মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৫ পি.এম
হুতি গোষ্ঠীর একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, সৌদি আরবকে সমর্থন করার জন্য মিশরীয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে একটি ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল। তিনি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এই মন্তব্য করেন।
মিশরের পার্লামেন্ট, যা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, সোমবার সৌদি আরবকে রক্ষায় সহায়তা করার জন্য মিশরীয় সামরিক বাহিনীকে অনুমোদন দিয়েছে। সৌদি আরব কায়রোর একটি প্রধান আর্থিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে পরিচিত।
সংবাদ সংস্থা এএফপি-এর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুতি টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, “এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে, যখন এই ব্যক্তিরা তথাকথিত 'আঞ্চলিক শান্তি' নিয়ে আলোচনার জন্য যাচ্ছেন, ঠিক তখনই মিশর ও তাদের পার্লামেন্ট সৌদি আরবকে সুরক্ষার নামে সমর্থন ঘোষণা করছে, আর এর মাধ্যমে তারা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে।”
সোমবার তেহরানে ‘মক্কা জোট’-ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মোহাম্মদ আলী আল-হুতি এই মন্তব্য করেন। আলোচনায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: টাইমস নাউ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের "সরকার চাইলে ক্রসফায়ারে প্রস্তুত পুলিশ" মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। আইজিপির বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছে যে, দেশে আবারও গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ক্রসফায়ার কখনোই আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না; যেকোনো অপরাধীর ন্যায়বিচার আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যার অনুমোদন দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রের নেই। আইজিপিকে অবিলম্বে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
হাবিবুল্লাহ মিয়াজী আরও উল্লেখ করেন, গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্যায় আদেশ পালন করতে গিয়ে অতীতে অনেক নিরপরাধ পুলিশ সদস্যও হতাহতের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আবার সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, এ বিষয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলেছে।
আইজিপির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রসফায়ার হলো বিরোধী মতের লোকজনকে নিশ্চিহ্ন করার একটি হাতিয়ার। অতীতের গুম-খুনের সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বাংলাদেশে আর নতুন করে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মতো কাউকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। সরকারকে অবিলম্বে জাতির কাছে আইজিপির বক্তব্যের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং এর আগ পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি দাবি করেছে যে, তারা সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, এই হামলার দাবি সউদী নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতকে নতুনভাবে তীব্র করে তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অঞ্চলে হুথি এবং সউদী বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষ পূর্বে জানিয়েছিল যে, তারা সউদীর বিভিন্ন অঞ্চলে নিক্ষিপ্ত একাধিক হুথি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত (ইন্টারসেপ্ট) করেছে। তবে, যদি সউদীর মূল প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্রস্থল রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় একটি ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি সউদীর আকাশসীমা নিরাপত্তার ওপর নতুন করে একটি বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, সউদী কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন এবং কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করতে পারে। অন্যদিকে, হুথি বাহিনীর এডেন বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেলেও, বাজার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো দখলাভিযানের আশঙ্কা করছেন না।
সামগ্রিকভাবে, এই হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক কৌশলগত পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, সউদী আরব তাদের আন্তর্জাতিক আকাশসীমা পুনঃনিয়ন্ত্রণ এবং হুথি প্রতিরোধে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, অসুস্থতা প্রতিরোধের জন্য খাদ্যে ভেজাল ও স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধ করা অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের অসুস্থতা প্রতিরোধের জন্য শুধু ডায়ালিসিস মেশিন ক্রয় বা হাসপাতাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়।
ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধ করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তিনি খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি প্রসঙ্গে ড. মুহিত জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকার দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যতই শক্তিশালী হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতির কারণে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।
আয়োডিনের ঘাটতি মোকাবিলায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বুদ্ধি বিকাশজনিত সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, এখনও দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করছেন। এই জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পুষ্টিহীনতায় ভোগা এসব শিশুদের মূলধারার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকের হোসেন খান, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির।
বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্বে একটি বড় রাজনৈতিক নাটকীয়তার খবর সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী দল ‘লিকুদ পার্টি’ সম্ভাব্য পরাজয় এড়ানোর জন্য এবং নির্বাচনে হেরে গেলে ভোট ‘চুরি’ বা কারচুপির অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
হেব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রখ্যাত দৈনিক ‘হারেটজ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, লিকুদ আরব অধ্যুষিত শহর ও জনপদগুলোর ভোটকেন্দ্রের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলটির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসৃত ‘রিগড ইলেকশন’ বা ভোট কারচুপির অভিযোগের আদলে এই ক্যাম্পেইনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোটদানের ওপর নজরদারি করার অজুহাতে লিকুদ ও উগ্র ডানপন্থী রিলিজিয়াস জায়োনিজম দলগুলো প্রায় দুই হাজার কর্মী বিভিন্ন কেন্দ্রে মোতায়েন করেছে। দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হয়েছে, পূর্ণ বোরকা পরে ভোট দিতে আসা নারীদের ভোটার হিসেবে শনাক্তকরণ কিংবা ভোটকেন্দ্রে কারচুপির নানা অভিযোগ তুলে ফলাফলকে বিতর্কিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো ভোট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সিভিল রাইটস গ্রুপ এবং নজরদারি সংস্থাগুলো লিকুদের এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভোট জালিয়াতির যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে কড়া নজরদারি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ