ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬০, মামলা ৪৯


ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬০, মামলা ৪৯

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানের ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ সোমবার ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৯, লালবাগ বিভাগে ৩৩, ওয়ারী বিভাগে ৫৭, মতিঝিল বিভাগে ৫৬, তেজগাঁও বিভাগে ৬২, মিরপুর বিভাগে ১২৬, গুলশান বিভাগে ৩৪, উত্তরা বিভাগে ৪৭ এবং গোয়েন্দা বিভাগের ৬ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৪ পিস ইয়াবা, ১২০ গ্রাম গাঁজা, ১০০ বোতল এস্কাফ সিরাফ এবং নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেফতার বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ।

তবে তাঁকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে, সে সম্পর্কিত চারটি বিষয়ে দুবাই পুলিশ ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশ সরকারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চিঠি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এটি ইতিবাচক অগ্রগতি। বর্তমানে তারা (দুবাই পুলিশ) মূলত প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছে।

দুবাই পুলিশের ওই চিঠি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র। সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় ওই চিঠির জবাব তৈরির কাজ করছে দুদক।

বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত ও প্রত্যর্পণের নথিপত্রের বিষয়টি সমন্বয় করছেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। জানতে চাইলে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, 'দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত জবাব পাঠানো যাবে এবং তাঁকে (বেনজীর) দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।'

বেনজীর আহমেদের দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি গত ১৪ জুন প্রথম জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয় যে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীরের প্রত্যর্পণ চায়। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার তথ্য এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ। বর্তমানে বেনজীর দুবাইয়ের কারাগারে আটক আছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ এবং ইউএইর মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি কী, পরোয়ানার কার্যকারিতা কতটুকু এবং পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন কাজ করছে—এগুলোও জানতে চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা ও নথিপত্র প্রস্তুত করে খুব দ্রুত জবাব পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, দুবাই পুলিশের চিঠির ভাষা থেকে স্পষ্ট, তারা বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এবং পরে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। পরে আদালতের আদেশে তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে জানা যায় যে, ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান।

পরবর্তী সময়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

দেশ ছাড়ার পর থেকে বেনজীর আহমেদের অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছেও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল না।

বেনজীরকে গ্রেফতারের বিষয়ে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানাচ্ছে যে, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পেছনে তাঁর কয়েকজন সাবেক সহযোগীর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের কারণে তাঁরা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন। একটি শপিং মল থেকে বেনজীরকে আটক করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও দুবাই পুলিশের বিবেচনায় ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি কাঠগড়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


পটুয়াখালীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি কাঠগড়ায়

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়িটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্প নয়; বরং এক রাতের ব্যবধানে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার একটি বহুতল ভবনে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ভেকু (স্কেভেটর) দিয়ে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে এবং শেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশ রয়েছে। যদিও এমপি ও তাঁর ভাই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লাভলু কাজী আত্মগোপনে রয়েছেন। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী বসবাস করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৭ জুলাই রাতে লাভলু কাজীর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়। পরে বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকার সুযোগে একদল দুর্বৃত্ত গভীর রাতে ভেকু নিয়ে এসে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়। পরে ঘরের মূল্যবান মালামাল লুটপাট করা হয় এবং শেষে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

লাভলু কাজীর স্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, "আমাদের বাড়িটি পরিকল্পিতভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশেই তাঁর ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।"

মাধবখালী এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, কিন্তু কেউই গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

এদিকে, এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী এই ঘটনার সাথে নিজেদের জড়িত থাকার দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। শাহীন দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত সরকারি সম্পত্তি এবং লাভলু কাজী ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ওই জমি দখল করে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।

ঘটনার পর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় বিভিন্ন প্রজাতি ও সামুদ্রিক ইলিশ জব্দ: পরিবহনের অনুমতি নিয়ে উত্থিত প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউসুফ হোসেন নীরব

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


ভোলায় বিভিন্ন প্রজাতি ও সামুদ্রিক ইলিশ জব্দ: পরিবহনের অনুমতি নিয়ে উত্থিত প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট

ভোলায় সামুদ্রিক ইলিশ ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মাছ পরিবহনের বৈধতা, অনুমতি পত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ভোলার চরফ্যাশন সামরাজ থেকে তিনটি ট্রাকে সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া সহ অন্যান্য মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। মাছগুলোর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তিনটি আলাদা ট্রাকে থাকা সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া ও অন্যান্য মাছ যাচাই-বাছাইয়ের পর একটি ট্রাক মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দুইটি ট্রাক থেকে ১৫৫ ও ১৬০টি কক্সসেট ভর্তি সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ১ হাজারের বেশি অসহায় মানুষের মাঝে। সেই একই সময়ে, পুরো ঘটনায় মাছ পরিবহনের বৈধতা, অনুমতিপত্র ও আইনপ্রয়োগের বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ১২ মে রাত ১০ টার দিকে চরফ্যাশন সামরাজ এলাকা থেকে তিনটি ট্রাকে মোট ১৫৫টি ও ১৬০টি কক্সসেট ভর্তি মাছ আটক হয়েছে। পরদিন ১৩ মে কোস্ট গার্ড ও ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছ বিতরণ হয় বিভিন্ন এতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং ও অসহায় মানুষের মাঝে। কিন্তু বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ হওয়া মাছ নিয়ে পরে অনিয়ম, লুট এবং লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠে। যা নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। জব্দকৃত মাছের মালিকরা দাবি করছেন যে, মাছ পরিবহনের জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছিল। তবে মাছ বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে ২২ জুন হাইকোর্টে অন্য পক্ষ রিট আবেদন করে। অথচ অপর পক্ষের দাবি, অনুমতিপত্র থাকা সত্ত্বেও মাছ জব্দ করা হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময় কোটিপতি মাছ পরিবহনের জন্য সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনুমতিপত্র দিতে পারেন কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সমস্যার সূত্রপাত হয়। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা যেকোনো উৎস যাচাইয়ের ব্যাপারে অসুবিধার কথা জানান। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু মাছের উৎস শনাক্ত করতে কিছু সমস্যা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মন্তব্য করেন কঠিন পরিস্থিতি সৎ কর্মকর্তাদের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ১৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই জুন পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাক তল্লাশি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ, শ্রম খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ, শ্রম খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান তার দায়িত্ব গ্রহণ করায়। তিনি বলেন, "জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।" আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ দীর্ঘ বছরের পার্টনারশিপকে আরও জোরদার করতে আগ্রহী রয়েছে এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি তুলে ধরেন, "শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।"

এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। তিনি উল্লেখ করেন, "এই অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।" এছাড়া, বর্তমান সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেন, "শ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।"

শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়গুলি উভয় পক্ষ আলোচনা করেন।

এছাড়া, দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। সর্বশেষে, শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ (Max Tuñón) এবং আইএলও সদর দপ্তর, জেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%