প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পটুয়াখালীতে গণপরিবহনসহ সড়কপথে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিদিন এই টার্মিনাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসহ বরিশাল, বরগুনা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনাল এলাকায় পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে। তাতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ফলে কুয়াকাটায় আগত পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, কয়েক দশক আগে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর পটুয়াখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই টার্মিনাল নির্মাণ করে পরে এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকেই পৌরসভাই টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পরেই বাস টার্মিনালটি ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী হয়ে যায়।
বর্তমানে এই টার্মিনাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ৭টি রুটের ১৫০টি বাস এবং বরিশাল-বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন আন্তজেলার আরও দেড় শতাধিক বাস চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী এই টার্মিনালটি ব্যবহার করেন। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, পাশাপাশি পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা পোর্টকে কেন্দ্র করে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু টার্মিনালের আধুনিকায়ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, অল্প বৃষ্টিতেই বাস টার্মিনালের ভেতরে পানি জমে থাকে। মহাসড়কের পাশে অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো জমে থাকা কাদাপানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে নোংরা পানির ভেতর দিয়ে বাসে ওঠানামা করছেন। এর ফলে বিশেষ করে নারীরা এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঢাকা ফিরে আসা যাত্রী কবির মুন্সি বলেন, 'পরিবার নিয়ে বাড়ি আসছিলাম। এখন আবার ঢাকা ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডের যে অবস্থা, পরিবার নিয়ে গাড়িতে ওঠা সত্যিই দায়। সম্পূর্ণ বাসস্ট্যান্ড বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে।'
কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক আল আমিন বলেন, 'বাসস্ট্যান্ডে বর্তমানে বৃষ্টির পানি এবং কাদা জমে একাকার। আমাদের ওঠানামা করতে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, এখানে যেন দ্রুত একটি সুন্দর ও আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়।'
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক মো. জুয়েল রানা বলেন, 'প্রতি বছরই আমরা বাস টার্মিনালের খানাখন্দগুলো মেরামত করার কাজ করি। তবে পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।'
এদিকে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেল্লাল হোসেন বলেছেন, 'পৌরসভাকে আমরা জমি অধিগ্রহণ করতে বলেছি। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়ে গেলেই আমরা এখানে একটি সুন্দর এবং আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শুরু করব।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন