০৩:২৪ পি.এম
৩৩ বছর আগে প্রয়াত আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী চিন্ময়ানন্দ। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সঙ্গে কথোপকথন করেছেন। এই কথোপকথনের পেছনে রয়েছে ‘হলোবট’। কিন্তু এটি আসলে কী?
চিন্ময় মিশন স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার বা ‘হলোবট’ তৈরি করেছে। মোদির সঙ্গে সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, এ আমার সৌভাগ্য। এখন যে কাজগুলো করতে চাই, তার জন্য আপনার আশীর্বাদ চাইছি।’ স্বামী চিন্ময়ানন্দের হলোবট প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করে। ১৯৯৩ সালে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনার কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে প্রযুক্তিটি।
সেই বছর শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মোদি গুজরাটের ভদোদরায় গিয়ে স্বামী চিন্ময়ানন্দকে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই প্রসঙ্গ টেনে চিন্ময়ানন্দের হলোবট বলে, ‘সেই সময়ে আমি জানিয়েছিলাম, বয়সের কারণে এত বড় দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য অন্য হিন্দু যুবকদের এগিয়ে আসা উচিত।’
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এরপর হলোবট মোদির উদ্দেশে বলে ওঠে, ‘১৯৯৩-এ যে ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, আজ তিনিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী।’ সঙ্গে সতর্ক করে হলোবট বলে, ‘প্রধানমন্ত্রীজি, মনে রাখবেন, শিখরে থাকা মানুষ একা হন।’ শ্রীখণ্ড খাওয়ার পরামর্শও দেয় চিন্ময়ানন্দের হলোগ্রাফিক অবতার। শেষে বলে ওঠে, ‘গোটা ভারত আপনার সঙ্গে রয়েছে নরেন্দ্র।’
এই অভিজ্ঞতার জন্য মোদি চিন্ময় মিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘হলোবটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন অতীতে ফিরে গেছি।’
হলোবট হলো হলোগ্রাম প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি কোনো ব্যক্তির ত্রিমাত্রিক অবয়ব। গোটা ব্যাপারটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, দেখলে মনে হয় তিনি যেন সামনেই বসে আছেন। ভয়েস রেকর্ডিং আগে থেকেই থাকে। ভিডিও এবং অঙ্গভঙ্গির সমন্বয়ে অবয়বটিকে কথা বলতে বা নড়াচড়াও করতে দেখা যায়। আর প্রশ্নের উত্তর দেয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন