০৭:৩৫ পি.এম
এমপি হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
রাজনীতিতে দলের সিদ্ধান্ত এবং সাংবিধানিক আইনি কাঠামোর মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, তা নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, যদি দল নিজেই কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করে, তবে কি তার আসনটি শূন্য হয়ে যাবে?
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর নতুন করে সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটি নিয়ে আলোচনা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের খোরাক হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলের ওপর নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: জাপান ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানে ‘পদত্যাগ’ ও ‘দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া’—এই দুটি শর্ত খুব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু দল থেকে ‘বহিষ্কার’ হলে পদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা উল্লেখ নেই। এই অস্পষ্টতার সুযোগেই অতীতে বিভিন্ন সংসদ সদস্য বহিষ্কৃত হওয়ার পরও পুরো মেয়াদ পূর্ণ করার সুযোগ পেয়েছেন।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে গোলাম মাওলা রনির সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল এবং তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ মেয়াদের স্বাভাবিক সমাপ্তি টানেন।
সাম্প্রতিক সময়ের দলীয় বহিষ্কার ও সংসদ সদস্য পদের টানাপোড়েনে দুটি ঘটনার আলোচনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ: ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনি শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ফলে ইসির কোনো আইনি আদেশে নয়, নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগের মাধ্যমে তার আসন শূন্য হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইশরাকের মতো ত্যাগীদের পদত্যাগ হলে হাইব্রিডরা বিএনপির ক্ষতি করলেও টু শব্দ হয় না: জুমা
ডা. মুরাদ হাসানের পদে বহাল থাকা: ২০২১ সালে ফোনকল কেলেঙ্কারির পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদটি ছাড়তে হয় ডা. মুরাদ হাসানকে। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগও তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়। কিন্তু সংবিধানে সরাসরি বহিষ্কারে পদ বাতিলের বাধ্যবাধকতা না থাকায় এবং মুরাদ হাসান নিজে পদত্যাগ না করায় তার সংসদ সদস্য পদে কোনো প্রভাব পড়েনি।
এ কারণে ২০১৮ থেকে ২০২৪ মেয়াদের পুরো সময়ে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।
ফলে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্ত যত কঠোরই হোক না কেন, কোনো সংসদ সদস্য নিজে পদত্যাগ না করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট না দিলে, কেবল বহিষ্কারের অজুহাতে তার সংসদ পদ বাতিল করা আইনত খুব জটিল।
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
