০৩:১৬ এম
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার এলাকায় আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাকার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সোনার দুল হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) বগুড়ার আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে বন্যা বেগম তাঁর স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। পরে বিচারক তার জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
আরো জানানো হয়েছে যে, আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বলছে, নিহত শিশু রাকার পরিবার এবং বন্যা বেগমের পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। তার পরেও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত এবং তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সঙ্গে খেলাধুলা করত।
আরও পড়ুন: কালকিনিতে গৃহবধূকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ
একদিন ফাতেমা খেলাধুলার সময় রাকাকে মারধর করে। রাকা দাদির কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে তার দাদি ফাতেমাকে মারধর করেন। কিন্তু ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাই তারা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু রাকাকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বন্যা বেগম ও তার পরিবারের দ্বারা।
আসামি বন্যা বেগম বলেন, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ায় তার বাড়িতে ব্রয়লার মুরগির একটি ছোট সেড রয়েছে। রাকা যখন সেখানে মুরগি দেখছিল, তখন পেছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে তার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরো দাবি করেন, যে, তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে রাকার লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়।
ওসি জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছেন। নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ার অটোরিকশার গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে। তিনি উল্লেখ করেন, রাকাকে হত্যা করার সময় তার সোনার দুটি কানের দুলও খুলে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক ডিলার গ্রেফতার: ২ বোতল ভারতীয় সিরাপ দিয়ে আদালতে সোপর্দ করলো দামকুড়া থানা পুলিশ
এই বিষয়ে জোড়ালো তদন্ত চলছে। এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদি হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এখন ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম, বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন