০২:৩০ পি.এম
উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি ঘোষণা করেছে। দেশটির শাসক পরিবারের সদস্য ও নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো জোরদার করবে।
এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং উল্লেখ করেন যে, দেশের আত্মরক্ষার জন্য যে পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলা হয়েছে, তা কোনো অবস্থাতেই দুর্বল করা হবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরো শক্তিশালী করার নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি ওয়াশিংটনের পরমাণুকেন্দ্রিক অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং বলেন, যেটি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং পুরনো চিন্তার প্রতিফলন।
এই মন্তব্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের প্রাক্কালে আসছে, যা প্রায় সাত বছর পরে হতে যাচ্ছে। এ সময় কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একমত হয়েছেন তা সত্য নয়। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আলোচনার প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাইরের কেউ কিছু জানে না।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে কিম ইয়ো জং বলেন, তারা পুরনো ধারণা থেকে বের হতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ বিষয়ে বাস্তবায়নে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে, উত্তর কোরিয়া নতুন একটি পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে। কিম জং উন ওই স্থাপনা পরিদর্শনকালে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানান।
একই সময়ে সামরিক খাতে বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উন সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকালে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের আগে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা প্রদর্শন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা কৌশলগত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চায়। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন