বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:১৪ পি.এম
অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের অবরোধকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবলুসের কুসরা গ্রামে গত রোববার থেকে ফিলিস্তিনি কয়েকটি বাড়ি অবরোধ করে রেখেছেন ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। অবরুদ্ধ বাড়িগুলোর মধ্যে একটি বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিকের মালিকানাধীন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অবরোধের কারণে তারা খাবারসহ নানা প্রয়োজনীয় সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
এখন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হাকাবি মন্তব্য করেছেন, ওই পরিবারের বাড়ির সঙ্গে যারা এমন আচরণ করছে, তাদের কর্মকাণ্ড ‘অপরাধমূলক’। তিনি আরও বলেছেন, ‘পরিবারটিকে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে যারা এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের আচরণ অপরাধজনক এবং ঘৃণ্য। এ ধরনের গুন্ডামির কোনো অজুহাত নেই।’
এছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ইসরায়েল এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে। হাকাবির দেওয়া এই মন্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, তিনি একজন ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান ধর্মযাজক এবং অতীতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার বিরোধিতা করেছেন বলেও জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৭ কলেজের সকল সেশনের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ১২টায় ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনের অংশে তাঁরা অবস্থান নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ঢাকা কলেজের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আলা ফাহাদ বলেন, "আমরা যতবার আন্দোলন করেছি, প্রত্যেকবার ঢাকা কলেজের এই মুক্ত ময়দান থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্লোগান উঠেছে। আজও আমরা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির রানিং সেশন, একাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছিলাম।"
তিনি আরো মন্তব্য করেন, "শিক্ষার্থীরা এখানে সহাবস্থান করেছিল, সব ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আমার ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরে শিক্ষা সিন্ডিকেটের একটি দল ঢাকা কলেজের প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে যেসব শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল, তাদের সবাইকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় এবং আমাদের ঢাকা কলেজের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়, বলার জন্য যে এখান থেকে কোনো বিক্ষোভ মিছিল বের হবে না।"
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, "সরকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছে। এই আইনটি রানিং সেশনগুলোর একাডেমিক জটিলতা দূর করার জন্য ছিল এবং আমাদের যে পরিচয়হীনতা রয়েছে, তা মোকাবিলা করার জন্য। প্রথমত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল কিন্তু যৌক্তিকতার কারণে যখন আমরা টেবিল টকে জয়ী হলাম, তখন সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় কাজ হলো যাদের সমস্যার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের সমস্যাগুলি দূর করা।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জলছত্র হরিসভা মন্দিরে রাতের আঁধারে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মন্দিরের দুটি দানবাক্সের আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, রূপার নুপুর, পিতল-কাঁসার পূজার সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি পূজার কাজে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার, রূপার নুপুর, পিতল-কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রীসহ মূল্যবান জিনিসপত্রও নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, জলছত্র হরিসভা মন্দিরটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। মন্দিরের ইতিহাসে এ ধরনের চুরির ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ফলে চুরির ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরির ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দ্রুত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
চুরির ঘটনা শুনে ঘটনা স্হলে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী পুলিশ সুপার মধুপুর সার্কেল মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুত চুরির ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায়’ রয়েছে বলছেন ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোজ্জাতোলেসলাম হোসেইন তাইয়েব। এই খবরটি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যটি আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইরানের পক্ষ থেকে উচ্চারিত হলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা এটি ধরে রাখব!’ তিনি পোস্টের শেষে লেখেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এটাকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলে অভিহিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে ইরানের কিছু করার সম্ভাবনা নেই।
বাসিজ প্রধান তাইয়েব আজ জবাবে বলেন, ‘আজ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের দেশ সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তার পথ এগিয়ে নিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা ইসলামী বিপ্লবের শক্তি দেখেছে।’
হরমুজ প্রণালিতে কার্যত ইরানের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে এই জলপথ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে নিয়ে তেহরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এই আলোচনাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরান জানিয়েছে যে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে চালু হতে দেয়া হবে না।
প্রণালিটি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করতে পারলেও তারা বিভিন্ন বাধা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এর ফলে, জলপথটিতে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে। যুদ্ধের পূর্বে প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বাণিজ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি জাহাজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জুনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তা ভেঙে যায়। এরপর উভয় পক্ষ আবারও হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে কিছুটা কমে এলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরেও ধ্বংসস্তূপে চলছে জীবনের সন্ধান। সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।
বুধবার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন। একই দিন তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই সময় পেরিয়ে গেলেও জীবিতদের উদ্ধারের নজির রয়েছে।
কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছি। এর অর্থ এই নয় যে এরপর আর কোনো জীবিত মানুষকে পাওয়া যাবে না, তবে তখন তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।’
চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ৯ হাজার ৫৫০টিরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। কফি উৎপাদন অঞ্চলের কেন্দ্রস্থল পেরেইরা শহরে ৮৩ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পেরেইরায় একটি ধসে পড়া বেকারির ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন কর্মীরা। সেখানে সোমবারের ভূমিকম্পের পর আটকে পড়া রাস্তার বিক্রেতা পাবলো লোয়াইজা এখনও জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ সরঞ্জামের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্ভাব্য প্রাণের সংকেত পাওয়ার পর তাঁর স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পাবলোর ১৬ বছর বয়সী ভাতিজি সারা লোয়াইজা এএফপিকে বলেন, ‘তারা আমাদের বলছে, এটা হয়তো তিনিই। আমার হৃদয় যেন বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে।’
স্বজনেরা জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ব্যক্তিকে দুবার এবং পরে তিনবার শব্দ করার অনুরোধ করলে তিনি সাড়া দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।
কালিতে তৃতীয় রাতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সন্ধানে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। খালি হাতের পাশাপাশি ক্রেন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে শব্দ শনাক্ত করতে নিয়মিত পুরো এলাকা নীরবও করা হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী জোহানা সানচেজ বলেন, ‘প্রতি আধা ঘণ্টায় আমরা সবাইকে চুপ থাকতে বলি, যাতে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, তা শোনা যায়। এখন পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত এবং তিনজনকে মৃত অবস্থায় বের করে আনা হয়েছে।’
কালির দক্ষিণাঞ্চলের তোরেস দেল লিমোনা আবাসিক কমপ্লেক্সেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে হাতে হাতে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। সৈন্য, মেয়রের কার্যালয়ের কর্মী ও অন্যরা ধ্বংসস্তূপের স্তূপ থেকে একে অপরের হাতে মালামাল তুলে দিচ্ছেন।
বোগোতার ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কামিলো কানো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা সীমিত করার পর উদ্ধার অভিযান আরও সংগঠিত হয়েছে। এতে শব্দ ও কম্পন কমেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে নড়াচড়া শনাক্ত করতে সেন্সরগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে।
ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল, স্কুল, বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে জরুরি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়া। ভূমিকম্পের মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া দে লা এসপ্রিয়েয়া বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে বিশাল এক ট্র্যাজেডি। আমাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।’
ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরিও ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে এর আওতায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করেননি।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষও সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। পানি, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তাঁরা। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বড় পরীক্ষা দে লা এসপ্রিয়েয়া চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করেছেন। আগের বামপন্থী সরকারের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল সরকারি ব্যয় কমানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা।
তাঁর সরকার রাষ্ট্রের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই ইউনিটই এখন সামনের সারিতে রয়েছে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তিজিয়ানো ব্রেদা বলেন, ‘এই ভূমিকম্পই হবে নতুন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রথম পরীক্ষা।’
তিনি বলেন, ‘দে লা এসপ্রিয়েয়া সরকারি অর্থব্যয় কমানোর প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে লড়েছিলেন, যার মধ্যে রাষ্ট্রের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টিও ছিল। অথচ এই ইউনিটই বর্তমানে জরুরি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে রয়েছে।’
ফলে কলম্বিয়ার নতুন সরকারের জন্য ভূমিকম্পটি শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ