প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি কথিত অনলাইন প্রতারণা চক্র ও আফ্রিকার মাদাগাস্কারে সক্রিয় অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানোর।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) প্রিন্স গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি ও ৪১টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে শত শত কোটি ডলারের অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব চক্র ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা করে। তাদের ফাঁদে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেককে মানব পাচারের মাধ্যমে বাধ্য করে এসব কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা চার ব্যক্তির মধ্যে একজন কিউ ইয়ং। তিনি প্রিন্স গ্রুপের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
কম্বোডিয়া, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্কের পাসপোর্টধারী কিউ ইয়ং ঋণ প্রদানকারী বিভিন্ন সেবা এবং ওয়াইন ব্যবসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স গ্রুপের অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন বলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
চীনে জন্ম নেওয়া প্রিন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেন ঝিকে গত জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া থেকে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়। এর কয়েক মাস আগে, প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রিন্স গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেন ঝিসহ প্রিন্স গ্রুপের অন্তত ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের ক্যাসিনো, ভবন ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে একটি প্রতারণা চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ার নাগরিক চুই কক ওয়াকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত সেপ্টেম্বরে প্রতারণাবিরোধী এক সম্মেলনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেছিলেন, তার দেশ কখনোই অনলাইন প্রতারণার অপরাধীদের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হতে দেবে না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপরাধী চক্রকে প্রভাবশালী মহলের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা এবং তাদের অপরাধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলেন, ‘সাইবার প্রতারণার অপরাধী চক্রগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন