ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দাদাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, নাতির বিরুদ্ধে


কুড়িগ্রামের উলিপুরে দাদাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, নাতির বিরুদ্ধে

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভাতিজার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, তার নাতি তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্ধিগঞ্জ কলাবাড়ী এলাকার মৃত সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

পরে মঙ্গলবার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে হত্যাকাণ্ডের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় বোন মাজেদা বেগম মরদেহটি শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সফরের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমানে চলমান মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সংকটের সময় পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। আসিম মুনিরের এই সফর আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় অভিযান, ৮৫ জন মাদকসহ আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় অভিযান, ৮৫ জন মাদকসহ আটক

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) একটি অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার মধ্যরাতে, ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি টিম বাড়িটিতে অভিযান চালায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়িতে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসত এবং ডিজে পার্টিও অনুষ্ঠিত হতো। বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ সেখানে মাদক সেবনের জন্য আসতেন। তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত আছেন।

অভিযানের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেছেন, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাঁরা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন। আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী রয়েছেন।

শফিকুল ইসলাম আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে এবং প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহরাস্তিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ঘিরে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


শাহরাস্তিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ঘিরে তোলপাড়

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে মিছিলের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন সুজনের নেতৃত্বে মঙ্গলবার ভোরে মুদাফফরগঞ্জ-চিতোষী সড়কে মিছিলটি বের হয়। পরে দুপুরে সুজন নিজে তার ফেসবুক আইডি থেকে মিছিলের ভিডিওটি পোস্ট করেন।

ভিডিওটি পোস্ট করার পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা সুজনকে স্বাগত জানিয়ে সেটি নিজেদের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন জানান, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি।"

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি মিছিলের ভিডিওর লিংক পেয়েছেন। তার ধারণা, মিছিলটি আগেই করা হয়েছে, মঙ্গলবার শুধু ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চন্ডিপুর এলাকায় মিছিলটি বের করা হয়ে থাকতে পারে। পূজার নিরাপত্তায় পুলিশ ব্যস্ত থাকার সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, বিস্তারিত তথ্য জেনে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রমাণ ‘সরকার পতনের’ কান্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রমাণ ‘সরকার পতনের’ কান্না

একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, যখন সরকার জনগণের প্রতিবাদকে ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তা মূলত প্রকাশ্যে নিজের নিরাপত্তাহীনতা তুলে ধরে। এটি একদিকে সমালোচকদের অবস্থানকে উঁচুতে তুলে ধরে, অন্যদিকে নিজের ক্ষমতায় থাকার বিষয়টিকে একটি ‘জাতীয় বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে মনে করে। এর ফলে জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট গণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া আসা স্বাভাবিক: সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনযোগ্য।

যিনি তাঁর শাসনকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার জন্য ঈশ্বরপ্রদত্ত বা ‘নন-বায়োলজিক্যাল’ মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করতে অভ্যস্ত, তাঁর দলের বর্তমান ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভোটাররা হয়তো নরেন্দ্র মোদীকে প্রত্যাখ্যান করে ভারতের জন্য অন্য কোনো—সম্ভবত আরও ভালো—ভবিষ্যৎ বেছে নিতে পারেন। যুক্তিসঙ্গত রাজনৈতিক ভিন্নমতকে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে বিজেপি মূলত সরকার পরিবর্তনের সেই বাস্তব সম্ভাবনাকে অনাবৃত করে দিয়েছে, যা প্রতিটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

বিজেপি প্রতিবেশী দেশগুলোতে জেন-জি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক গতিপথ অনুসরণ করলেও তাদের সাধারণ মিলটি ছিল তরুণদের ক্ষোভ, যা ক্ষমতাসীনদের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল। মোদী সরকার 'Gen Z' শব্দটির ব্যাপারে এতটাই সংবেদনশীল যে তাদের সরকারি বিবৃতিতে এখন 'যুব সমাজ' শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওগুলো ব্যাপক জনসমক্ষে উপহাসের পাত্র হওয়ার পর আচমকা বন্ধ হয়ে গেছে।

সংবাদ টিভির বিতর্ক ও সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যেই বিজেপি নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো গঠনমূলক আলোচনায় তারা যাচ্ছে না। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন বিরোধী দল, প্রাক্তন সচিব, দিল্লির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং সুশীল সমাজের নেতাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর চরম শক্তি প্রদর্শনই এখন নাগরিক ও বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যখন প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার অবরুদ্ধ করা হয় এবং পুলিশ সরকারের একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে ওঠে, তখন জবাবদিহিতার বিষয়টি মোদী শাসনের অবাধ ক্ষমতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে একটি বড় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর ১৩তম বছরে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন আর তিনি পূর্বসূরিদের ওপর দোষ চাপিয়ে বা নিজেকে 'এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী' দাবি করে পার পাচ্ছেন না। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিক্ষোভকারীরা ক্রমান্বয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র এবং ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপির সমর্থক পরিবার ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলো থেকে আসছে। সরকার যখন তাদের দমনপীড়নের মুখে ফেলে, তখন তা মোদীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর মারাত্মক আঘাত হানে।

সংসদে আসন সংখ্যা ২৪০-এ নেমে আসার পর বিজেপি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

যে ৭টি কারণে উদ্বেগে মোদী সরকার:

১. নির্ভরযোগ্য বন্ধু দলগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার

যেসব দল রাজনৈতিক সংকটে বিজেপির পাশে থাকত, তারা এখন সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছে। ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দলের মতো মিত্ররা এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জগন মোহন রেড্ডি তো এমনও বলেছেন যে, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিল সমর্থন করা তাঁর ভুল ছিল। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং সিইসির অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন।

২. তীব্র অর্থনৈতিক অসন্তোষ

শিরোনামের জিডিপি প্রবৃদ্ধি জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না, কারণ নিরাপদ কর্মসংস্থান ও বাস্তব আয় অধরাই রয়ে গেছে। যুব সমাজ, শহর ও গ্রামাঞ্চলে চরম বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং স্থবির গ্রামীণ মজুরির কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্স মাসের পর মাস নিম্মমুখী।

এর সাথে যোগ হয়েছে বিদেশি পুঁজির রেকর্ড পরিমাণ চলে যাওয়া, টাকার মানের রেকর্ড দরপতন এবং আমেরিকার সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে তরুণদের এইচ-১বি ভিসার অনিশ্চয়তা। সাধারণ মানুষের সাথে সাথে ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ।

৩. আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো

চলমান গণবিক্ষোভ ভারতের আমলাতন্ত্রের হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে। আমলারা যখন বুঝতে পারেন যে সরকার পরিবর্তন হতে পারে, তখন তাঁরা ভবিষ্যতের জবাবদিহিতার ভয়ে সতর্ক হয়ে ওঠেন। জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের ('জুলাই ক্রান্তি') পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ আমলাতন্ত্রের ভেতর বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এমনকি নির্বাচন কমিশনের ভেতরের মতভেদের খবর সংবাদপত্রে ফাঁস হওয়া প্রমাণ করে যে, কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত মোদী সরকারের ওপর আমলাদের সেই ভয় আর নেই।

৪. প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে জনরোষ

বিজেপি এতদিন নির্বাচন কমিশন বা বিচার বিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে আসছিল। তবে সোশ্যাল মিডিয়া, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে সাধারণ মানুষ এখন এই 'প্রতিষ্ঠান দখলের' রাজনীতি বুঝতে পারছে। শীর্ষ আদালত বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন আর সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, বরং রাজপথের আন্দোলনের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

৫. ‘এমওয়াই' (মহিলা ও যুব) ভোটব্যাংক ভাঙন

বিজেপি এতদিন 'মহিলা ও যুব' (এমওয়াই) শক্তিকে তাদের নিশ্চিত ভোটব্যাংক হিসেবে দাবি করত। কিন্তু বর্তমানে দেশে জেন-জি প্রজন্মের প্রায় ৩৮ কোটি তরুণ সরকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। চাকরির পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব এবং পুলিশের লাঠিচার্জের সম্মুখীন হয়ে তরুণ ও নারী সমাজ এখন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছে।

৬. দলিত নেতা অভিজিৎ ডিপকের উদয়

কাকরোজ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকের দলিত পরিচয় বিজেপির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ। তিনি কেবল জাতিগত বা সামাজিক পরিচয়ের রাজনীতি করছেন না, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতাকে এক সুতোয় গেঁথে তরুণ সমাজকে একত্রিত করছেন। দলিত অধিকারের সাথে যুব সমাজের বেকারত্বকে যুক্ত করার এই সমীকরণ বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ও নির্বাচনী কৌশলে বড় ধরনের আঘাত এনেছে।

৭. আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা দল রাজপথের শক্তি বোঝে

বিজেপি নিজেই ৮০ ও ৯০-এর দশকে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল। তাই তারা ভালো করেই জানে যে, রাজপথের জনস্রোত কীভাবে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। মোদী শাসনের ১৩তম বছরে দাঁড়িয়ে আরেকটি তরুণ-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলন দেখে দিল্লি ও নাগপুরে (আরএসএস সদর দফতর) উদ্বেগ তৈরি হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

যদি মোদী সরকার দমনপীড়ন বা এড়িয়ে চলার নীতি বজায় রাখে, তবে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও বেগবান হবে। ভিন্নমতকে 'সরকার উৎখাতের চক্রান্ত' বা 'রিজিম চেঞ্জ' বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা মূলত তরুণ সমাজকে তাঁদের সম্মিলিত শক্তি আবিষ্কার করতেই বেশি উৎসাহিত করছে.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%