ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও জনতার প্রতিরোধ


মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও জনতার প্রতিরোধ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শিশুসহ চারজনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কার্যক্রম ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ফলে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর আওতাধীন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৪৪/৪-এস এর কাছে এই ঘটনা ঘটে।

৪৭ বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, ভারতের ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের বিজয় মাঠপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা তথ্য ও সীমান্তে বিজিবির টহল দলের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিজিবি সদস্যরা ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় ১ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিজিবি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজিবি জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে সীমান্তের ১০৪ নম্বর গেট দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তারা বর্তমানে বিজয় মাঠপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে। শেওড়াতলা সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই টহল দল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের সেই চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: আগ্রাবাদে ৫ আগস্ট থানা থেকে চুরি হওয়া পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

তিনি আরো বলেন, সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি পতাকা বৈঠকে উত্থাপন করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস: একাদশের সবার বয়স ৩০ বছরের উপরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস: একাদশের সবার বয়স ৩০ বছরের উপরে

অস্ট্রেলিয়া ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ডারবান টেস্টের একাদশে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ক্রিকেটারের বয়স ৩০ বছর বা তার অধিক। এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটলো।

এই ইতিহাসের অংশীদার ক্রিকেটাররা হলেন—ট্রাভিস হেড (৩২), নিক ম্যাডিনসন (৩৪), মারনাস লাবুশেন (৩২), স্টিভেন স্মিথ (৩৭), ম্যাট রেনশ (৩০), অ্যালেক্স ক্যারি (৩৫), বিউ ওয়েবস্টার (৩২), প্যাট কামিন্স (৩৩), মিচেল স্টার্ক (৩৬), নাথান লায়ন (৩৮) এবং জশ হ্যাজলউড (৩৫)।

ম্যাডিনসন প্রায় এক দশক পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। টেস্টিকুলার ক্যানসারকে হারিয়ে তিনি মাঠে ফিরে এসেছেন। কিন্তু বাঁহাতি ব্যাটারের প্রত্যাবর্তন সুখকর হয়নি। ৩৩ বল খেলে তিনি রানের খাতা খুলতে পারেননি। ২০১৬ সালে মেলবোর্নে তার সর্বশেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের স্মৃতি খুবই সুখকর নয়। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত চার টেস্টের সিরিজে তারা ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। প্রথম টেস্টে জয় পেলেও পরবর্তী তিনটি টেস্টে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য দীর্ঘ ৮ বছর পর সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে। সেই উদ্দেশ্যে ২০২৩ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারীরা অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মাঠে নামিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। ডারবানে প্রথম টেস্টে নেমে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা ৮৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে।

প্রথম টেস্টের ফলাফল কি হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরণখোলায় কৃষকরা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ফসলে বিষ ছিটাচ্ছেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


শরণখোলায় কৃষকরা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ফসলে বিষ ছিটাচ্ছেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

আমনের মাঠে পোকা দমনের জন্য কৃষকরা শরীরে হাফহাতা গেঞ্জি পরে, কারো পিঠে আবার কারো কাঁধে ঝোলানো স্প্রে মেশিন নিয়ে বিষাক্ত কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। পায়ে গামবুট নেই, চোখে চশমা নেই, মুখে মাস্ক কিংবা হাতে গ্লাভসও নেই। এভাবে খোলামেলা অবস্থায় নির্বিঘ্নে ধানক্ষেতে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা।

স্প্রে করার সময় বাতাসে উড়ে আসা কীটনাশকের কণা সরাসরি তাদের চোখে-মুখে ও শরীরে লাগছে। অথচ এসব রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই।

সুরক্ষার নিয়ম সম্পর্কে তারা জানেন না, আবার কেউ জানলেও তা মানার প্রয়োজন মনে করেন না। এভাবে পোকা দমন করতে গিয়ে অজান্তেই প্রতিনিয়ত বিষ গ্রহণ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বাগেরহাটের শরণখোলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের মাঠে এখন এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে। ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার করতে গিয়ে কৃষকদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই স্প্রে করছেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে চোখ, ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন কৃষি ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ফসলে বিষ ছিটাচ্ছেন, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে!

স্প্রে করার সময় বাতাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বা বাতাসের গতিপথ বিবেচনা না করেই কীটনাশক ছিটাচ্ছেন তারা। ফলে বিষাক্ত রাসায়নিকের কণা তাদের শরীরের উন্মুক্ত অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। কাজ শেষে হাত-মুখ ধোয়া এবং ব্যবহৃত পোশাক পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও তারা উদাসীন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। আবার অনেকে দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে কীটনাশক ব্যবহার করে আসছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যার শিকার না হওয়ায় বিষয়টিকে তেমন ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করেন না তারা।

কিন্তু কৃষি বিভাগ বলছে, ফসলের রোগবালাই ও পোকার ধরন অনুযায়ী সঠিক কীটনাশক নির্বাচন, নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ এবং ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু অনেক কৃষক এসব নিয়ম মানছেন না। এতে কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া পরামর্শ না মানায় অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্যের জন্য হুমকি হতে পারে।

উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের কৃষক মজিবর হাওলাদার জানালেন, দীর্ঘ সময় ধরে ধানক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করলে চোখ ও মুখ জ্বালাপোড়া করে। রাতে কাশিও হয়। তবে এসব যে কীটনাশকের প্রভাবে হচ্ছে, তা জানা নেই।

রাজাপুর গ্রামের কৃষক মুক্তা হাওলাদার ও সলিম খান জানিয়েছেন, তারা এভাবেই স্প্রে করেন। মাঝে মাঝে একটু হাত ও চোখ-মুখ জ্বলে, তা পানি দিয়ে ধোয়ার পরে আবার ঠিক হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান তারা।

রায়েন্দা বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী কবির জমাদ্দার বলেন, কৃষকরা কীটনাশক কিনতে এলে তাদের নিয়ম মেনে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি আমরা। তাছাড়া ব্যবহারের সময় কী ধরণের সুরক্ষা প্রয়োজন এবং প্রয়োগবিধি সবই বোতল বা প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে। সেগুলো অনুসরণ করতে বলা হয় কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন করতে গ্রামে গ্রামে মাঠ সমাবেশ করা হয়। ফসল ও পোকার ধরন অনুযায়ী কীটনাশক নির্বাচন, সঠিক মাত্রা নির্ধারণ এবং প্রয়োগের নিয়ম হাতে-কলমে শেখানো হয়। একই সঙ্গে কীটনাশক ব্যবহারের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম পরার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কৃষকদের নিরাপদ উপায়ে কীটনাশক ব্যবহারে বার বার সচেতন হলেও অনেকে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন না। এতে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফসল রক্ষায় কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমাতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কীটনাশকের ব্যবহার কম হলে ফসলে মাঠের মাটি ও পানির গুণগত মান বজায় থাকবে। বীষমুক্ত ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি রক্ষা পাবে পরিবেশ ও ফসলের জন্য উপকারী কীট-পতঙ্গ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রীয় গোপাল বিশ্বাসের মতে, খোলামেলা ভাবে ও সুরক্ষা ছাড়াই কীটনাশক ব্যবহার মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর বিষাক্ত উপাদান স্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি চোখ, ত্বক ও মুখে জ্বালাপোড়া এবং বমি ও কাশি হতে পারে। তাই কীটনাশক ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন এবং কোনো ধরনের অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে ‘তেলাপোকা’র বিক্ষোভ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন ২৩ হাজার আধাসামরিক বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


দিল্লিতে ‘তেলাপোকা’র বিক্ষোভ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, ৫৭ মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোতায়েন ২৩ হাজার আধাসামরিক বাহিনী

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা ‘যন্তরমন্তর-২’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো দিল্লি নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢেকে ফেলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর ও ছত্তিশগড় থেকে প্রায় ২৩ হাজার (২৩১ কোম্পানি) আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানকে জরুরি ভিত্তিতে উড়িয়ে আনা হয়েছে।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে সিআরপিএফ (CRPF), আইটিবিপি (ITBP), এসএসবি (SSB) এবং সিআইএসএফ (CISF)-এর জওয়ানরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশের অন্তত ১৫ হাজার সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। জি-২০ সম্মেলনের পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এত বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েনের ঘটনা এটিই প্রথম। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বেশ কিছু নির্ধারিত রাজ্য সফর বাতিল করে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করার অজুহাতে সিজেপি-কে যন্তরমন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না মিললেও সিজেপি নেতারা ১০ অক্টোবরের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে অনড় রয়েছেন। সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এক্স (টুইটার) বার্তায় জানিয়েছেন, "বিক্ষোভ করা সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা আমাদের যন্তরমন্তরে সমাবেশ করতে দেবে, নাকি পুরো দিল্লিকেই যন্তরমন্তরে পরিণত হতে দেখবে।"

জনস্রোত রুখতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্য দিল্লির সংযোগকারী অন্তত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লিতে প্রবেশকারী বাস, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও পিজি (PG) আবাসনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের আটক রাখতে শহরের কয়েকটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে পরিণত করার প্রস্তুতিও নিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, দিল্লি আম আদমি পার্টির (আপ) সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, তাঁদের দলীয় ও ছাত্র সংগঠনের বহু সদস্যকে পুলিশ আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে এবং তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিজেপির পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), বামপন্থী দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরাও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাক বিভাগের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


ডাক বিভাগের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এই দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনাসভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তর করা জরুরি। তাঁরা বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগণের জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এই সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%