বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪২ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দেশে আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হবে। আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের পর অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পর্যায়ে লেনদেনের খরচ কমানোর জন্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট ও ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নিরাপদ, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য এটি অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই দেশের একক আন্তঃসংযোগযোগ্য কিউআর পেমেন্ট মান হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক মূল্য ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, ১ জুলাই থেকে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণমূলক সহজীকরণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করেছে। পাশাপাশি বাংলা কিউআরের কার্যকারিতা, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটির পাশাপাশি গভর্নরকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করছে।
মার্চেন্টের হিসাবে তাৎক্ষণিক টাকা:
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে।
ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এতে বাংলা কিউআর ব্যবহারে মার্চেন্টদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কমছে লেনদেনের খরচ:
আগামীকাল থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের জন্য বিনা চার্জে অথবা স্বল্প চার্জে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।
২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা:
বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আগামীকাল থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। সব মার্চেন্ট পয়েন্টে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন:
বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর চালু হবে। এর ফলে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃসংযোগযোগ্যভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
এর মাধ্যমে শুধু মার্চেন্ট পর্যায়ে পেমেন্ট নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগযোগ্য অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যর্থ লেনদেনে দ্রুত অর্থ ফেরত:
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে বাংলা কিউআর লেনদেন ব্যর্থ হলে গ্রাহকের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বা দ্রুততম সময়ে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
লেনদেন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগের ফলে দেশজুড়ে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়বে এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের পর থেকে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন নামকরণ ট্রাম্প নিজেই করেছেন।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্সের যুগের সূচনা’ শিরোনামের এই নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন যতটা অনুমতি দেয়, সরকারি কাজে ‘এআই’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
নির্দেশনার অধীনে, ফেডারেল সরকারের সব বিভাগ ও সংস্থাকে তাদের সরকারি চিঠিপত্র, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং নীতিমালার নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি নথি ও যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য নতুন পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই নির্দেশনার কারণে আগের সরকারি নিয়ম, চুক্তি, অনুদান বা পুরোনো নথিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ নতুন এই পরিভাষা পূর্ববর্তী নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের কারণও নির্বাহী আদেশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। বর্তমানে এর সক্ষমতা প্রচলিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক এআই প্রযুক্তি শুধু মানুষের বুদ্ধিমত্তার কিছু কাজ অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করে না, বরং এটি মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই সরকারি কাজে ব্যবহৃত পরিভাষাতেও এই নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরা উচিত বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপাতত দেশটির আইনে থাকা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সংজ্ঞাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। এই সংজ্ঞা মার্কিন আইনের ১৫ নম্বর শিরোনামে রয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর জন্য নতুন একটি সরকারি সংজ্ঞা তৈরির প্রস্তাব কংগ্রেসে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশও করতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। এতে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিকে মানবজাতির জন্য একটি অভূতপূর্ব নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয়—সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড়। এটি ইন্টারনেটের চেয়েও অনেক বড়। এটি আমাদের দেশের জন্য এক অসাধারণ অগ্রগতি।’
বৈঠকের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি নিরাপদে উন্নয়নের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘আমরা আমেরিকার জনগণ ও আমাদের গ্রাহকদের এই নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, প্রযুক্তিটি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবে।’
অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোডি বলেন, নিরাপদভাবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও বৈঠকে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে নিরাপদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জে ক্লেটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোডিং আবার শুরু হয়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর গত সপ্তাহে বন্দরে তেলবাহী জাহাজে তেল তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সউদী রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সউদী আরামকো ইয়ানবু বন্দর থেকে অক্টোবরে তেল লোডিংয়ের সময়সূচি গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইয়ানবু থেকে একটি তেলবাহী জাহাজে অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। সউদী আরব হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল। পরে ২২ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উপগ্রহচিত্রে ইয়ানবু ও এর দক্ষিণে অবস্থিত আল-মুয়াজ্জিজ টার্মিনালে তেল লোডিং শুরু হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহচিত্রে ওই দুটি টার্মিনালে প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোডিংয়ের চিত্র ধরা পড়েছে। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানিও জাহাজে তোলা হয়েছে।
বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে ইয়ানবু থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড করা হচ্ছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে।
পাইপলাইনটির দৈনিক সক্ষমতা ৭০ লাখ ব্যারেল। কেপলার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেল পরিবহনের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। তবে হামলার আগে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল যে হারে পরিবহন করা হতো, সেই পর্যায়ে ফিরতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
ইয়ানবু টার্মিনালে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে মজুত প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। হামলার পর এটিই ছিল টার্মিনালটিতে প্রথম উল্লেখযোগ্য মজুত বৃদ্ধি।
ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহে বিঘ্নের সময় পাইপলাইনটি সউদী আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে কাজ করে।
ইয়ানবুতে তেল লোডিং পুনরায় শুরু হওয়ার পাশাপাশি মিসরের সিদি কেরির টার্মিনাল থেকেও ২২ সেপ্টেম্বর অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেলের দামেও নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য ডন, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ‘সরকার দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি ডায়ালিসিস মেশিন এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি ডায়ালিসিস মেশিন বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, যেসব মেশিন আনা হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার অযোগ্য। এর ফলে শুধুমাত্র অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতকে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন, অনেক সময় মানুষ বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা মনে করে অবহেলা করে। তবে যেকোনো ধরনের বুকের ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান, তামাক, অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ভারতের বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) সংসদ সদস্য দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের একটি বৈঠক রয়েছে... আমরা তাতে অংশ নিতেই এসেছি।” তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের আসল লক্ষ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁর পুরো সফটওয়্যার টিম, যাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।” তৃণমূল প্রধান আরও জানান যে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে সম্বোধন করছেন।
সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম. এ. বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন মমতা। এক জনসভায় মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত এই ইস্যুতে যে কোনও দলের সঙ্গে জোট বাঁধতে তিনি প্রস্তুত।”
এদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে দিমাগি নকশালদের নিয়ে বৈঠক করছেন।”
কোলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব শেষ। উনি সেখানে গিয়ে দিমাগি নকশালদের সঙ্গে পরিকল্পনাসভা করছেন। আমি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আইবিকে নজর রাখতে বলব। যিনি আজাদির স্লোগান দেন, তিনি কী করতে পারেন তা সবার জানা। ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে উনি বৈঠক করছেন কি না, সেদিকে নজর রাখা দরকার। উনি এখন দিমাগি নকশালদের উপদেষ্টা।”
একই সঙ্গে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল সিপিআই(এম) ও তৃণমূলের কাছাকাছি আসা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভোটার কেলেঙ্কারির ফসল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ