ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৫০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, জোরারগঞ্জে পুলিশের অভিযানে


৫০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, জোরারগঞ্জে পুলিশের অভিযানে

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে ৫০ কেজি গাঁজাসহ একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকার থানা পুলিশ জব্দ করেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার সময় উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় বেঁদেপাড়া এলাকার আরসিএল ফিল্ডের সড়কে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাইভেটকারে থাকা অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন মাদককারবারি গাড়িটি রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। এর পরে চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯৯৬৪ নম্বরের গাড়িটি তল্লাশি করে দেখা যায়, প্লাস্টিকের তিনটি বস্তায় রাখা ২৫টি পোটলা থেকে মোট ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রতিটি পোটলায় দুই কেজি করে গাঁজা ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন: কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগে বাউফলে মানববন্ধন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে মাদক সেবনের অভিযোগে কবিরাজসহ ৯ জনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর প্রতিনিধি, মাহদী হাসান নূর

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


নাসিরনগরে মাদক সেবনের অভিযোগে কবিরাজসহ ৯ জনের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে এক কবিরাজসহ ৯ জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহিনা নাসরিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে নাসিরনগর থানা পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় ৯ জনকে মাদক সেবনের অভিযোগে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তদের নামঃ

- ভলাকুট ইউনিয়ন: বাবুল মিয়া, লালু মিয়া, পায়েল মিয়া ও জালাল মিয়া

- চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া গ্রাম: ইমরান মিয়া

- হরিপুর ইউনিয়ন: কবিরাজ জাহের মিয়া

- চাপরতলা ইউনিয়ন: শফিক মিয়া ও আঙ্গুর মিয়া

এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত, জানা গেল নতুন তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত, জানা গেল নতুন তথ্য

আসন্ন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গঠিত সচিব পর্যায়ের কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ফেলেছে। প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে স্বাক্ষরও করে দিয়েছেন কমিটির সব সদস্য। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই নতুন এ পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানেই ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ ই-বুক থেকে জানা গেছে, আসন্ন নবম পে-স্কেলে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে, নতুন এ পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে দুই ধাপে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন বাড়ানো হবে এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

বইয়ে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই একটি অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে কমিশন। কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ বেতন কাঠামো ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।

পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

এর আগে, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারী কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস এডিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস এডিবির

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং বলেছেন, উৎপাদনশীল, বিনিয়োগনির্ভর ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। এর ফলে দেশের সকল অঞ্চলে মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সবার জীবনমানের উন্নতি ঘটবে।

গণমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে সহায়তা করাই এডিবির লক্ষ্য।

গত ৯ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সফর করে ইয়িংমিং ইয়াং। এ সময়ে তিনি এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকারের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা করেন। এছাড়া সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

ইয়াং উল্লেখ করেন, শক্তিশালী প্রবাসী আয়, সেবাখাতের ধারাবাহিক কার্যক্রম এবং গতিশীল বেসরকারি খাতের কারণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। এখন এই সক্ষমতাকে আরও গভীর অর্থনৈতিক রূপান্তরে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তার মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া, মূল্যস্ফীতি কমে আসা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার ফলে আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

যদিও এই গতি ধরে রাখতে কাঠামোগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন ইয়িংমিং ইয়াং। তিনি বলেন, কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ব্যাংক খাতের সুশাসন উন্নত করা, খেলাপি ঋণ মোকাবিলা করা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইতিবাচক।

এডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির সম্প্রসারণ, সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নারী ও তরুণদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।

বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, প্রতিযোগিতামূলক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে, উন্নত সেবা প্রদান করা হবে এবং প্রচলিত প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রের বাইরে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়িংমিং ইয়াং জানান, বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী এডিবির অংশীদারিত্বও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে এডিবির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আরও বহুমুখী, প্রতিযোগিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা। বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও সহনশীলতা থেকে প্রকৃত রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, আইজিএনডি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যয় কমানো, বড় শহরের বাইরে অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং ব্যবসা ও শ্রমবাজারকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আরও প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা উচ্চমানের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও জনগণের মধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়াও সম্ভব হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশ বিশেষ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে।

গত মে মাসে বাংলাদেশ সফরের সময়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বাংলাদেশকে পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ পাবে। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহনশীলতা থেকে রূপান্তরের পথে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তবে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত অবকাঠামো এবং জ্বালানি সংযোগ তখনই পূর্ণ সুফল দেবে, যখন সেগুলো দক্ষ শুল্কব্যবস্থা, সমন্বিত মানদণ্ড, পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং নির্বিঘ্ন সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। তার ভাষায়, ভৌত অবকাঠামো এবং নীতিগত সমন্বয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

সম্প্রতি চালু হওয়া এডিবির ২০ বিলিয়ন ডলারের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন ইয়িংমিং ইয়াং। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর, নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড সুবিধার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি জানান, ডিজিটাল হাইওয়ে উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ কৃষক, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক, তরুণ কর্মী এবং নারী উদ্যোক্তাদের চাহিদা আরও কার্যকরভাবে পূরণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া আইজিএনডি এবং দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) উদ্যোগও এসব লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ কখনোই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিকল্প হতে পারে না। বরং এটি সংস্কারকে আরও কার্যকর করে তোলে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সুযোগগুলো আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ বাড়লে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও সংস্কারের জন্য আরও শক্তিশালী প্রণোদনা তৈরি হবে।

ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও সংযুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং সুযোগসমৃদ্ধ অর্থনীতি তৈরির লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবে। উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগই দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে আলহাজ আব্বাস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর আদর্শ বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় ও ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

তিনি রাজধানীর শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান, নিজ নিজ বাসা, ছাদ অথবা রাস্তার পাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই’। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। আমিনুল হক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের আব্বু-আম্মুকে বলবে, বাসায়, ছাদে, রাস্তার পাশে—যেখানে সুযোগ আছে, একটি করে গাছ লাগাতে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি গাছ লাগানোর দায়িত্ব তোমাদের নিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার গাছের চারা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব চারা বিভিন্ন স্কুলে বিতরণ করা হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে চারা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যেন বাড়ি বা আশপাশের উপযুক্ত স্থানে সেই গাছ লাগায়, তার জন্যও উৎসাহিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘গাছ মানুষকে অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন।’

প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, ‘সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় পল্লবী এলাকার স্কুল-কলেজগুলোতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু বিদ্যালয়ে নয়, নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানোর মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে আমিনুল হক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নিজের হাতে হাত ধুয়ে দেন এবং পরে তাদের মধ্যে চকলেট বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%