ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একের পর এক কারখানা বন্ধে হাজারো শ্রমিক বেকার, বাড়ছে অনিশ্চয়তা


একের পর এক কারখানা বন্ধে হাজারো শ্রমিক বেকার, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট এখনো দূর হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও খাতটিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বরং একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কয়েকটি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আর্থিক সংকট, ক্রয়াদেশের সংখ্যা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের ঋণ, জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং নীতি সহায়তার অভাবের কারণে অনেক কারখানা টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে।

আরও পড়ুন: সততার কারণে এক বছরে দুই বার বদলি

খাত-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী মাসগুলোতে আরো কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঈদের পরবর্তী সময়ে পোশাক শিল্পাঞ্চলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এল। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকরা ঈদের ছুটি শেষে যখন কাজে যোগ দিলেন, তখন তারা জানতে পারেন তাদের চাকরি আর নেই।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের যথাযথ পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেকেই বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, কিন্তু হঠাৎ চাকরি হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

অন্যদিকে, গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক এবং কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন।

আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির

দুই প্রতিষ্ঠানের ঘটনাগুলি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পোশাক খাতের সংকট কি আরো গভীর হচ্ছে? শ্রমিকদের জীবনে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে।

কারখানা বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের ফলে শ্রমিকদের জীবনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ছে। মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবার একসাথে জীবিকার সংকটে পড়েছে।

গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্সে কর্মরত বিল্লাল সোহাগের মতো অনেক শ্রমিক জানেন না—আগামী মাসে তাঁদের সংসার কীভাবে চলবে। সন্তানদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

সাভারে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, অভিজ্ঞ শ্রমিকদের তুলনা অপেক্ষা বেশি মজুরি দিতে হয় বলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর কৌশল হিসেবে পুরনো শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগের পদ্ধতি অবলম্বন করছে।

আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণের দিকে খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধির কমতি ঘটেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ভোক্তা চাহিদার সংকোচনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর।

দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে, পরিবহণ খরচ, ডলারের সংকট এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃতীয়ত, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ফলে শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে। যদিও শ্রমিকদের জন্য এটি ইতিবাচক, তবে উৎপাদনশীলতা না बढ़লে অনেক দুর্বল কারখানা অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলাতে পারছে না।

চতুর্থত, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করছে বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১২ ঘণ্টায় সচল হলো বসিলার স্ট্রিটলাইট

মহামারির সময় মহামারির পর তিন বছরে ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছিলেন, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক কারখানা বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর ফলে স্থায়ী ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। উৎপাদন কমলেও ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় নিয়মিত দিতে হচ্ছে। ফলে ছোট ও মাঝারি অনেক কারখানা টিকে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, আর্থিক সংকটই বর্তমানে কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার যে সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে, তা এখনও বাস্তবায়নে আসেনি। ফলে সংকটে থাকা কারখানাগুলো কোন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে না।’

ত(এত) ধরনের প্রতিষ্ঠান যারা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে হবে। অন্যথায় কর্মসংস্থান সংকটে আরো প্রকট হতে পারে।

আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাস হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে গেছেন

শ্রমিক নেতাদের ক্ষোভও রয়েছে। কারখানা বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের ঘটনাগুলোর মধ্যে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিদ্যমান। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে শ্রম আইনের আওতায় শ্রমিকদের সব সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চাকরি-পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক মন্দাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর জন্য শ্রমিক ছাঁটাই করছে। ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন এবং জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

বিষ্লেষকদের মতে, দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু শ্রমিক নয়, সামগ্রিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এই জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা, ব্যাংক ঋণে বিশেষ সুবিধা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে মন্তব্য করা যুবক আবু বকর সিদ্দিক কারাগারে

অন্যথায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি হবে। যারা বছরের পর বছর ধরে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে কাজ করেছেন, তারা আজ চাকরি হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেইমারকে বাবার বার্তা: এমনভাবে দৌড়াও, যেন আজই জীবনের শেষ দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


নেইমারকে বাবার বার্তা: এমনভাবে দৌড়াও, যেন আজই জীবনের শেষ দিন

আজ স্কটল্যান্ড-এর বিপক্ষে মাঠে দেখা যাবে নেইমারকে। ছবি: রয়টার্স।

ব্রাজিল সুখবরটা অনেক আগেই পেয়েছে। এবার নেইমার জুনিয়রকে মাঠে নামার পালা।

অপেক্ষার অবসান হচ্ছে, এমন সংবাদে ভক্ত-সমর্থকরা ভীষণ খুশি।

অন্যরা নেইমারকে এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় থাকলেও, ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার সিনিয়রের বাবা চান তার ছেলে বিশেষ কিছু করুক। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্ট দিয়েছেন নেইমার সিনিয়র। তিনি জানিয়েছেন, ‘তাহলে দৌড়াও, এবার দৌড়াও। আর এমনভাবে দৌড়াও যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন।’

ভিডিও বার্তায় আসলে নেইমার সিনিয়রের কথা ফুটে উঠেছে নেইমারের ক্যারিয়ারকে ঘিরে। ছেলের বিভিন্ন সময়ের ছবির সঙ্গে জীবন সংগ্রামে ঘুঁজে দাঁড়ানোর একটি গান ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজানো হয়েছে। সেই ভিডিওতে নেইমার সিনিয়র বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত আসতে আমাদের সাহায্য করেছেন সৃষ্টিকর্তা। সময় এবার এসেছে। আমরা একসঙ্গে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করব। শুভকামনা ছেলে! শুভকামনা ব্রাজিল। ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করুন এবং রক্ষা করুন।’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারকে পাওয়া যাচ্ছে, সেটি নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০০ এম


দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণ নিয়ে বিরোধের কারণে বাবু রাঢ়ী (২৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।

এর আগে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে, ওই বিরোধের প্রেক্ষিতে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ মোট ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল বাবু রাঢ়ীর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বাবু রাঢ়ী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে তার নিষ্ঠার কোনো পদ বা পদবী ছিল না। বাবু রাঢ়ীর পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার নিজের জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এতদিন ধরে প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধ চলছিল।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে, বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল বাবু রাঢ়ীর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। হামলায় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে, ফলে বাবুর মাথা ফাটে এবং হাত-পা ভেঙে যায়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী এক নারীর মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহত বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী ঘটনাস্থল থেকে তাকে গুরুতর আহত এবং অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

এরপর প্রথমে বাবুকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার অবস্থার অবনতি দেখে রাত ১০টার দিকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় রাত ১২টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্বজনদের মতে, ঢামেকে পৌঁছানোর পর ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসা শুরুর আগে তার মৃত্যু ঘটে। বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী আবারও বলেন, “আমার ছেলেকে ৮-৯ জন মিলে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে।”

বাবু পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন এবং তিনি এইচএসসি পাস করেছিলেন। বাবুর চাচা খোরশেদ রাঢ়ী বলেন, “নিজের জমিতে দোকানঘর তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এক মাস আগে বাবুকে মারধর করা হয়েছিল। এবার তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বাবু রাঢ়ীকে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নীরব ব্যাপারী বলেন, “বাবু আমাদের সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। আমরা জানতে চাই, তাকে কারা এবং কীভাবে হত্যা করেছে। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। আমরা জেনেছি, জমি নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্বের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।”

হত্যাকাণ্ডের কারণে সাদেকপুরসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীদের মতে, বাবু রাঢ়ী ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে সদ্ভাবে চলতেন। সামান্য বিরোধের জেরে একজন তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা একটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। তারা দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপেক্সের সেরা কেবিন পরিষেবা পুরস্কার জিতল সৌদিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


এপেক্সের সেরা কেবিন পরিষেবা পুরস্কার জিতল সৌদিয়া

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘এপেক্স পুরস্কার ২০২६’ অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া’ মধ্যপ্রাচ্যে শ্রেষ্ঠ কেবিন সেবা পুরস্কার অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ভবিষ্যৎ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা (FTE) EMEA’-এর অংশ হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা বিমান চলাচল শিল্পে উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ যাত্রী অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করে।

এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সৌদিয়ার দেশে বাজারে বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও যাত্রীদের সৌদি আতিথেয়তা প্রদানের অঙ্গীকারকে আরো শক্তিশালী করেছে।

বাংলাদেশকে সৌদিয়ার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বাজার উল্লেখ করে বিমান সংস্থাটির প্রধান অতিথি অভিজ্ঞতা কর্মকর্তা রোসেন দিমিত্রভ বলেছেন, ‘এই পুরস্কারটি আমাদের কেবিন ক্রুদের পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা এবং সূক্ষ্ম মনোযোগেরই ফল। বৈশ্বিক নেটওয়ার্কজুড়ে সৌদি আতিথেয়তাকে তুলে ধরতে আমরা যাত্রী অভিজ্ঞতায় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি।’

এই অর্জন সৌদিয়ার বৃহত্তর যাত্রীসেবা রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় তারা ‘নিউ সৌদিয়া এক্সপেরিয়েন্স’ এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ‘সৌদিয়া বিয়ন্ড’ নামের সেবা উৎকর্ষতা কর্মসূচি চালু করেছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে সৌদিয়া মূলত ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ এবং দেশটির বিমান ও পর্যটন খাতের লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখছে।

১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদিয়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এয়ারলাইন। বর্তমানে তাদের বহরে ১৪৯টি আধুনিক বিমান রয়েছে, যা দিয়ে সংস্থাটি চারটি মহাদেশের প্রায় ১০০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ড-কানাডার জমজমাট লড়াই, প্রথমার্ধ শেষ গোলশূন্য সমতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০২ এম


সুইজারল্যান্ড-কানাডার জমজমাট লড়াই, প্রথমার্ধ শেষ গোলশূন্য সমতায়

বিশ্বকাপের ‘বি’-গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচের মধ্যে সুইজারল্যান্ড ও স্বাগতিক কানাডার মধ্যে জমে উঠেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য।

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে তারা এগিয়ে ছিল সুইসরা। তবে, কানাডার শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেঙে গোল আদায় করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, স্বাগতিক কানাডাও বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও তাদের চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি এবং গোলের দেখা পায়নি।

এদিকে, ম্যাচের ৩১ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের জাকা দ্রুত ফ্রি কিক নেওয়ার সময় কানাডার লারিন কাছ থেকে বলটি সরিয়ে দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

এই গ্রুপ থেকে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা প্রায় নিশ্চিতভাবেই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ড্র করলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে পারবে কানাডা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%