মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
০৭:১২ পি.এম
শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ৫৩টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ,টাঙ্গাইল। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন্নাহার স্বপ্না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন,শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু,সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন,‘ধর্ম যার যার,রাষ্ট্র সবার’
বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এখানে ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠানেই বৈষম্য থাকবে না
সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদযাপনে এগিয়ে আসতে হবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলার ৫৩টি পূজা মণ্ডপের প্রতিটিতে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে বলেছিলেন, তাদের বহন করা উড়োজাহাজে বোমা রয়েছে—১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীর এই খবরে পুরো উড়োজাহাজে আতঙ্ক তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, রবিবার ভারতের আহমেদাবাদ থেকে হায়দরাবাদগামী একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। বিমানটি অবতরণের পর ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রীর দুষ্টুমি হিসেবে প্রমাণিত হয়।
পুলিশ জানায়, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী স্কুলের শিক্ষা সফর শেষে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে হায়দরাবাদে ফিরছিল। উড়োজাহাজে বোমা রয়েছে বলে সে সহপাঠীদের জানায়। বিষয়টি শুনে কেবিন ক্রুর এক সদস্য পাইলটকে সতর্ক করেন।
উড়োজাহাজটি অবতরণের পর ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রীটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। মেয়েটি না বুঝেই কথাটি বলেছিল এবং কাউকে হুমকি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় মৃত্যুবরণ করার প্রায় এক বছর পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, এটি ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’ ছাড়া কিছুই নয়।
মামলাটি গতকাল ১৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুসারে, মৃত ব্যক্তি সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এস এম ওমর আলী (৭৩)। তাকে মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে সাবেক পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলায় তার স্ত্রী হোসনে আরাকে (৫৯) ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামি হোসনে আরা দুদকের কাছে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তার স্বামী এস এম ওমর আলী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিকালীন সময়ে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে এই সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এস এম ওমর আলী (বীরমুক্তিযোদ্ধা) ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অথচ তার মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর গতকাল (১৭ অক্টোবর) তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হলো। একজন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এভাবে মামলা হওয়ায় দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ওমর আলীর ভাই সাইফুর ইসলাম গণমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে একটা তামাশা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. বুলু মিয়া জানান, গত ৬ মাস আগে এই মামলার (অনুমোদনের) প্রক্রিয়া চলছিল। তখন আমাদের জানা ছিল না যে অভিযুক্ত ওমর আলী মারা গেছেন।
অভিযোগের তদন্ত বা দীর্ঘ অনুসন্ধানকালে কেন এই তথ্য জানা সম্ভব হলো না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইরে, এটা তো ভুলও হতে পারে। এখন তদন্তের সময় তার নাম (মামলা থেকে) বাদ দেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া বাঙ্গার সম্প্রতি একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। কৃষ্ণঙ্ক আত্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পডকাস্টের জনপ্রিয় খেলা ‘কিল, ম্যারি, হুকআপ’-এ তিনি অংশগ্রহণ করেন। এই খেলায় সমসাময়িক ভারতের তিন তরুণ ক্রিকেটার শুবমান গিল, অভিষেক শর্মা এবং শ্রেয়াস আইয়ারের নাম উল্লেখ করা হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত তিন ক্রিকেটারের নাম পছন্দ অনুযায়ী সাজাতে বলা হয়েছিল। অনয়া কোনো দ্বিধা ছাড়াই জানান, তিনি ভারতীয় অলরাউন্ডার অভিষেক শর্মা-কে বিয়ে করতে চান।
হুকআপ অপশনের জন্য তিনি তারকা ব্যাটার শুভমন গিলকে বেছে নেন। খেলার নিয়ম অনুযায়ী ‘কিল’ অপশনের তালিকায় শ্রেয়াস আইয়ারকে রেখেছেন।
সাক্ষাৎকারের অন্য একটি অংশে অনয়া ক্রিকেটারদের আকর্ষণীয়তার বিচারে একটি ব্যক্তিগত র্যাংকিং প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিষেক শর্মাকে প্রথম স্থানে এবং শুভমন গিলকে দ্বিতীয় স্থানে রাখেন। এই তালিকায় শ্রেয়াস আইয়ার তৃতীয় এবং কিংবদন্তি ব্যাটার বিরাট কোহলিকে চতুর্থ স্থানে স্থান দেন।
অনয়া বাঙ্গার, যিনি পূর্বে আরিয়ান বাঙ্গার নামে পরিচিত ছিলেন, অতীতে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক পুরুষ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে তার জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে দীর্ঘ রূপান্তর প্রক্রিয়া শেষে।
এখন পর্যন্ত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাকে স্থানীয় নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নারী ক্রিকেট ক্যারিয়ার নতুনভাবে শুরু করার লক্ষ্যে বর্তমানে তিনি কঠোর অনুশীলনের মধ্যে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় ‘লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস’ পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, লালন ফকির ছিলেন একাধারে বাউল সাধক, দার্শনিক ও শিল্পী। তার দর্শন ও সংগীত বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে ‘মানবতার মৌখিক ও বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাস্টারপিস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাউল সংস্কৃতির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালন সাঁইয়ের দর্শন আজও গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতির চর্চা, গবেষণা ও প্রসারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দেশের লোকসংগীত ও লোকজ ঐতিহ্যের গুরুত্ব আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত অতিথিদের লালন সাঁইয়ের প্রেম, অহিংসা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থিত অতিথিরা আগ্রহের সঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ