বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চীনা দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ঢাকার চীনা দূতাবাসে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী চীন বাংলাদেশে জে-১০ সিই ফাইটার জেট বিক্রি করছে এবং এ সম্পর্কে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সফরও হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য প্রশ্ন করা হয়।
এছাড়া যৌথ ইশতেহারের একটি ধারার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়ায় প্রশ্ন করা হয়, সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে, এটি কি জাপানকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে কিনা?
প্রশ্নের উত্তরে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে যৌথ ইশতেহারে উভয় পক্ষ মতবিনিময়, উঁচু পর্যায়ের সফর এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, তাই বলা যায়, দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও এর একটি অংশ। তবে নির্দিষ্ট কোনো ক্রয় প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে তিনি নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে বুঝবেন, আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’
তবে তিনি আরও যোগ করেন, ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়ের স্তরে সম্পর্ক উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ সব ক্ষেত্রে আরও বেশি সহযোগিতা দেখতে পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। তাঁর মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এশিয়া ও বিশ্বের সকল মানুষের জন্য একটি সাধারণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, কিছু পরিস্থিতি বর্তমান সময়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন ও বাংলাদেশের যৌথ বার্তা হলো বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তাঁর বিশ্বাস, যৌথ ইশতেহারে মূলত এই বার্তাই প্রতিফলিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত ওই শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর।
সুত্র অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ১৫ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ সময় সন্দেহজনক কেস নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন রোগী। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের ৪১ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ১৭ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের ২০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন এবং রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৬৫ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ৮০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ৪ জন মারা গেছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে (সন্দেহজনক ৩৬, নিশ্চিত ১)। এরপর সিলেট জেলায় ৩০ জন (সন্দেহজনক ২৮, নিশ্চিত ২), মৌলভীবাজার জেলায় ১১ জন (সন্দেহজনক ১০, নিশ্চিত ১) এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে গ্রামীণ রাস্তা নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে সংস্কার করে এলাকার মানুষের মাঝে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় সমাজসেবক আলহাজ্ব বাদল তালুকদার। তার এই মহতী উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন গ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের সমিতির হাট থেকে মহরদ্দিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়কের মধ্যে হাবি কাজীর বাড়ির সামনে একশো মিটার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের সমিতির হাট থেকে মহরদ্দিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির মধ্যে হাবি কাজীর বাড়ির সামনে ১০০ মিটার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
গ্রামবাসীর এই চরম দুর্ভোগ দেখে এগিয়ে আসেন এলাকার সুপরিচিত সমাজসেবক বাদল তালুকদার। তিনি কারও অনুদান বা সরকারি তহবিলের অপেক্ষা না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সামগ্রী (ইট, বালু, খোয়া) এনে রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী ওসমান বলেন, রাস্তাটির জন্য আমাদের কষ্টের সীমা ছিল না। একটু বৃষ্টি রাস্তায় পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো, রিকশা-ভ্যান ভেতরে আসতে চাইত না। সমাজসেবক বাদল ভাই নিজ খরচে আমাদের রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবক আলহাজ্ব বাদল তালুকদার বলেন, "আমি কোনো প্রশংসা বা প্রচারের জন্য এটি করিনি। প্রতিদিন চোখের সামনে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে আর অসুস্থ মানুষকে এই রাস্তায় কষ্ট পেতে দেখতাম। বিবেকের তাড়না থেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি চলাচলের যোগ্য করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমাদের সবারই উচিত শুধু সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসা।"
রাস্তাটি সংস্কারের পর এলাকায় আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্থানীয় তরুণ ও সাধারণ মানুষ এই সমাজসেবকের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে নিজ নিজ এলাকার জনদুর্ভোগে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর চিত্র দ্রুত বদলে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২২ জন গ্রেফতার হয়েছেন। একই সময়ে ৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, রমনা বিভাগ থেকে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ১৯ জন, ওয়ায়ী বিভাগ থেকে ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮২ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৯৬ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৪ জন এবং গোয়েন্দা পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে।
এ সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ কেজি ৩৫৫ গ্রাম গাঁজা, ১০ হাজার ৫২৪ পিস ইয়াবা, ৫৩ গ্রাম হেরোইন, একটি শটগান, একটি ছুরি, একটি রড, একটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি হেক্সো ব্লেড, একটি ল্যাপটপ, একটি এসএসডি, ১৫টি মোবাইল ফোন, ১৬০টি সিম কার্ড, একটি প্রাইভেটকার, একটি ট্রাক, একটি স্কুল ব্যাগ এবং নগদ ২ হাজার ৮৮০ টাকা।
তিনি আরো জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের কর্মী নজরুল মেম্বারকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। আটক নজরুল মেম্বার দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত আমির হামজা বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ২টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে নজরুল মেম্বারকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করার পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ