ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিতর্কের মুখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রদবদল, সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি


বিতর্কের মুখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে রদবদল, সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি

বিতর্ক ও সমালোচনার চাপে অবশেষে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় বড় ধরনের সংশোধন এনেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি চূড়ান্ত বিচারকাজ শেষে যখন পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি নিয়ে প্রশ্ন উঠে, ফলে পুরো তালিকাটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে রিভিউ প্রক্রিয়া চলার পর মঙ্গলবার (২ জুন) মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জানা যায়, জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে আজীবন সম্মাননা প্রদান করার জন্য বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে, আজীবন সম্মাননার জন্য কেবল জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে। পুরস্কার ঘোষণার আগে উল্লিখিত দুই গুণী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত হওয়ায় বিষয়টি চলচ্চিত্র অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মার্চ মাসে জুরি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিক যোগাযোগ করে মতামত নেয় মন্ত্রণালয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে এই ভুলের সংশোধন করে জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। ২০২৩ সালের আজীবন সম্মাননা এবার যৌথভাবে পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী শবনম এবং গুণী চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুরি বোর্ডের শুরুর সুপারিশেই অভিনেত্রী শবনমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আজীবন সম্মাননার পাশাপাশি, সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও একটি বড় জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিয়েছে। জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পরপরই অভিযোগ ওঠে যে, নিয়ামুল মুক্তা আদতে এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য রচনাই করেননি। এই গুরুতর অভিযোগটি খতিয়ে দেখে এবং যথাযথ পর্যালোচনা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে নিয়ামুল মুক্তার নাম বাদ দিয়ে এই বিভাগে প্রকৃত চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসানের নাম ঘোষণা করেছে।

এভাবে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত পেশাদারদের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুই ভবনের নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুই ভবনের নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত

পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুটি ভবনের নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্রসহ সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ‘মাতৃমন্দির’ ভবনের নিলাম স্থগিত করেছে গণপূর্ত বিভাগ।

এই দুটি ভবনের ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল হাসপাতালটির সম্প্রসারণ ও আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে।

তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ঠাকুরের অনুসারীদের দাবির মুখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’-এর একটি প্রতিনিধিদল পাবনা জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবন দুটি রক্ষার দাবি জানায়। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিলাম স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য জানান, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও বিজ্ঞানমনস্ক জীবনযাপনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল তার মায়ের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত ‘মাতৃমন্দির’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারের জন্য তৈরি ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরাগীর কাছে এই স্থানটি এক পবিত্র ও গভীর আবেগের তীর্থভূমি।

সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগ ভবন দুটি নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ঠাকুরের অনুসারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেছেন, সারা পৃথিবীতে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অন্তত ১০ কোটি ভক্ত রয়েছেন। তারা নিয়মিত এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে তীর্থভ্রমণে আসেন। ভবন দুটি ভেঙে না ফেলে ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে সংস্কার করে উন্মুক্ত করা হলে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতিকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি পর্যটনের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।

সৎসঙ্গের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে মানসিক হাসপাতাল এলাকার ভগ্নপ্রায় ভবন দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ এবং গণপূর্ত বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। তারা সৎসঙ্গের কর্মীদের বক্তব্য শোনেন।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি পুরাতন ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের জন্য বুধবার থেকে দরপত্র আহ্বান করার কথা ছিল, যার মধ্যে এই দুটি ভবনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত এই দুটি ভবনের নিলাম স্থগিত করেছি। পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালো চীন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে চীন।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ কক্ষে যেমন ফলাফল ঘোষণা করা হয়, ঢাকার চীন দূতাবাস এক অভিনন্দন বার্তায় বলেছে যে, খলিলুর রহমানের এই জয় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং এর গঠনমূলক ভূমিকার প্রতিফলন।

চীন বিশ্বাস করে, নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন, সার্বভৌম সমতা সমুন্নত রাখবেন, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করবেন, সংলাপ ও আলোচনায় উৎসাহিত করবেন এবং বহুপাক্ষিকতার ভিত্তি সুসংহত করবেন।

দূতাবাসের বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, খলিলুর রহমানকে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্য চীন প্রস্তুত রয়েছে। সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস হারিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খলিলুর রহমান। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ১৯০টি ভোটের মধ্যে, খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের ভোট পেয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেজ কাকাউরিসের ভোট সংখ্যা ছিল ৯১। ৮ ভোটের ব্যবধানে, বাংলাদেশের প্রার্থী সফলতার সাথে জয়লাভ করেছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাসুম

জনগণের মত উপেক্ষা করলে সরকার এক বছরও টিকবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


জনগণের মত উপেক্ষা করলে সরকার এক বছরও টিকবে না

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দুঃখের বিষয় ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার করেনি এবং গণতন্ত্রের নামে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

 তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৫ বছর শাসন করেও টিকতে পারেনি। তাদের মত আচরণ করে জনগণের মতকে উপেক্ষা করলে আপনারা এক বছরও টিকে থাকতে পারবেন না। সুতরাং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।

 মঙ্গলবার (০২ জুন) নোয়াখালী জেলার একটি মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবিরে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহাজাহান।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এটিএম মাসুম সরকারের গত তিন মাসের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিন মাসে এ সরকার সফলতার চাইতে ব্যর্থতার পরিচয় বেশি দিয়েছে। দেশে খুন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনে নির্লজ্জ দলীয়করণ, দাতাদের মনোযোগ আকর্ষণে ও বিনিয়োগ আনয়নে ব্যর্থতা, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা সরকারের তিন মাসের সুস্পষ্ট দলিল।

 তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শরিয়া আইন ও কুরবানি নিয়ে মশকরা করছেন। দেশের মধ্যে আবার নব্য ফ্যাসিবাদের, নব্য মীরজাফরদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এদেশ শাহ-জালালের দেশ, শাহ-পরানের দেশ; শাহ-মাখদুম, শাহ ওলি-উল্যাহর এদেশ। সুতরাং এখানে কোনো স্বৈরাচারের মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের নিকট মাথানত করবো না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাক্ষীদের বর্ণনায় রামিসা হত্যার ভয়াবহ চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


সাক্ষীদের বর্ণনায় রামিসা হত্যার ভয়াবহ চিত্র

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে একে একে সাক্ষ্য দেন ভিকটিমের স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে রামিসা হত্যার সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন।

সাক্ষ্যে শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তার অফিস কাকলী এলাকায় হওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট হয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন।

সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে বাসায় আসতে বলেন।

তিনি আদালতকে বলেন, ফোন পাওয়ার পর বাসায় ফিরতে আমার ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এসে দেখি আমাদের ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। দ্রুত ওপরে উঠে যাই।

তখন আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ধরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করছিল, কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না।

হান্নান মোল্লা জানান, পরে তিনিও দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করেন।

তিনি বলেন, ভেতরে ঢুকে টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই। সাক্ষ্যগ্রহণকালে তিনি আদালতকে আরো জানান, ঘটনার আগে তিনি আসামিদের চিনতেন না।

আমি আসামিকে জীবনেও দেখিনি, বলেন তিনি।

সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী শিশুটির মা পারভীন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন বাসায় রান্না করছিলেন তিনি। রান্নার শেষ পর্যায়ে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় বড় মেয়ে বলছিল- শিশুটিকে (রামিসা) বাসায় রাখতে, তবে তিনি বুঝতে পারেননি শিশুটি বাইরে গেছে কিনা।

পারভীন আক্তার বলেন, ‘রান্না করার সময় একটি চিৎকার শুনেছিলাম। ভেবেছিলাম পাশের বাসার কোনো শিশু হয়তো চিৎকার করছে। পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে আমার মেয়ের খোঁজ করি। সে জানায়, রামিসা তার সঙ্গে যায়নি।’

তিনি জানান, এরপর ভবনের নিচতলা, একটি অফিস কক্ষ, ব্যাচেলর বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় পাশের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পান। তখন তার মনে হয়, আগে শোনা চিৎকারটি হয়তো তার মেয়েরই ছিল।

আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার স্বপ্নাকে বলেছি- বোন দরজাটা খুলে দে। কিন্তু সে দরজা খোলেনি।’

সাক্ষ্যে তিনি আরো বলেন, তিনি ও আশপাশের লোকজন বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে আরও লোকজন এসে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান তারা। পরে সেখান থেকে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, পরে অভিযুক্ত আসামি স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনকে বলেছিল- সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে।

সাক্ষ্যে রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’

রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন।

একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান।’

তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’

প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার বস্ত্রবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামে এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’

আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান। পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ পরে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%