১১:৫৮ এম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আগে দেশজুড়ে ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করার দাবি করেছে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party—CJP)। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ দমনে কর্তৃপক্ষ এই আটকের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে আটককৃতদের সংখ্যা সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের দাবি অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তাদের নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী, তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পুনে থেকে দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করার অভিযোগও করেছে দলটি। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের সমর্থকরা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তবে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই চূড়ান্তভাবে ভোটাধিকার বাতিল হওয়া নয়। নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বক্তব্য, মৃত ভোটার, একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। কংগ্রেস পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশ কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির একজন মুখপাত্রও বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন তরুণ আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়েছে। এর আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে তাদের আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা আলোচনায় আসে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। তবে ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী আটকের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স
আরও পড়ুন: লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন