ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাসুম

জনগণের মত উপেক্ষা করলে সরকার এক বছরও টিকবে না


জনগণের মত উপেক্ষা করলে সরকার এক বছরও টিকবে না

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দুঃখের বিষয় ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার করেনি এবং গণতন্ত্রের নামে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

 তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৫ বছর শাসন করেও টিকতে পারেনি। তাদের মত আচরণ করে জনগণের মতকে উপেক্ষা করলে আপনারা এক বছরও টিকে থাকতে পারবেন না। সুতরাং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।

 মঙ্গলবার (০২ জুন) নোয়াখালী জেলার একটি মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবিরে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: মেঘের রাজ্য সাজেকে পর্যটকদের ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

 নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহাজাহান।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এটিএম মাসুম সরকারের গত তিন মাসের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিন মাসে এ সরকার সফলতার চাইতে ব্যর্থতার পরিচয় বেশি দিয়েছে। দেশে খুন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনে নির্লজ্জ দলীয়করণ, দাতাদের মনোযোগ আকর্ষণে ও বিনিয়োগ আনয়নে ব্যর্থতা, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা সরকারের তিন মাসের সুস্পষ্ট দলিল।

 তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শরিয়া আইন ও কুরবানি নিয়ে মশকরা করছেন। দেশের মধ্যে আবার নব্য ফ্যাসিবাদের, নব্য মীরজাফরদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এদেশ শাহ-জালালের দেশ, শাহ-পরানের দেশ; শাহ-মাখদুম, শাহ ওলি-উল্যাহর এদেশ। সুতরাং এখানে কোনো স্বৈরাচারের মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের নিকট মাথানত করবো না।

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা জোরদারে টেকনাফের হ্নীলায় সেনা ক্যাম্প, চলছে স্থান নির্ধারণের কাজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাক্ষীদের বর্ণনায় রামিসা হত্যার ভয়াবহ চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


সাক্ষীদের বর্ণনায় রামিসা হত্যার ভয়াবহ চিত্র

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে একে একে সাক্ষ্য দেন ভিকটিমের স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে রামিসা হত্যার সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন।

সাক্ষ্যে শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তার অফিস কাকলী এলাকায় হওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট হয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন।

সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে বাসায় আসতে বলেন।

তিনি আদালতকে বলেন, ফোন পাওয়ার পর বাসায় ফিরতে আমার ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এসে দেখি আমাদের ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। দ্রুত ওপরে উঠে যাই।

তখন আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ধরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করছিল, কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না।

হান্নান মোল্লা জানান, পরে তিনিও দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করেন।

তিনি বলেন, ভেতরে ঢুকে টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই। সাক্ষ্যগ্রহণকালে তিনি আদালতকে আরো জানান, ঘটনার আগে তিনি আসামিদের চিনতেন না।

আমি আসামিকে জীবনেও দেখিনি, বলেন তিনি।

সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী শিশুটির মা পারভীন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন বাসায় রান্না করছিলেন তিনি। রান্নার শেষ পর্যায়ে এসে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় বড় মেয়ে বলছিল- শিশুটিকে (রামিসা) বাসায় রাখতে, তবে তিনি বুঝতে পারেননি শিশুটি বাইরে গেছে কিনা।

পারভীন আক্তার বলেন, ‘রান্না করার সময় একটি চিৎকার শুনেছিলাম। ভেবেছিলাম পাশের বাসার কোনো শিশু হয়তো চিৎকার করছে। পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে আমার মেয়ের খোঁজ করি। সে জানায়, রামিসা তার সঙ্গে যায়নি।’

তিনি জানান, এরপর ভবনের নিচতলা, একটি অফিস কক্ষ, ব্যাচেলর বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় পাশের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পান। তখন তার মনে হয়, আগে শোনা চিৎকারটি হয়তো তার মেয়েরই ছিল।

আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার স্বপ্নাকে বলেছি- বোন দরজাটা খুলে দে। কিন্তু সে দরজা খোলেনি।’

সাক্ষ্যে তিনি আরো বলেন, তিনি ও আশপাশের লোকজন বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে আরও লোকজন এসে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান তারা। পরে সেখান থেকে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, পরে অভিযুক্ত আসামি স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনকে বলেছিল- সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে।

সাক্ষ্যে রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’

রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন।

একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান।’

তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’

প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার বস্ত্রবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামে এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’

আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান। পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ পরে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসিক প্রশাসক ও প্রকৌশলীর ফ্রান্স সফর স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


রাসিক প্রশাসক ও প্রকৌশলীর ফ্রান্স সফর স্থগিত

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের ফ্রান্স সফরসহ এ জাতীয় সকল সফর আপাতত স্থগিত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সড়কবাতি নিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রচারিত হয়েছিল।

তবে প্রকৃতপক্ষে, সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও আধুনিক নগর আলোকায়ন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে ফ্রান্স সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

এই সম্ভাব্য সফরের সব ব্যয়ভার আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বহন করার প্রস্তাব করেছিল এবং এ সফরের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কোনো অর্থ ব্যয়ের প্রশ্নই ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কোনো চলমান বা পূর্ববর্তী উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সফর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনপত্র প্রেরণ করা হয়েছিল মাত্র।

সরকার কর্তৃক কোনো অনুমোদন বা সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের সকল বিদেশ সফর আপাতত বাতিল করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্র থেকে উদ্ধার যান্ত্রিক বস্তু, তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


সমুদ্র থেকে উদ্ধার যান্ত্রিক বস্তু, তদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ

বরগুনার পাথরঘাটায় জেলেদের জালে উদ্ধার হওয়া রহস্যময় যান্ত্রিক বস্তুটি পরীক্ষা করার পাশাপাশি তদন্তের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, এটি সমুদ্র গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হওয়া একটি যন্ত্র হতে পারে যা পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করে। তবে বর্তমানে বস্তুটির প্রকৃত পরিচয়, উৎস ও উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, সোমবার (১ জুন) পাথরঘাটার দক্ষিণ চরদোয়ানী এলাকায় সাগর মোহনার বলেশ্বর নদী থেকে এই যান্ত্রিক বস্তুটি জেলেদের জালে উঠে আসে, পরে এটি পাথরঘাটা থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় সাগর মোহনায় পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেরা নদীতে ফেলা জাল টেনে তুলতেই তাদের জালে একটি লাল ও হলুদ রঙের যান্ত্রিক বস্তু আটকে যায়। বস্তুটির মধ্যে তারের সংযোগসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দেখে তারা ভীত হয়ে পড়েন এবং মনে করেন যে এটি হয়তো মিসাইল অথবা বোমা সদৃশ কিছু।

সোমবার (১ জুন) সকালে স্থানীয় জনসাধারণ বিষয়টি জানার পর বস্তুটি দেখার জন্য ভিড় করে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়, এবং তারা পুলিশকে খবর দেয় যে এটি মিসাইল অথবা বোমা সদৃশ কিছু হতে পারে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বানিজ্যিক মানের সেই যান্ত্রিক বস্তুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার পর এটি নিয়ে চাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পুলিশ গতকাল (১ জুন) রাতে এই যান্ত্রিক বস্তুটির প্রকৃত তথ্য ও ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী কোস্ট গার্ডের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোস্ট গার্ডের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই যান্ত্রিক বস্তুটি সমুদ্র গবেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়, যেটির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সমুদ্রের পরিবেশ, পানির গুণাগুণ, লবণাক্ততা ও অন্যান্য জলবায়ু তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সমুদ্রপ্রাণী গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী মন্তব্য করেছেন যে, পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাধারণত এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহৃত হয়। তিনি জানান, যেহেতু যান্ত্রিক বস্তুটি জালে উদ্ধার করা হয়েছে, সে জন্য হয়তো এটি তার সিগনালে সমস্যার কারণে আটকে পড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের যন্ত্র সাধারণত পানির গুণাগুণ গভীরতাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়। অথচ যদি বাইরে থেকে সাগরের থেকে অন্য কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয় তবে সেটির বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। এটি অন্য দেশেরও হতে পারে এবং হয়তো আমাদের দেশেরও। তবে এই ধরনের যন্ত্র যা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়, সঠিকভাবে বলা মুশকিল।

বরগুনার জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানিয়েছেন, জেলেদের জালে যে যান্ত্রিক বস্তুটি পাওয়া গেছে তার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করার জন্য এবং অধিকতর তদন্তের উদ্দেশ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাড়ির ফটকে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, মোহাম্মদপুরে গ্রেফতার আরও একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


বাড়ির ফটকে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, মোহাম্মদপুরে গ্রেফতার আরও একজন

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে বাড়ির সামনে চাপাতি ধরে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারীর কাছ থেকে অপরাধী আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট দুইজনকে গ্রেফতার করা হলো।

মঙ্গলবার (২ জুন) নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় র‌্যাব-২ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

এসময় তার হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ২টি চাপাতি ও ১টি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও, তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই করা মালামালসহ তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে একই দিনে, মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ থেকেই জুয়েল নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত তিনটার দিকে মোহাম্মদপুরে এই ছিনতাইয়ের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায় যে রিকশা থেকে নেমে দুই নারী বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ওই সময় তাদের সঙ্গে থাকা রিকশাচালকও পাশে ছিলেন। হঠাৎ করে লুঙ্গি পরা, কালো গেঞ্জি ও মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি চাপাতি হাতে সেখানে উপস্থিত হন। তার সঙ্গে আরও একজন ব্যক্তি দেখা যায়।

এই দুই ব্যক্তি চাপাতির ভয় দেখিয়ে রিকশাচালককে ধাক্কা দেয় এবং দুই নারীর কাছ থেকে ব্যাগ, লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সময়ে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ও অলংকারও তারা তল্লাশি করে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%