ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সরকারকে জামায়াত আমির

সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান


সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, নিজেদের ব্যর্থতার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার, যা জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর একটি প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, "সীমাহীন ব্যর্থতার দায় আপনাদেরই নিতে হবে। নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধী দলের ওপর চাপাবেন না।"

তিনি রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধে ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্যের চাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও, শুধুমাত্র পদত্যাগের মাধ্যমে অপরাধের বিচার শেষ হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

ডা. শফিকুর রহমান দেশে বৈষম্য বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে এবং বৈষম্য আরও বাড়ছে। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিরোধী দলকে দোষারূপ করার বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন যে, সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "সরকারের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিরোধীদের দোষারোপ করা হচ্ছে।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় কেন বিরোধী দলের ওপর চাপানো হবে? সরকারের ভুলত্রুটি থাকলে তা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই দায়িত্বশীল আচরণ।

শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে বলেন, একদিকে সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে এসব অভিযোগ প্রতিরোধে সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের অভিযোগ থাকলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট

রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্টেশনে প্রবেশের পূর্বে যাত্রীদের শরীরে ধাতব বস্তু শনাক্ত করতে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগ ও মালামাল পরীক্ষার জন্য লাগেজ স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য গত ১৯ অক্টোবর অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই দরপত্র আহ্বান করেন।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগ্রহী ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে দরপত্র জমা দিতে হবে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা ই-জিপি পোর্টালে পাওয়া যাবে।

নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হলে মেট্রোরেল স্টেশনে প্রবেশের সময় যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল স্ক্যান করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শরীরে বহন করা ধাতব বস্তু শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে নিরাপত্তা তল্লাশির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

তবে কতটি নিরাপত্তা যন্ত্র কেনা হবে, প্রথম পর্যায়ে কোন কোন স্টেশনে এসব সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে এবং কবে থেকে যাত্রীদের নিয়মিত তল্লাশি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।

এদিকে, একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপোতে স্থাপিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আওতায় লো-ভোল্টেজ (এলভি) ব্যবস্থা, ডিজেল জেনারেটর সেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা (ইউপিএস), বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদ্যুতিক কাজের রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্রের নথি কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তির এই ধরনের অপপ্রয়াস শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ অপশক্তি বা গণহত্যাকারীদের দেওয়া হবে না।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা শুনেছি যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে চান। তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমাদের প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং এ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তির এই ধরনের অপপ্রয়াস শুরু থেকেই চলমান। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না কোনো অপশক্তিকে, পতিত শক্তিকে, ফ্যাসিস্টকে, পলাতক অপরাধীকে কিংবা গণহত্যাকারীকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং দেশের শত শত নাগরিককে হত্যা করেছে, তাদের কোনো অপতৎপরতা বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে লংমার্চ-রোডমার্চের অস্তিত্ব থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে লংমার্চ-রোডমার্চের অস্তিত্ব থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে আর লংমার্চ বা রোডমার্চের অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর দাবি হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় গোলাম পরওয়ার এই কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে, ফলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধনের নামে জুলাই সনদের সাথে বেইমানি করছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। গণভোটের মাধ্যমে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার ১ কোটি লোককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে উল্টোটা হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান নেই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ। আইন এবং শৃঙ্খলা উভয়ই নেই। সরকারে যারা আছেন তারা বিচার পাচ্ছেন, কিন্তু যারা সরকারে নেই তারা বিচার পাচ্ছেন না। তিনি ব্যাংকগুলো বন্ধ না করে চালুর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

জামায়াত নেতা বলেন, প্রবাসে যারা আছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ভূমিকা রাখছে না। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। কিছু এমপি তাদের এলাকায় কোনো ভূমিকা রাখছেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ১১ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


৯ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ১১ জন

বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু পুরো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১১ জন। পিরোজপুরের নাজিরপুরের পল্লীমঙ্গল বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা এবং স্থানীয়রা, যদিও সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ বেতন-ভাতায় খরচ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস সময় কাটান এবং হাজিরা খাতায় কাল্পনিক শিক্ষার্থীর নাম লিখে সরকারি অর্থের অপচয় করেন। ১৯৯৫ সালে শিকদারমল্লিক ডাকঘরের অধীনে নৈলতলা এলাকায় পূর্ণশ্রী রায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন দশক পরও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কেবল কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। তবে সাংবাদিকদের আগমনের খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক জ্যোতি প্রকাশ রায় লাইব্রেরিতে হাজির হন। অন্য শিক্ষকদেরও শ্রেণিকক্ষে পাওয়া যায়নি এবং তাদেরকে লাইব্রেরিতে অলস আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন ৩৫ জন। কিন্তু হাজিরা খাতায় ২২ জনের নাম পাওয়া যায় এবং শ্রেণিকক্ষে ঘুরে দেখা যায় মাত্র ১১ জন ছাত্রী। ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর ভাষ্য, ‘আমাদের ক্লাসে মোট ৯ জন ছাত্রী। আমি সবার নামও বলতে পারি, কিন্তু আজ ক্লাসে আসছি মাত্র পাঁচজন।’ অথচ হাজিরা খাতায় নাম আটজনের।

সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে উপস্থিত এক ছাত্রী জানায়, ‘বছরের শুরুতে আমাদের সঙ্গে সাতজন ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু এখন আমরা পাঁচজন আছি। প্রতিদিন এই পাঁচজনই ক্লাসে উপস্থিত থাকি।’ অষ্টম শ্রেণিতে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র একজনকে, যার ভাষ্য, ‘আমাদের ক্লাসে মাত্র চারজন ছাত্রী আছে।’ হাজিরা খাতায় দেখা যায় সাতজনের নাম, কিন্তু ওই ছাত্রী জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে ১৪ জনের বেশি ছাত্রী নেই।

নয়ন মণ্ডল নামের এক শিক্ষক বলেন, ‘স্কুলে ২২ ছাত্রী রয়েছে হাজিরা খাতায়। এখন আর আগের মতো বেশি ছাত্রী দেখানো যায় না।’ প্রধান শিক্ষক জ্যোতি প্রকাশ রায় শিক্ষকদের মন্তব্য ও হাজিরা বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এই স্কুলটি সরকারের বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ সরকারের এখানে অর্থের অপচয় হচ্ছে।’

এদিকে, বিদ্যালয়ের এমন দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, ‘শিক্ষকদের অবহেলার কারণে আজ প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা। সরকারের লাখ লাখ টাকা প্রতিমাসে বেতন হিসেবে যাচ্ছে, অথচ শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে অলস আড্ডা দিয়ে দিন পার করছেন।’

অভিভাবকরা আরও বলেন, ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে এভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা এক ধরনের অপরাধ। তারা অবিলম্বে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%