ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঝিনাইদহে চিকিৎসক সংকটে গর্ভবতী নারীদের দূরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে


ঝিনাইদহে চিকিৎসক সংকটে গর্ভবতী নারীদের দূরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে

একটি তিনতলা ভবন দাঁড়িয়ে রয়েছে। কক্ষে কক্ষে চিকিৎসা সরঞ্জাম সাজানো, শয্যা প্রস্তুত এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমিটরি রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসক নেই। ঝিনাইদহ জেলার চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এই অবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, উদ্বোধনের আট বছর পরও চিকিৎসক সংকটের কারণে এসব কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী নারীরা। কাছের এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের দূরে দূরে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ঝিনাইদহের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এসব হাসপাতাল। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, গ্রামের নারীরা নিরাপদ মাতৃত্বসেবা পাবেন, জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে এবং নবজাতকের প্রয়োজনীয় সেবাও মিলবে। কিন্তু আট বছরেও সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সরকারি এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসর। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল, এ কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, প্রসূতি ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে এত দিনেও প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র হিসেবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি।

আরও পড়ুন: সিলেটে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

একই চিত্র ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা এবং শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত অন্য তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও দেখা যাচ্ছে। তিনতলা ভবন, শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালগুলো নির্মাণের সময় যে আশার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে রোগীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসববেদনা ওঠা নারী কিংবা অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হলে পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে চারটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এসব হাসপাতালের বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি হাসপাতাল তিনতলাবিশিষ্ট। চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন কক্ষ।

দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকার বাসিন্দা বসির আহম্মেদ বলেন, "হাসপাতাল আছে, ভবন আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকলে মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? গর্ভবতী নারী কিংবা শিশুর অসুস্থতার সময় দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে।"

আরও পড়ুন: ইসলামী ছাত্র মজলিস ফতুল্লা থানা শাখা পুনর্গঠন সম্পন্ন -

ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম বলেন, "হাসপাতালগুলো চালু থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে সেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে প্রেমের জেরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৪০, ফেসবুক লাইভে মেয়েটির বিস্ফোরক বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিরাই প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


দিরাইয়ে প্রেমের জেরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৪০, ফেসবুক লাইভে মেয়েটির বিস্ফোরক বক্তব্য

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬নং করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর ও হলিমপুর গ্রামের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই গ্রামের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একটি প্রেমের সম্পর্ককে ঘিরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়েটি সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছে। লাইভে সে জানায়, তাদের দুজনের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে। তারা একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না বলেও দাবি করে।

মেয়েটি আরও জানায়, সে নিজেই ছেলেটিকে ফোন করে নিয়ে এসেছে এবং দুজনের সম্মতিতে একসঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছে। তাদের আলাদা করার চেষ্টা কিংবা গ্রামবাসীর জমায়েত করে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করে সে। তার স্পষ্ট বক্তব্য, সে ওই ছেলেকেই চায়, অন্য কাউকে নয়।

ফেসবুক লাইভে আবেগাপ্লুত হয়ে মেয়েটি বলে, “ওকে যদি না পাই, তাহলে এ জীবন আর রাখব না।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কম্বোডিয়াভিত্তিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সহযোগীদের ওপর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কম্বোডিয়াভিত্তিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সহযোগীদের ওপর

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি কথিত অনলাইন প্রতারণা চক্র ও আফ্রিকার মাদাগাস্কারে সক্রিয় অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানোর।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) প্রিন্স গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি ও ৪১টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে শত শত কোটি ডলারের অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনার।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব চক্র ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা করে। তাদের ফাঁদে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেককে মানব পাচারের মাধ্যমে বাধ্য করে এসব কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা চার ব্যক্তির মধ্যে একজন কিউ ইয়ং। তিনি প্রিন্স গ্রুপের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

কম্বোডিয়া, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্কের পাসপোর্টধারী কিউ ইয়ং ঋণ প্রদানকারী বিভিন্ন সেবা এবং ওয়াইন ব্যবসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স গ্রুপের অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন বলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

চীনে জন্ম নেওয়া প্রিন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেন ঝিকে গত জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া থেকে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়। এর কয়েক মাস আগে, প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রিন্স গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেন ঝিসহ প্রিন্স গ্রুপের অন্তত ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের ক্যাসিনো, ভবন ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে, আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে একটি প্রতারণা চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ার নাগরিক চুই কক ওয়াকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত সেপ্টেম্বরে প্রতারণাবিরোধী এক সম্মেলনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেছিলেন, তার দেশ কখনোই অনলাইন প্রতারণার অপরাধীদের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হতে দেবে না।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপরাধী চক্রকে প্রভাবশালী মহলের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা এবং তাদের অপরাধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলেন, ‘সাইবার প্রতারণার অপরাধী চক্রগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে নজরদারি ও তদন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে নজরদারি ও তদন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে দলটি। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি দুই বছরে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ নির্বাচনে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ২৫৩টি এবং রিপাবলিকানরা ১৫৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। বাকি আসনগুলোর ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি। দুটি আসনের ফলাফল তখনো বাকি ছিল। ফলে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ১০০টি এবং নিম্নকক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫টি আসন রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ২১৮টি আসন প্রয়োজন। সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন।

নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন ছিল। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে বিরোধী শিবিরের আসন ছিল ৪৭টি। এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সাতটি আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে গেছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৫৪-৪৪ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ৩০টি আসন বাড়িয়েছে দলটি। ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা অব্যাহত থাকায় আসনসংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের প্রভাবাধীন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। ফলে তালারিকোর জয়কে দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাউথ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। এ ছাড়া আইওয়ায় জশ টুরেক, কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটন এবং মেইনে ট্রয় জ্যাকসন সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। কানসাসে প্রায় ৯৪ বছর পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে মেইনে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ট্রয় জ্যাকসন।

এ ছাড়া ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে পরাজিত করেছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় জয় পেয়েছেন রয় কুপার। এসব ফলাফলে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য থাকা অঞ্চলগুলোতেও ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।

প্রায় দুই হাজার ১০০টি কাউন্টির মধ্যে ৯৯ শতাংশ এলাকায় রিপাবলিকানদের ভোটের অংশ কমেছে। এসব এলাকায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পাওয়া ভোটের তুলনায় এবার রিপাবলিকানদের সমর্থন গড়ে ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

বিশেষ করে হিস্পানিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেড়েছে। এ ধরনের ৬৪টি কাউন্টিতে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভোটের অংশ ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

ট্রাম্পের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন বাড়ানোর জন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো ফল করেছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব এখন বিরোধী দলের হাতে যাবে। ফলে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ, সরকারি ব্যয়, বিভিন্ন চুক্তি এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নিতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা।

এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কংগ্রেসে তলব, সরকারি নথিপত্র চাওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতাও বাড়বে। ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

নতুন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস স্পিকার পদে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন কোনো আইন পাস করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বাজেট, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়বে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। তিনি কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত সরাসরি বাতিল করতে পারবেন না। তবে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার মতো রাজনৈতিক ক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এটি তার জন্য ব্যক্তিগত পরাজয় নয়। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের মান এবং নির্বাচনী পরিস্থিতিকে দলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করেছে। হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আইনসভার দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দুই বছর বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেই এগোতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান ও ব্যালটপেডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মনে করি এখনো বিএনপি যে সরকারে আছে, তা গায়ের জোরে আছে। অতীতেও আমরা দেখেছি গায়ের জোরে অনেকেই ক্ষমতায় ছিল তারা কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।"

শুক্রবার সকালে গাইবান্ধায় এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভার আগে জেলা পরিষদ হলরুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমরা কর্মসূচি পালন করছি। এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সে কারণে আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি। গায়ের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। ৫ বছর তাদের ক্ষমতায় থাকতে হলে অবশ্যই গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।"

তিনি বলেন, "অনৈক্য কারা সৃষ্টি করেছে এটা আপনাদের খতিয়ে দেখতে হবে। ৫ আগস্টের পর থেকে কারা শুধু নিজেদের চেয়ারের কথা বলেছে, নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু দেশ পরিবর্তনের কথা ভাবেনি, দেশের সংস্কারের কথা যারা ভাবেনি, তারাই অনৈক্য তৈরি করেছে। তারা এখন দেশের ঐক্যের কথা বলছে, যখন তারা আওয়ামী লীগকে ট্যাকেল করতে পারছে না। এনসিপি ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতারিত করেছে। তাদের নিষিদ্ধ করেছে, বিচারের মুখোমুখি করেছে। সব পদক্ষেপ কিন্তু এই ছাত্র আন্দোলনের ফল। কিন্তু বিএনপি এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।"

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, "আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের একটা পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি। সেটা আমরা নির্বাচনের আগেও দেখেছি এখনো দেখছি— আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির একটা সমঝোতা আছে। আমরা বলব, এই জায়গা থেকে বিএনপির বের হয়ে আসা উচিত। জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে সুযোগ করে দেওয়া যে ভুল করেছে তার মাসুল কিন্তু বিএনপিকে দিতে হয়েছে, তারেক রহমানকে ১৬ বছর দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছে। বেগম জিয়াকে বছরের পর বছর কারাগারে থেকে নিজের জীবন নিঃশেষ করতে হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "সেখান থেকে বিএনপি যদি শিক্ষা না নেয়, তাহলে এর পরিণতি কী হবে তা বলতে পারি না।" এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ, মো. মোশারফ হোসাইনসহ অন্যান্য নেতা। পরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নবিষয়ক আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় যোগ দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%