধুনিক প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে চলছে। এখন পেন্টাগন ও নৌবাহিনীকে ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবর্তনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। একই সময়ে কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনা চলছে এবং নৌবাহিনীকে জাহাজ নির্মাণ ও জনবল সংকট – দুই ধরনের চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সরকার নাগরিকদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ: সিপিবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীর পাংশায় মাকে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


রাজবাড়ীর পাংশায় মাকে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে
 
 
রাজবাড়ীর পাংশায় নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্ণখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহত তারা খাতুন (৪৫) পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের জাবেদ বিশ্বাসের স্ত্রী।
 
আজ শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকালে পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্ণ খোলা এলাকা থেকে নিহত তারা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পাংশা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাজু বিশ্বাস কে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর তারা বেগমের স্বামী জাবেদ বিশ্বাস পলাতক রয়েছে।
 
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য- তারা খাতুনের ছেলে রাজু (২৮) ইয়াবা সেবন করতেন। এক পর্যায় রাজু শারিরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা খাতুন ছেলের চিকিৎসার জন্য মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়া জেলার বনগ্রাম এলাকায় উদ্দেশ্য রওনা হয়। তারা খাতুন ছাড়াই তার ছেলে রাজু বিশ্বাস খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সকালে তারাখাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা খাতুনের সাথে তার
 
স্বামী জাবেদ বিশ্বাসের সম্পর্ক ভালো ছিল না। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছেন তাদের ছেলে রাজু বিশ্বাস নেশায় আসক্ত ছিলেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজু বিশ্বাসের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তারা খাতুনের মৃত্যু হয়ে থাকলে তিনি কাউকে সেটি অবহিত করেননি। 
 
এদিকে ঘটনার পর থেকে তারা খাতুনের স্বামী জাবেদ বিশ্বাসও পলাতক রয়েছে।ঘটনা স্থলে পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যররা তদন্ত করছেন।
 
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম বলেন, আমরা নাদুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে তারা বেগম নাম এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যার কারণে মৃত্যু অথবা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায় তারা খাতুন মারা গেলে ছেলের উচিত ছিল সেটি কাউকে অবগত করা। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানে বাগান থেকে সোভিয়েত আমলের ৫০০ কেজির বোমা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


আফগানিস্তানে বাগান থেকে সোভিয়েত আমলের ৫০০ কেজির বোমা উদ্ধার

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গজনি প্রদেশে সোভিয়েত আমলের একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বোমার ওজন ছিল ৫০০ কেজি। এটি একটি ব্যক্তিগত বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে সেটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার পুলিশ এ তথ্য প্রদান করেছে।

গজনি প্রদেশের সির গ্রামে বুধবার এক বাসিন্দা নিজের বাড়ির আঙিনার বাগানে একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হলে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। গজনি পুলিশের মুখপাত্র খালিদ সারহাদি সংবাদ মাধ্যম এএফপিকে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে নিরাপত্তা বাহিনী এবং ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের একটি মাইন অপসারণকারী দল ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়।

পরে তারা সেখানে সোভিয়েত আমলের ৫০০ কেজি ওজনের বোমাটি দেখতে পায়। সারহাদি বলেন, বোমাটি বাড়ির কাছে থেকে সরিয়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপদে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি কত বছর ধরে ওই জায়গায় ছিল বা কিভাবে সেখানে এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এটি সোভিয়েত আমলের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আফগানিস্তানে কয়েক দশকের যুদ্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা, গোলাবারুদ ও মাইন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অনেক সময় এসব অস্ত্র মানুষের বাড়ির আশপাশ, কৃষিজমি, রাস্তা ও অন্যান্য জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়ে থাকে। সির গ্রামের ঘটনাটিও সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার একটি উদাহরণ।

সোভিয়েত সেনারা প্রায় এক দশক ধরে আফগানিস্তানে অবস্থান করার পর ১৯৮৯ সালে দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু তারপরও আফগানিস্তানে একের পর এক যুদ্ধ ও সংঘাত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়ে গেছে। যুদ্ধের সময় ব্যবহার করা অনেক বোমা ও গোলাবারুদ বিস্ফোরিত না হয়ে মাটির নিচে বা বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে। জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার পর থেকে দেশটিতে মাইন ও অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্রের কারণে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত অথবা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ মানুষও রয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব অস্ত্র বড় ধরনের ঝ risks তৈরি করে। অনেক সময় পুরোনো গোলাবারুদকে খেলনা অথবা ধাতব বস্তু মনে করে মানুষ সেটি স্পর্শ করলে দুর্ঘটনা ঘটে।

আফগানিস্তানে এখনো বিপুল পরিমাণ মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র রয়েছে, কিন্তু এগুলো অপসারণের কাজ করা দলের সংখ্যা কমে গেছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশনের মাইন অ্যাকশন বিভাগের প্রধান নিক পন্ড জুন মাসে এএফপিকে জানিয়েছিলেন, গত দুই বছরে এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা দলের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ কমেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা পুরোনো মাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র সরাতে আরো বেশি সময় লাগতে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় এসব অস্ত্রের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। কারণ এসব জায়গায় মানুষ কৃষিকাজ, পশুপালন বা দৈনন্দিন চলাচলের সময় হঠাৎ করে পুরোনো অস্ত্রের মুখোমুখি হতে পারেন। গজনির সির গ্রামের ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাসিন্দা সময়মতো সন্দেহজনক বস্তুটি দেখতে পাওয়ায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোয় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৬ আগস্ট ছুটি ঘোষণা, ছুটির আওতায় থাকবেন না যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


২৬ আগস্ট ছুটি ঘোষণা, ছুটির আওতায় থাকবেন না যারা

আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হবে। চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডশেন এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিন সরকারি ছুটি থাকবে, কিন্তু সকলের জন্য এই ছুটির সুবিধা মিলবে না।

জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে।

এছাড়া, শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে ১৪৪৮ হিজরি সালের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের গণনা শুরুর মাধ্যমে আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন হবে।

আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) সরকারি ছুটি থাকবে। তবে সবাই এই ছুটি ভোগের সুযোগ পান না।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ২৬ আগস্ট সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই ছুটি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। জরুরি সেবা যেমন স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরতদের ওই দিনও কর্মসম্পাদন করতে হবে।

এদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, অগ্নিনির্বাপণ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, বন্দর, বিমানবন্দর, রেলওয়ে, গণপরিবহণ, কারাগার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নাম উল্লেখ করা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তুচ্ছ বিষয়ে শিল্পীদের আদালতে টেনে নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক’ নুসরাত ফারিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


‘তুচ্ছ বিষয়ে শিল্পীদের আদালতে টেনে নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক’ নুসরাত ফারিয়া

শাড়িকাণ্ডে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এর আগে নানা ঘটনায় দেশের একাধিক তারকাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে দেখা গেছে।

এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। তিনি মনে করেন, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে শিল্পীদের আদালতে টেনে নেওয়ার প্রবণতা শোবিজ অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক।

বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘তুচ্ছ সব বিষয় নিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আদালতে টেনে নেওয়ার প্রবণতা কেবল লজ্জাজনকই নয় বরং শোবিজের জন্য পীড়াদায়কও।

আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যে কতটা ভঙ্গুর, খামখেয়ালি ও হালকা হয়ে পড়েছে এটি তারই প্রমাণ।’

ফারিয়ার মতে, মতপার্থক্য হলেই আইনের আশ্রয় নেওয়া কোনোভাবেই অগ্রগতির লক্ষণ নয়।

তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয় যখন দেখি মানুষ এমনভাবে বাহবা দেয় যে এটিই অগ্রগতির প্রতীক। মতপার্থক্য হলেই আদালতে যাওয়া কোনো প্রগতিশীল চিন্তাধারার লক্ষণ নয়।

বরং এটি সম্পূর্ণ পিছিয়ে দেওয়ার মানসিকতা। আমাদের প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, আলোচনা ও পরিপক্বতা জনসমক্ষে অপমান বা অপ্রয়োজনীয় আইনি লড়াই নয়। এটি কোনো অগ্রগতি নয়, এটি অধঃপতন।’

সম্প্রতি শাড়িকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশার আদালতে আত্মসমর্পণের ও জামিনের ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেছে। ওই ঘটনার পরেই নুসরাত ফারিয়ার এই মন্তব্য সামনে এসেছে।

এর আগে গত বছরের ১৮ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নুসরাত ফারিয়া। তবে একটি দিন পরেই জামিনে মুক্তি পান তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা অভিনেত্রীর জন্য অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও কষ্টদায়ক ছিল।

তানজিন তিশার সাম্প্রতিক ঘটনায়, সম্ভবত ফারিয়ার সেই অভিজ্ঞতার কথাই নতুন করে মনে পড়েছে। আর সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%