০৭:৪৭ এম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি।
বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রতি অর্থনীতির সংবেদনশীলতার কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর এর প্রভাব পড়েছে।
গতকাল, বৃহস্পতিবার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬ প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এলএনজি আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার ফলে এসব দেশ সরাসরি সংকটে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চমূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমেছে। আইইএ এর পর্যবেক্ষণের দ্বারা জানা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। এর ফলে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর দেশের বিদ্যুতের চাহিদা চাপের মধ্যে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শিল্প উৎপাদনের সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা এবং ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার হচ্ছে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ৩.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৮ শতাংশ বাড়বে। ২০২৫ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে
এ কারণে, ২০২৭ সালে বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে ৩০ হাজার ৭০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২৮ হাজার ৬০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার পর এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে এবং কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা কমিয়েছে, তবে গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আইইএ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন