১০:৩৩ এম
অস্ট্রেলিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার তদারকির জন্য একটি নতুন সরকারি দপ্তর গঠন করতে যাচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য হল, একটি দিকে এআই খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, অন্যদিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই প্রযুক্তির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
নতুন এই দপ্তরের নাম হবে ‘অফিস অব এআই’। এটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং মন্ত্রিসভার বিভাগের অধীনে পরিচালিত হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে এআই-সংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে এই দপ্তর। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বুধবার সিডনিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন।
অ্যালবানিজ তার ভাষণে উল্লেখ করবেন যে এত দিন সরকার এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও খাত আলাদাভাবে মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে পুরো প্রযুক্তি খাতকে একটি সমন্বিত নীতির আওতায় আনা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলবেন, অতীতে অস্ট্রেলিয়া যেমন ১৯২০-এর দশকে বেসামরিক বিমান চলাচল এবং ১৯৯০-এর দশকে জিনতত্ত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য সমন্বিত নীতি তৈরি করেছিল, তেমনি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও সেই ধরনের জাতীয় নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
সরকারের দাবি, নতুন এই উদ্যোগ বিশ্বে প্রথম ধরনের একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমোদন প্রক্রিয়া আরো স্পষ্ট ও সহজ হতে চলেছে। একই সঙ্গে, আইন ও নীতিমালা মেনে চলার প্রক্রিয়াও সহজ হবে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের জন্য আরো আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে বলে সরকারের আশা। অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে নিজেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় দেশ এবং তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তবে, বিশাল সংখ্যক এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এই প্রযুক্তির ওপর আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়লে অনেক মানুষের চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে olabilir। পাশাপাশি, ডেটা কেন্দ্র পরিচালনায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে।
এছাড়া, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং মেধাস্বত্ত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারকারী ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কোনো আইন নেই। দেশটি এখন পর্যন্ত গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন, ভোক্তা সুরক্ষা আইন এবং স্বেচ্ছাৱিত্তিক এআই নৈতিকতা কাঠামোর মাধ্যমে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। নতুন ‘অফিস অব এআই’ গঠনের মাধ্যমে আসন্ন দপ্তরটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাপনায় আরো সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামো সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে অস্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন: সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন