শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৪ পি.এম
১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবির সমর্থনে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে লংমার্চের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি যদি আজকের আট দফা দাবি মেনে না নেয়, তাহলে এই আন্দোলন এক দফায় পরিণত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে।"
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাই মাসে দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয় করণ করেছে। তিনি সতর্ক করেন যে, "ফ্যাসিবাদের পথেই হাটছে। যা চলতে দেয়া যায় না। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আপনাদের বাধ্য করা হবে।"
গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোল চত্ত্বর এলাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে লংমার্চের জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহিনুর আলম-এর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এনসিপির আহবায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিরোধী দলের হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবারপার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সচিব সারজিস আলম সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পথসভা করতে করতে দুপুর দুইটায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলের জনসভায় পৌঁছান। মঞ্চে উঠেই তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বলেন, "কাঠফাটা রোদের মধ্যে আপনাদের দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমাণ করে আট দফা দাবি আদায়ে আপনারা প্রস্তুত আছেন। এটা দেখে আমাদের আস্থা বেড়ে গেলো। আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন। দেখা হবে রাজপথে ইনশাআল্লাহ।" গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জামায়াত নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে।" বিএনপি সেই দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ করেন অলি আহমেদ বীর বিক্রম।
এনসিপি আহবায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছিলাম। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কর্মসংস্থান করার কথা বলেিছলেন, কিন্তু সেটা কি হয়েছে? হয় নাই। বিদ্যূত সংকট, গ্যাস সংকট, সার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানোর পায়তারা করছেন। আমরা বারবার জুলাইয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বলেছি। কিন্তু বিএনপি নানা অজুহাতে তা করছে না। সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পরও যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হয়, তাহলে রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার বিকল্প থাকে না। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোটসহ আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা ঢাকা-রংপুর লংমার্চ পালন করছি। আমরা শান্তিপূর্ণ লংমার্চ পালন করছি। লংমার্চে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
লংমার্চের দিন সকাল সাড়ে আটটা থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মিছিল সহকারে মহাসড়কে এসে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে জনসভায় কানায় কানায় পূর্ণতা পায়। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে পাঁকা মহাসড়কের ওপর লাখো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার জন্য। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন এলাকায় রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আশিক মিয়া (৩০) নামে এক যুবক আটক হয়েছেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে রেললাইনের জয়েন্টের ১৪টি নাট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন এলাকার রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে নাট খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আশিক মিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ১৪টি নাট উদ্ধার করা হয়।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, রেললাইনের জয়েন্টে ব্যবহৃত নাট-বল্টু লাইনের সংযোগ ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা বা চুরি হলে রেলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর একটি। এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেললাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার ঘটনা রোধে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শন বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নাটগুলো রেললাইনের কোন অংশ থেকে খোলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আশিক মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাটের এক কোণে পুরনো কাপড়ের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে ঝলমলে আলোকসজ্জা কিংবা নতুন পোশাকের বাহারি প্রদর্শনী নেই। তবুও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। কেউ মাঠে কাজ করার জন্য একটি শার্ট খুঁজছেন, আবার কেউ গ্যারেজে ব্যবহারের জন্য একটি প্যান্ট খুঁজছেন।
কাপড়গুলো নতুন নয়, বরং ব্যবহৃত। তবে শ্রমজীবী মানুষের কাছে এগুলোই কাজের সময় ব্যবহারের জন্য উপযোগী পোশাক হিসেবে বিবেচিত।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর হাটে প্রতি বুধবার ও রবিবার এই দৃশ্য চোখে পড়ে। পুরনো কাপড়ের দোকানগুলো ঘিরে কৃষক, শ্রমিক ও ওয়ার্কশপ কর্মীদের ভিড় জমে। স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় কাজের পোশাক কেনার সুযোগ থাকায় এসব কাপড়ের চাহিদাও যথেষ্ট।
সম্প্রতি বীরগঞ্জ পৌরহাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পুরনো শার্ট, টি-শার্ট, ফুলপ্যান্টসহ বিভিন্ন পোশাক সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা ধৈর্য সহকারে কাপড় ঘেঁটে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক বেছে নিচ্ছেন। কেউ দামদর করছেন, আবার কেউ পছন্দের কাপড় পেয়ে হাসিমুখে ফিরে যাচ্ছেন।
হাটে কাপড় কিনতে আসা কৃষিশ্রমিক হরেনের হাতে একটি পুরনো শার্ট রয়েছে। তিনি মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে এটি কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে কাজ করি। ধানকাটা, ঘাস পরিষ্কার- জমিতে কাজ করতে গিয়ে কাপড় তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়। নতুন কাপড় পরে কাজ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই আর আগের মতো থাকে না। তাই কাজের জন্য পুরনো কাপড় কিনি।’
একই কথা বলেন স্থানীয় একটি গ্যারেজের কর্মী দীপু। তিনি জানান, ‘ভেপু গ্যারেজে সারাদিন তেল, গ্রিজ আর কালির মধ্যে কাজ করতে হয়। পোশাকে কালি ধরে নোংরা হয়, নতুন কাপড় পরে কাজ করা যায় না। তাই কাজের জন্য কম দামের পুরনো কাপড়ে সুবিধা হয়।’
পুরনো কাপড় বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি সৈয়দপুর থেকে মানভেদে প্রতিপিস শার্ট ১৫ থেকে ২৫ টাকা এবং প্যান্ট প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় সংগ্রহ করেন। এরপর বীরগঞ্জসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে তিনি তা বিক্রি করেন। তার দোকানে শার্ট ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং ফুলপ্যান্ট ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
রবিউল বলেন, আমার বেশিরভাগ ক্রেতাই শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই শুধুমাত্র কাজের জন্য আলাদা কাপড় কিনে থাকেন। নতুন কাপড় নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না বলে পুরনো কাপড়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। এছাড়া একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষও- যাদের নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই- এখান থেকে কম দামে কাপড় কিনে থাকেন।
স্থানীয়দের মতে, বীরগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বহু বছর ধরে পুরনো নিলামি কাপড়ের ব্যবসা চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবসা শুধু টিকে থাকেনি, বরং শ্রমজীবী মানুষের চাহিদার কারণে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কম দামে পুরনো কাপড় কিনে পোশাকের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। কেউ কর্মক্ষেত্রে আবার কেউ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এসব পোশাক বেছে নিচ্ছেন। ফলে পুরনো কাপড়ের বাজার সীমিত আয়ের মানুষের জন্য একটি ব্যবহারিক ও সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনিতে নির্মাণাধীন পাঁচ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু ঘটেছে দেলোয়ার হোসেন (৫৮) নামের এক ঠিকাদারের।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে আশরাফিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মৃত দেলোয়ার হোসেন বিষ্ণুদী রোডের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে ভবনের কাজে ছিলেন এবং অসাবধানতাবশত পাঁচ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. নাজমুল তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বর্তমানে তার মরদেহ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল খাত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং যাত্রীদের নানা ধরনের অসদাচরণের প্রেক্ষাপটে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন হিসেবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস নির্বাচিত হয়েছে। স্কাইট্র্যাক্সের ‘ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা বিমান চলাচল খাতের ‘অস্কার’ হিসেবে পরিচিত।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ২৫ বছরের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনের পুরস্কার অর্জন করল। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ২০২৩, ২০১৮ এবং ২০০০ সালের দশকেও এই সম্মাননা পেয়েছিল। গত বছরের বিজয়ী কাতার এয়ারওয়েজ এবার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা গত ১৫ বছরে নয়বার এই পুরস্কার জিতেছে।
শীর্ষ ছয়ের মধ্যে কাতারের পর রয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক, জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স এবং এমিরেটস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইন এবার শীর্ষ ২০-এ স্থান পায়নি, একমাত্র এয়ার কানাডা তালিকায় ছিল।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানায়, স্কাইট্র্যাক্সের বৈশ্বিক গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপের ভিত্তিতে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সেরা ইকোনমি ক্লাস এবং ইকোনমি ক্লাস ক্যাটারিংয়ের পুরস্কারও অর্জন করেছে। কাতার এয়ারওয়েজ সেরা বিজনেস ক্লাস, ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই এবং বিজনেস ক্লাস লাউঞ্জের পুরস্কার পেয়েছে। ক্যাথে প্যাসিফিক সেরা কেবিন ক্রু এবং ফার্স্ট ক্লাস লাউঞ্জের পুরস্কার জিতেছে।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোহ চুন ফং এক বিবৃতিতে বলেন, "এই পুরস্কার তাদের কর্মীদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি।"
অন্যান্য বিভাগে এয়ার ফ্রান্স সেরা ফার্স্ট ক্লাস, ইভিএ এয়ার সেরা প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং এয়ারএশিয়া সেরা বাজেট এয়ারলাইনের পুরস্কার পেয়েছে। এশিয়ায় সেরা এয়ারলাইন হিসেবে ব্যাংকক এয়ারওয়েজ নির্বাচিত হয়েছে, আফ্রিকায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, দক্ষিণ আমেরিকায় লাতাম এবং ইউরোপে তুর্কিশ এয়ারলাইন্স সেরা হয়েছে।
পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিমান চলাচল খাতের চলমান সংকটও আলোচনায় উঠে আসে। ইরান সংঘাত, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহে বিলম্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এয়ারলাইন কর্মকর্তারা।
স্কাইট্র্যাক্সের প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড প্লেইস্টেড বলেন, "প্রতিকূল সময়েও যাত্রীসেবার মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে।" এয়ার কানাডার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক নাসর মন্তব্য করেন, "জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে যেসব এয়ারলাইন প্রিমিয়াম সেবার জন্য বেশি মূল্য নিতে পারবে, তারাই নিজেদের কার্যক্রম টেকসই রাখতে পারবে।"
২০২৬ সালের শীর্ষ ২০ এয়ারলাইন
১. সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস
২. কাতার এয়ারওয়েজ
৩. ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ
৪. অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ
৫. তুর্কিশ এয়ারলাইনস
৬. এমিরেটস
৭. এয়ার ফ্রান্স
৮. হাইনান এয়ারলাইনস
৯. জাপান এয়ারলাইনস
১০. কোরিয়ান এয়ার
১১. ইভিএ এয়ার
১২. কান্টাস এয়ারওয়েজ
১৩. স্টারলাক্স এয়ারলাইনস
১৪. লুফথানসা
১৫. সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস
১৬. আইবেরিয়া
১৭. এয়ার কানাডা
১৮. ভার্জিন আটলান্টিক
১৯. সুইস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস
২০. থাই এয়ারওয়েজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ