০১:৫৭ এম
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, পশ্চিমাদের কয়েক দশক আগে অনুষ্ঠিত অভ্যুত্থানই দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের মূল কারণ। সোমবার (১৫ জুন) যুদ্ধের অবসানে একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সব ধরনের শত্রুতা চিরতরে বন্ধ করার জন্য’ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে যে এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত আছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি চুক্তির স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। চীন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই চুক্তির প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের অতীতে তাদের সঙ্গে কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ তিনি ১৯৫৩ সালের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
বাঘাই আরও মন্তব্য করেন, ‘সেই মুহূর্ত থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে এবং এই অবিশ্বাস গভীরভাবে প্রোথিত। আমাদের আস্থা অর্জন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানি কর্মকর্তাদের আঞ্চলিক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
‘লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান চুক্তির অংশ’
লেবানন বিষয়ে সূত্র হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। এ কারণে লেবাননের পরিস্থিতির দিকে ইরান নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অংশ।’
বাঘাই আরও বলেন, ‘আমি সমগ্র লেবাননের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাতে চাই। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কিছু বিবেচনার ভিত্তিতে গ্রহণ করি, বিশেষ করে লেবাননের বিরুদ্ধে জায়নবাদী সত্তার এসব সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন