বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ পি.এম
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায়’ রয়েছে বলছেন ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোজ্জাতোলেসলাম হোসেইন তাইয়েব। এই খবরটি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যটি আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইরানের পক্ষ থেকে উচ্চারিত হলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা এটি ধরে রাখব!’ তিনি পোস্টের শেষে লেখেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এটাকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলে অভিহিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে ইরানের কিছু করার সম্ভাবনা নেই।
বাসিজ প্রধান তাইয়েব আজ জবাবে বলেন, ‘আজ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের দেশ সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তার পথ এগিয়ে নিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা ইসলামী বিপ্লবের শক্তি দেখেছে।’
হরমুজ প্রণালিতে কার্যত ইরানের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে এই জলপথ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে নিয়ে তেহরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এই আলোচনাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরান জানিয়েছে যে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে চালু হতে দেয়া হবে না।
প্রণালিটি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করতে পারলেও তারা বিভিন্ন বাধা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এর ফলে, জলপথটিতে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে। যুদ্ধের পূর্বে প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বাণিজ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি জাহাজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জুনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তা ভেঙে যায়। এরপর উভয় পক্ষ আবারও হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে কিছুটা কমে এলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরেও ধ্বংসস্তূপে চলছে জীবনের সন্ধান। সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।
বুধবার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন। একই দিন তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই সময় পেরিয়ে গেলেও জীবিতদের উদ্ধারের নজির রয়েছে।
কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছি। এর অর্থ এই নয় যে এরপর আর কোনো জীবিত মানুষকে পাওয়া যাবে না, তবে তখন তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।’
চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ৯ হাজার ৫৫০টিরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। কফি উৎপাদন অঞ্চলের কেন্দ্রস্থল পেরেইরা শহরে ৮৩ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পেরেইরায় একটি ধসে পড়া বেকারির ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন কর্মীরা। সেখানে সোমবারের ভূমিকম্পের পর আটকে পড়া রাস্তার বিক্রেতা পাবলো লোয়াইজা এখনও জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ সরঞ্জামের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্ভাব্য প্রাণের সংকেত পাওয়ার পর তাঁর স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পাবলোর ১৬ বছর বয়সী ভাতিজি সারা লোয়াইজা এএফপিকে বলেন, ‘তারা আমাদের বলছে, এটা হয়তো তিনিই। আমার হৃদয় যেন বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে।’
স্বজনেরা জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ব্যক্তিকে দুবার এবং পরে তিনবার শব্দ করার অনুরোধ করলে তিনি সাড়া দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।
কালিতে তৃতীয় রাতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের সন্ধানে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। খালি হাতের পাশাপাশি ক্রেন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে শব্দ শনাক্ত করতে নিয়মিত পুরো এলাকা নীরবও করা হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী জোহানা সানচেজ বলেন, ‘প্রতি আধা ঘণ্টায় আমরা সবাইকে চুপ থাকতে বলি, যাতে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, তা শোনা যায়। এখন পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত এবং তিনজনকে মৃত অবস্থায় বের করে আনা হয়েছে।’
কালির দক্ষিণাঞ্চলের তোরেস দেল লিমোনা আবাসিক কমপ্লেক্সেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে হাতে হাতে মালামাল পৌঁছে দেওয়ার মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। সৈন্য, মেয়রের কার্যালয়ের কর্মী ও অন্যরা ধ্বংসস্তূপের স্তূপ থেকে একে অপরের হাতে মালামাল তুলে দিচ্ছেন।
বোগোতার ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কামিলো কানো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা সীমিত করার পর উদ্ধার অভিযান আরও সংগঠিত হয়েছে। এতে শব্দ ও কম্পন কমেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে নড়াচড়া শনাক্ত করতে সেন্সরগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে।
ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল, স্কুল, বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে জরুরি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়া। ভূমিকম্পের মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া দে লা এসপ্রিয়েয়া বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে বিশাল এক ট্র্যাজেডি। আমাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।’
ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরিও ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে এর আওতায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করেননি।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষও সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। পানি, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন তাঁরা। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বড় পরীক্ষা দে লা এসপ্রিয়েয়া চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করেছেন। আগের বামপন্থী সরকারের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল সরকারি ব্যয় কমানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা।
তাঁর সরকার রাষ্ট্রের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই ইউনিটই এখন সামনের সারিতে রয়েছে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তিজিয়ানো ব্রেদা বলেন, ‘এই ভূমিকম্পই হবে নতুন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রথম পরীক্ষা।’
তিনি বলেন, ‘দে লা এসপ্রিয়েয়া সরকারি অর্থব্যয় কমানোর প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে লড়েছিলেন, যার মধ্যে রাষ্ট্রের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টিও ছিল। অথচ এই ইউনিটই বর্তমানে জরুরি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে রয়েছে।’
ফলে কলম্বিয়ার নতুন সরকারের জন্য ভূমিকম্পটি শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া খুটাখালীতে যাত্রীবাহী জিটুগাড়ী (লেগুনা) এবং লাল সবুজ চেয়ার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় বাসের চাপায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন খুটাখালি নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সামশুজ্জামান দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, চকরিয়ার খুটাখালী সেগুনবাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ফুলছড়ি শিয়াপাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭), ইদগাঁও উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮) এবং আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নোয়াখালী সদর থেকে ছেড়ে আসা লাল সবুজ পরিবহনের একটি বাস কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিলো। অপরদিকে, ইদগাঁও থেকে যাত্রী নিয়ে একটি লেগুনা চকরিয়ার দিকে রওনা দেয়। পথে খুটাখালী নয়াপাড়ায় পৌঁছানোর পর বাসটি লেগুনাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এ ঘটনার ফলে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসারত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শাহেদ, রফিক ও জিয়াবুলের মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে, মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জসিম উদ্দিন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওসমান গনি জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ে এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর দাঁত ভেঙে ফেলা, মাথার চুল কেটে নেয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের বিষয়ে।
এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায়। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কূলে দায়ের করা মামলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে একই এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) এবং সুজন ইসলাম (১৯)। এ ছাড়া আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন এবং বিয়ে মেনে নিতে না পেরে আসামিরা সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করে তার একটি দাঁত ভেঙে দেয়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা ঘরে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর করে। তারা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম লুট করে নিয়ে যায়। তার সাথে তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী এবং তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দারগালী সময় সংবাদকে জানান, 'হঠাৎ করেই তারা আমাদের ঘরে প্রবেশ করে হামলা ও মারধরসহ এ ঘটনাটি ঘটায়। আমরা এ ঘটনায় আসামিদের কঠোর বিচার দাবি করছি।'
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় মামলার বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই, দেশবরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় গতকাল বুধবার একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার বাদ আছর, মরহুমের পরিবার কর্তৃক আয়োজিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বিএনপি’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাড. একে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চান, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ মো. শাজাহান আলী, জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি’র সম্পাদক শহিদ উন নবী সালাম, কে এম খায়রুল বাশার, বিএনপি মিডিয়া সেলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কালাম আজাদ, মরহুমের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, ওয়াহিদ মুরাদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ, সাইদুজ্জামান শাকিল, সৈয়দ আব্দুল গফুর দারা, আল আমিন সরকার, উজ্জল হোসেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ