০২:৪৯ এম
মহাসড়ক ধসে পড়ার কারণে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে ডালু-তুরা মহাসড়ক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় এক মাস ধরে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং বন্দরে কর্মরত শত শত লোড-আনলোড শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে, বন্দরের রাজস্ব আয়ও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং তা শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দর এবং আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালু-তুরা জাতীয় মহাসড়ক (ঘঐ-২১৭) বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কগুলো আরও ভেঙে গেছে। এর ফলে, শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিধ্বস্ত এই সড়কে একাধিক ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের ডালু ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাক পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন বন্ধ রাখতে। এছাড়া, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো হিলস এবং দক্ষিণ গারো হিলস জেলার ডালু-মহেন্দ্রগঞ্জ-গারোবাঁধা-তুরা এবং ডালু-তুরা সড়কের ওপরেও অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ধসের কারণে একাধিক স্থানে সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে, গত ১০ জুলাই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালু অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একটি জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সড়ক সংস্কার করে ভারি গাড়ি চলাচলের উপযোগী না করা পর্যন্ত জানমালের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি বর্ডারের দিকে পাঠানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওপার থেকে পাথর এবং কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে বন্দরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিরোধীদল সরকারের কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিডিয়ার সামনে আবোল তাবোল বলছে এমপি খোকন তালুকদার
এদিকে, ভারতের অংশে সড়ক ধসে পণ্য পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে লোড-আনলোড শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় অংশের সড়ক মেরামতের জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সংস্থা (ঘঐওউঈখ) কাজ শুরু করলেও অতিবৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ওপারের সড়ক মেরামত করা না হলে, এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বড় ধরনের লোকসান গুণতে হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।
নাকগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বকুল ভারতের ডালু বন্দরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ধরেন সাংমার বরাত দিয়ে বলেন, নতুন করে যদি কোনো পাহাড়ি ঢল বা বৃষ্টি না হয় এবং রোদ থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি আশা করছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলছেন, প্রায় এক মাস ধরে ভারতের অংশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ অবস্থায় থাকায় পাথর কিংবা কয়লা কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। তার ওপর অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প সড়কে ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। প্রায় এক মাস ধরে বন্দরে কোনো পণ্য আমদানি না হওয়ার কারণে রাজস্ব তহবিল প্রায় শূন্যের কোঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে ইউনাইটেড ট্রাস্ট, মাসে মিলবে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন