ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ


উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ এখন পরপারে চলে গেছেন। মহানায়করা অনেকেই হবেন, কিন্তু মহানায়ক খুব বেশি নয়।

সারা দেশের মানুষ তোফায়েল আহমেদকে ’৬৯-এর মহানায়ক হিসেবে চেনে। তবে আমি তাঁকে সেভাবে চিনি না। বরিশাল থেকে তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ’৬২ সালে স্কাউট জাম্বুরির জন্য। লতিফ ভাই (লতিফ সিদ্দিকী) টাঙ্গাইল থেকে এসেছিলেন। সেই সময় তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়েছিল। এরপর তাঁদের মধ্যে শত শত চিঠি বিনিময় হয়েছিল।

অকস্মাৎ একদিন জানতে পারলো যে ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে তিনিই নেতা, তখন আনন্দে বুক মন ভরে যায়। বাঙালির মধ্যে কিছু গুণ এবং কিছু ছোটখাটো দোষও আছে। অতীতের অনেক কিছু আমরা ভুলে যেতে চাই, অস্বীকার করতেও চাই।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

যদি তোফায়েল আহমেদ না থাকতেন ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে, বঙ্গবন্ধুকে যদি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনতে না পারতেন, বঙ্গবন্ধু যদি ’৬৯-এ মুক্তি না পেতেন এবং আইয়ুব খানের বিদায় না ঘটত, তাহলে আজ বাংলাদেশ হতো না। পাকিস্তানের পর ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন, ’৬২ সালের শিক্ষা কমিশন—এসব আন্দোলনই মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরী করেছে। বিশেষ করে ’৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনতে পেরে, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ।

আজ আমি কোনো বিতর্কিত কথায় যেতে চাই না। তোফায়েল আহমেদের জানাজায় উপস্থিত হতে চেয়েছিলাম, শুনেছি আজ সন্ধ্যায় জানাজার আয়োজন হবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যর্থতা, বেদনার বিষয়। রক্ষীবাহিনী তোফায়েল আহমেদ দেখাশোনা করতেন, পরে এ বিষয়ে জানলাম। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার আগে কখনো শুনিনি যে মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ রক্ষীবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন।

আমাদের মধ্যে যাঁরা সফল হন এবং বড় ভূমিকা নেন, তাঁদের অনেক মানুষ উপলব্ধি করে, তবে বিপক্ষে অনেক শক্তিও থাকে। তোফায়েল আহমেদও তেমনই একজন ছিলেন। অনেকেই তাঁকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি একটা কথা শুনেছি—রক্ষীবাহিনী তাঁর নির্দেশ চাইতে গিয়েছিল। যুদ্ধে সবসময় নির্দেশের প্রয়োজন হয়না। তোফায়েল আহমেদ যদি নির্দেশ দেন, তাহলে কি রক্ষীবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়বে? তবে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েনি। আর রক্ষীবাহিনীর অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখাও হয়নি। পিলখানায় তা রাখা হয়েছিল। অন্যের অস্ত্রাগারে অস্ত্র রেখে কোনো যোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

আমার মতে, বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে নিহত হয়েছেন, অথচ তাঁর সহকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হত্যার জন্য শত্রুপক্ষ তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। ’৭৫-এর ঘটনার প্রতিবাদ করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়, এটি একটি বানানো কথা।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

সারা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তোফায়েল আহমেদ ’৬৯ সালের তোফায়েল আহমেদ, এবং আমাদের কাছে ’৬২ সালের তোফায়েল আহমেদ। বর্তমান সময়ের কথা বললে আমরা দেখতে পাই, এখন মার্সিডিজে বা পাজেরোতে চড়েন কিন্তু সেদিন পূর্ব পাকিস্তান তোফায়েল আহমেদের হাতে ছিল, তখন আসন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামেও তাঁরা বাসে করেই টাঙ্গাইলে এসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজ যা-ই হোক, বঙ্গবন্ধু তোফায়েলের মতো একজন বড় নেতাকে পেয়েছিলেন, একজন বড় সংগঠককে পেয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর বন্ধু, কিন্তু আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিল। আমি অনেক কিছুর সাক্ষী।

একটি ঘটনা জানাই—ভোলার উপনির্বাচনে গিয়েছিলাম। সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সাতদিন মতো ছিলেন, আমি প্রায় ১৬ দিন সেখানে ছিলাম। ইসহাক আলি পান্না নামে একজন অসাধারণ ছেলেকে পেয়েছিলাম, যিনি পরে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। এই ১৫-১৬ দিনে তোফায়েল আহমেদকে অন্যরকম মানুষ হিসেবে দেখেছি, কর্মীদের থাকা-খাওয়া এবং আমাদের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়ে কোনো ক্লান্তি ছিল না। তাঁর স্ত্রীও মায়ের মতো ছিলেন। অথচ কিছু না হলেও, খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি তোফায়েল আহমেদকে মাফ করে দিয়ে বেহেশত নসিব করুন। সত্যি কথা বলতে, কষ্ট লাগে, যাঁদের জাতীয় সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই তা পাননি। তোফায়েল আহমেদও পাননি। সরকারিভাবে তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়নি, দলীয়ভাবেও অগ্রাহ্য করা হয়েছে। আমির হোসেন আমু, যিনি আজ ৯০ বছরের কাছাকাছি বয়সে, তিনি এখন জেলের মধ্যে আছেন। এমএ জলিল, যিনি একজন অসাধারণ মানুষ, তিনিও কোনো সম্মান পাননি। আজ যাঁরা আছেন, এ জাতির তাঁদের প্রতি আরও সম্মান দেখানো উচিত ছিল।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতার জানাজার পরপরই গুরুদাসপুরে প্রবাসীর শপিংমলে হামলা-লুটপাট

বীর মহাবীর হওয়ার মৃত্যু অনেকের জীবনে আসে। তবে তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর মতো মহানায়ক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও একই শ্রেণীর মহানায়ক। মানুষের মধ্যে অনেক ব্যর্থতা, ভুল এবং ভ্রান্তি থাকে। তবুও আমি মনে করি, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সকল ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে একজন সফল রাজনীতিবিদ।

অনুলিখন : কাজল আর্য, টাঙ্গাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ২ অঞ্চলে ১০ দিনের সতর্কবার্তা বিমান বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ এম


দেশের ২ অঞ্চলে ১০ দিনের সতর্কবার্তা বিমান বাহিনীর

মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার উপকূলবর্তী আকাশসীমায় তাজা গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণ মহড়া পরিচালনা করবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান। এই সময়ে চলাচলের জন্য বিমান, জাহাজ, ছোট নৌযান ও স্থানীয় জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে, যেন তাঁরা সংশ্লিষ্ট ফায়ারিং রেঞ্জ এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন।

বিমান সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন (ছুটির দিনসহ) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কুতুবদিয়া ফায়ারিং রেঞ্জ ভিজিডি-২ এবং কক্সবাজার ফায়ারিং রেঞ্জ ভিজিডি-৪৩ এলাকায় আকাশে তাজা গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণ মহড়া চলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, ভিজিডি-২ রেঞ্জের বিপজ্জনক উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ হাজার ফুট এবং ভিজিডি-৪৩ রেঞ্জের বিপজ্জনক উচ্চতা ২৬ হাজার ফুট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমায় সংশ্লিষ্ট জলসীমা ও আকাশসীমায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিমান বাহিনী পরিষ্কার করেছে, মহড়া চলাকালে বিমান, জাহাজ, ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য ছোট নৌযানকে গোলা বর্ষণের নির্ধারিত এলাকা পরিহার করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে হবে। পাশাপাশি কুতুবদিয়া দ্বীপ সংলগ্ন এলাকার জনসাধারণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে বিমান সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১ জুন) থেকে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্র এবং বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে বাংলা, ইংরেজি ও স্থানীয় সংবাদের আগে প্রতিদিন অন্তত দুইবার বিপজ্জনক এলাকার মানচিত্রসহ সতর্কতামূলক ঘোষণা প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ এম


লেবাননে ইসরাইলি হামলায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি সোমবার (১ জুন) জানিয়েছে, যদি ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি খুব সম্ভবত ভেঙে যাবে। তবে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা প্রদান করেনি।

ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলেছে। সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে হামলার নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে আবারো বাস্তুচ্যুতি শুরু হচ্ছে, যেখানে ইতোমধ্যে এই সংঘাতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগ করেছে যে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে, যা এপ্রিলের শেষে সম্পন্ন হয়েছে। নেতানিয়াহুর হামলার নির্দেশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

পূর্বে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের বেড়ে চলা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, লেবাননসহ। একটি ফ্রন্টে লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর কোনো লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’

ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফেও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো— এগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটা মূল্য আছে, আর সেই বিল শোধ করতে হয়। সবকিছু ঠিক জায়গায় পড়বে।’

এছাড়া, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইল লেবানে সেনা পাঠিয়ে আরো গভীরে ঢোকার নির্দেশ দেওয়াতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের ক্রমাগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আলোচনা স্থগিতের অন্যতম কারণ রূপে চিহ্নিত হয়েছে। দেশটিতে হামলা বন্ধের বিষয়টি যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। কিন্তু সেটি বারবার লঙ্ঘন হয়েছে। এসব বিবেচনায়, ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সকল ধরনের সংলাপ এবং খসড়া চুক্তির জন্য বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাসনিম জানিয়েছে যে, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি অভিযান বন্ধ এবং লেবাননের ভূখণ্ডের কিছু অংশ থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারসহ তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি আলোচকরা ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান’ স্থগিত রাখবেন।

ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনা হবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অন্তর্ভুক্ত ইরান এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে, যার মধ্যে একাধিক ফ্রন্টে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত বন্ধে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ এম


ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত বন্ধে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে একটি সম্মতিতে পৌঁছানোর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার দেওয়া একাধিক বক্তব্যে তিনি জানান, দুই পক্ষই হামলা বন্ধ করার ব্যাপারে রাজি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি শন্ত হতে পারে। একই সময়ে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনাও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার মাঝে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে। সেখানে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আর কোনো সেনা পাঠানো হবে না। আগে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর ইচ্ছা প্রকাশিত হলেও এখন তা থেকে ফিরে এসেছে ইসরায়েল। এমনকি যেসব সেনা ওই এলাকায় যাওয়ার পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তারা ‘সব ধরনের গুলি ও হামলা বন্ধ’ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরকে নতুন করে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের লেবাননের দূতাবাস একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

পরিকল্পনাসমূহ অনুযায়ী, প্রথম দিকে বৈরুতের দক্ষিণে হামলা বন্ধ হবে, পরবর্তী সময়ে তা পুরো লেবাননজুড়ে যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হতে পারে।

তবে এর আগে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছে।

একই দিনে ট্রাম্প ভিন্ন এক সুরে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে গেলেও তার তেমন উদ্বেগ নেই। তবে পরে তিনি জানান, আলাপ-আলোচনা এখনো চলছে এবং দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখছে ইরান

যুদ্ধে বিরতি নিয়ে চলমান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান স্থগিত ঘোষণা করতে যাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযানের ঘোষণা উল্লেখযোগ্য। রয়টার্স এবং আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইরান এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তাসনিমের প্রতিবেদনের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা ইতোমধ্যে ইরানের আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ শান্তি আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইরান পালটা হামলার কথা বলেছে। এর মধ্যে এবার তেহরানের কাছ থেকে আলোচনা বন্ধ রাখার ঘোষণা এসেছে।

তাসনিমের প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে।

মার্কিন হামলা এবং পালটা আঘাতের প্রচারিত খবর অনুযায়ী, ইরান গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন সাইটগুলোতে 'আত্মরক্ষামূলক হামলা' চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি ইরানের 'আগ্রাসী পদক্ষেপের' জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি আত্মঘাতী অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করেছে; যা ওই অঞ্চলের জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য স্পষ্ট হুমকি তৈরি করছিল।

এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজে জানানো হয়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগন প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে হামলার পর পালটা আঘাত হেনেছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন হামলায় ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পালটা হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসির বরাতে বলা হয়েছে, 'হরমুজগন প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ার মার্কিন সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছিল, এরপর আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়ে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করেছে।'

তবে আইআরজিসি থেকে সেই মার্কিন সামরিক স্থাপনা বা বিমানঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। প্রাক্কালে, কুয়েতে সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া যায়, বুধবার দেশজুড়ে সাইরেনের আওয়াজ শোনা গিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%