ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি


অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

শখের বশে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা।

আঞ্চলিক সড়ক বেরিয়ে মহাসড়কেও তারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। প্রতি সময় ট্রাফিক আইন না মানার পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহার না করায় ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে সরেজমিনে সম্প্রতি এমন চিত্র দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের আকরাম বেপারীর ১৫ বছরের ছেলে ইয়াসিন। অসুস্থ রোগী নিয়ে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সে এসেছে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে।

সে হরহামেশাই মহাসড়কে গাড়ি চালায়। অন্যদিকে ১০ বছরের এক শিশু তার দুই বন্ধুকে নিয়ে ঝড়ের গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, কারো মাথায় হেলমেট নেই।

ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে সে কোনো রকম উত্তর দিতে পারেনি।

ইয়াসিন জানায়, সে তার বাবার কাছ থেকে প্রাইভেটকার চালানো শিখেছে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

দুই থেকে তিন মাস ধরে মহাসড়কে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা-যাওয়া করছে সে।

সড়কে শিশু-কিশোরদের গাড়ি চালানো নিষেধ, তবে এটি করার কারণ জানতে চাইলে ইয়াসিন জানায়, বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত সে আর প্রাইভেটকার চালাবে না।

এ ঘটনার জন্য সে ক্ষমাও চায়।

একাধিক শিশু-কিশোর জানায়, মূলত শখের কারণে তারা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে এমন যানবাহন চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র‍্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না

বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে তারা বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ি বা মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে সড়কে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ সড়ক এখন ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সি স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের দখলে।

এদের অনেকের বাবা প্রবাসী হওয়ায় তারা সহজেই যানবাহন চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে এমন যানবাহনের দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন প্রাণ হারাচ্ছে এবং পঙ্গু হচ্ছে অনেকেই।

আরও পড়ুন: বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন

মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, ‘বাবা বিদেশে থাকায় একশ্রেণির কিশোর বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়েই কেনা হচ্ছে মোটরসাইকেল।

এবং এসব যান নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা, যা কিশোর গ্যাং বাড়ানোর কারণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণসচেতনতা বৃদ্ধি করে এই অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন: খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

এ ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সাথে কাজ করতে হবে।’

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ মামলা দিচ্ছে হাইওয়ে ও জেলার ট্রাফিক পুলিশ।

তবুও এমন অপরাধ কমছে না।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘পুলিশ প্রতিদিন আলাদা জায়গায় ভাগ হয়ে ট্রাফিক আইনে মামলা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত: প্রশাসক

কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করে শিশু-কিশোরদের এমন অপরাধ কিছুতেই থামানো সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট উপস্থাপনের পর আজ গণমাধ্যমের মুখোমুখি অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


বাজেট উপস্থাপনের পর আজ গণমাধ্যমের মুখোমুখি অর্থমন্ত্রী

আজ শুক্রবার (১২ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশের পর প্রথাগত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেবেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবং ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যার বেশিরভাগই সংগ্রহের দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া হয়েছে।

বিশাল এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস (যেমন ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র) থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদানের খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায়ের বিশাল চ্যালেঞ্জ, বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১২০ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ এম


জুনের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১২০ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার।

এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ০৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৫ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের আওতায় ৫৫ লাখ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ এম


১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের আওতায় ৫৫ লাখ পরিবার

খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ১৫ টাকা কেজি দরে বছরের ছয় মাস চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ এবং এই বিশাল জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তবে বর্তমান সরকার এর জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের উদ্যোগের মধ্যে খাদ্য-শস্য ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী শনাক্ত করেন যে, এসব কার্যক্রম প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি প্রদান করবে।

এ উদ্যোগের ফলে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজার ভিত্তিক সুদের থেকে অর্ধেকেরও কম হবে, যা শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া, এটি বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে একটি বড় ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলা স্থগিতের খবরে বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


ইরানে হামলা স্থগিতের খবরে বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় এবং স্বর্ণের দামও বেড়ে যায়।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা এখন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি বড় আঞ্চলিক জোটও এই চুক্তির প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান এই চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সাধারণত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডে অর্থ রাখেন। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং এর মূল্যও বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু যখন যুদ্ধ বা সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা দেখা দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ যেমন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমে যায় এবং দামও নিচে নামে। বৃহস্পতিবার ঠিক এমনটিই ঘটেছে। ট্রাম্পের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাতে ইরানের ওপর 'খুব কঠিন আঘাত' হানতে পারে। এছাড়া তিনি ইরানের জ্বালানী অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের হামলার পর পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পরে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ডলারের মূল্য ০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে ০ দশমিক ৭৯৪৮-এ নেমে আসে। দিনের শুরুতে যে সামান্য লাভ হয়েছিল, তাও হারিয়ে ফেলে ডলার। পাশাপাশি টানা চার দিনের উত্থানের ধারাও থেমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইয়েন, ইউরোসহ কয়েকটি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপকারী ডলার সূচক ০ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৯৯ দশমিক ৬৪-এ নেমে আসে। এটি প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান।

মনেক্স ইউএসএর ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক হুয়ান পেরেজ বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্থ হয়ে যাচ্ছেন, যেখানে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ে আবার কিছু সময় পর তা কমেও যায়। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে ডলার শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন মনে হয় যুদ্ধ থেমে যেতে পারে এবং শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ে। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমে যায়।

ব্যানকবার্ন গ্লোবাল ফরেক্সের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মার্ক চ্যান্ডলারও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে এসে শান্তির সম্ভাবনার কথা বলায় বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নিতে শুরু করেছেন। ফলে তারা শেয়ার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কিনছেন এবং ডলার বিক্রি করছেন।

ডলারের দুর্বলতার কারণে ইউরো, পাউন্ড ও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মত অন্যান্য প্রধান মুদ্রার দাম বেড়েছে।

ইউরোর মূল্য ০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৫৮২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও দিনের শুরুতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর পর ইউরো কিছুটা দুর্বল হয়েছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার লক্ষ্যেই সুদের হার বাড়ানো হয়।

ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪১৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দাম ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০৪৮ ডলারে ওঠে।

অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের মূল্য ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৯ দশমিক ৭৩ ইয়েনে পৌঁছায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই হার এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে জাপান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করে। এর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দিন শেষে সূচকটি ২ দশমিক ৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও কমেছে। ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ৮ দশমিক ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৪৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে শ  বাজারে গেলে বন্ডের চাহিদা ও মুনাফার হারে পরিবর্তন দেখা যায়।

ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ২০৯ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাজারের ধারণা, সেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হবে। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ অর্থনীতিবিদও মনে করছেন, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে আর্থিক বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ধরে বিনিয়োগ কৌশল সাজাচ্ছেন।

এদিকে আগামী সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ১৫ ও ১৬ জুনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানা গেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেও গভীরভাবে নজর রাখছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%