০২:১৭ পি.এম
টালিউড তারকা জিৎ অভিনেতা হিসেবে একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না। তিনি মনে করেন, ‘সুপারস্টার’ ইমেজের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার সুযোগ পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিজের প্রায় ৬০তম সিনেমায় তিনি একসঙ্গে নয়টি চরিত্রে অভিনয় করে সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
সম্প্রতি ভারতীয় পত্রিকা ‘এই সময়’কে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন জিৎ। তাঁর নতুন সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এ নয়টি ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সিনেমার গল্প প্রথমবার শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিনেতা বলেন, গল্প এবং ইতিহাস সবসময়ই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনন্ত সিংহের জীবনের গল্প তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। এত বিস্তারিতভাবে তাঁর গল্পকে এর আগে কেউ বলেনি বলেও জানান জিৎ।
নয়টি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘ। জিৎ জানান, প্রতিটি চরিত্রকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করেছেন। চরিত্রগুলোর স্কেচ তিনি তৈরি করেছেন বাড়ি ও অফিসে বসে। পুরো স্ক্রিপ্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছে। চরিত্রভেদে মেকআপ ও লুক তৈরিতে এক থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় প্রয়োজন পড়েছে।
আরও পড়ুন: নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের ওপর হামলা, দেশি অস্ত্রসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
এই কাজের জন্য মেকআপে ছিলেন সোমনাথ কুণ্ডু এবং কস্টিউমে সঞ্চিতা ঘটক আচার্য। জিৎ বলেন, প্রতিটি চরিত্রকে তার নিজস্বভাবে আলাদা করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন, যাতে দর্শকের মনে হয় তাঁরা একজন অভিনেতার নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন মানুষের গল্প দেখছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত ছবির নতুন লুক সম্পর্কেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট জিৎ। তাঁর কাছে একই ধরনের প্রশংসার চেয়ে নতুন কিছু করে দর্শকের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এর কাজেও তিনি এমন অভিজ্ঞতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিছু কাজ নিয়ে আফসোস রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন জিৎ। তাঁর ভাষ্য, কিছু সময় পরে ফিরে তাকালে মনে হয় কিছু কাজ আলাদাভাবে করা যেত। তবে নিজের প্রায় ৬০তম ছবিতে এসে তিনি এখনও অনেক ধরনের চরিত্র করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন।
‘সুপারস্টার’ পরিচয় কখনো চরিত্র নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জিৎ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বেশি ভাবেন না। তাঁর কাছে চরিত্রটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত ইমেজের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে অভিনেতা হিসেবে তিনি বেশ গুরুত্ব দেন।
আরও পড়ুন: প্রধান বিচারপতিকে এসআরএফের চিঠি, আপিল বিভাগে সংবাদ সংগ্রহের দ্বার উন্মুক্ত করতে আহ্বান
নিজেকে অভিনেতা হিসেবে আরও ভিন্নভাবে ব্যবহার করা যেত কি না, সেই প্রসঙ্গে জিৎ বলেন, কিছু জায়গায় ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুযোগ হারিয়েছে। এর দায় শুধু অভিনেতার নয়; নির্মাতা, লেখক এবং সমগ্র ইন্ডাস্ট্রিরও রয়েছে। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নতির সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্পর্কিত। কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং মানুষের আয় সবকিছুর প্রভাব চলচ্চিত্রশিল্পের ওপর পড়ে।
প্রায় দুই বছর পর নতুন ছবির মাধ্যমে দর্শকের সামনে ফিরছেন জিৎ। তিনি এই ছবিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ বিরতির কারণে দর্শকদের মধ্যে নতুন কাজ নিয়ে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। নয়টি চরিত্রের মাধ্যমে সেই অপেক্ষা এবং শূন্যতা পূরণ করতে চান তিনি।
আগামী ১৫ আগস্ট ছবিটি মুক্তির বিষয়ে আশাবাদী জিৎ। তাঁর মতে, স্বাধীনতা দিবসের সময়ের ইতিবাচক আবহ ছবির জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি পুজোর সময়েও ছবির মুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। তাঁর মতে, এটি একটি উন্মুক্ত বাজার; সিনেমার জন্য উপযুক্ত মনে হলে যেকোনো সময় মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
সাক্ষাৎকারে নিজের পুজোর স্মৃতিও ভাগ করেন জিৎ। ছোটবেলায় নতুন জামাকাপড় কেনা, আত্মীয়দের পোশাক দেওয়া এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে রয়েছে। এখন ব্যস্ততার কারণে সব সময় পরিবারের সঙ্গে পুজোয় বের হতে না পারলেও পরিবারের ছোটদের আনন্দ করতে দেখে ভালোবেসে থাকেন তিনি।
আরও পড়ুন: সালমান খানের মৃত্যুর গুজব, বলিউডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে
সুপারস্টার হওয়ার পর স্বাভাবিক জীবনের কিছু বিষয় বদলে গেলেও তা নিয়ে তাঁর তেমন আফসোস নেই। বরং যে স্বপ্নের পেছনে ছুটে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন, সেই জীবন উপভোগ করতে চান জিৎ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন