শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৬ পি.এম
দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ করে দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’
তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান, ‘আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারবো।’
আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান থাকবে। ঢাকা কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে এ সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের স্কাউটস’র সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি’র সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। এছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারাদেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, এছাড়া আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি স্কাউটস, ভলেন্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই আজকে এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি। সেটি হলো দেশ গড়ার লক্ষ্য।
তারেক রহমান বলেন, আমরা জানি কিভাবে ডেঙ্গু হয়। ভাঙ্গারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পরি পানি জমে এই ডেঙ্গু বহনকারী এসিড মসার তৈরি হয়। কাজেই আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারব।
তিনি বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দেই এখনে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলা আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জন হবে। সেখান থেকে রোগ জীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।
‘তাই আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’
তারেক রহমান বলেন, আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলছে। তাদের সচেতন করতে হবে। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, আমাদের তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি'র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ অনলাইনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশ থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) হাকিমপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে থানা কম্পাউন্ডের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থান, জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই থানা প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাকিমপুর থানা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এবং কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে মশাবাহিত এ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় কাউখালী উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কেবল কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আমরা যদি আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি এবং বাসাবাড়ির চারপাশে পানি জমতে না দিই, তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা অনেকটাই সহজ হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে দেশকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে।
কাউখালী উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) রাইসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
এসএম আহসান কবীর, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
ডাঃ সোমা সরকার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার,
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার
আব্দুল হান্নান, উপজেলা
বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ মাসুম মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক
বদরুদ্দোজা মিয়া ও সৈয়দ বাহাউদ্দিন পলিন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল কর্মসূচি উদ্বোধনের পর উপস্থিত কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একযোগে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালক সুমন সিকদার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি ও নিহতের স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কবাই ইউনিয়নের চৌমাথা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কবাই চৌমাথা থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন নিহত সুমনের মা মনোয়ারা বেগম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল হাসান, জাকির হাওলাদার ও বাবু মৃধা।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান রুবেল বলেন, “ভ্যানচালক সুমন সিকদারকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।” তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নিহত সুমনের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার দাবি, মনা তালুকদারের সঙ্গে তার ছেলের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং একপর্যায়ে মনা তার ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার বাড়ির সামনে তার ছেলে সুমনকে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, রিগান হাওলাদার, মনা তালুকদার ও আরেকজন সুমন সিকদারসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তিনি ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল আইনগত সহযোগিতাসহ তাদের পরিবারের পাশে রয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, একজন ভ্যানচালককে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নবনির্মিত বাফার সার গুদামের স্থান নির্বাচন নিয়ে খোদ উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। গুদামটি নদীপথ থেকে দূরবর্তী এলাকায় নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে সার পরিবহনে সরকারের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে বলে দাবি করেছেন দায়িত্বশীল কৃষি কর্মকর্তা।
নতুন এই বাফার গুদামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে খামারবাড়ী, বরিশালের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম জমি অধিগ্রহণ ও সার্বিক স্থান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি উক্ত সিদ্ধান্তকে 'ভুল' উল্লেখ করে কড়া সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, "সার দ্রুত সংরক্ষণ ও সুলভ পরিবহনের ক্ষেত্রে গুদামের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে মূলত নদীপথেই বড় পরিসরে সার পরিবহন করা হয়। ফলে বাফার গুদাম নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে হওয়া আবশ্যক ছিল।"
তিনি আরও জানান, নবনির্মিত এই গুদামটি নিকটস্থ নদী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর ফলে নদীপথে সার আনয়নের পর তা নৌযান থেকে নামিয়ে পুনরায় সড়কপথে গুদামে পৌঁছাতে হবে। এই অতিরিক্ত পথ ও দ্বিমুখী ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যার প্রত্যক্ষ আর্থিক চাপ পড়বে সরকারি কোষাগারের ওপর।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি গুদাম নির্মাণের পূর্বে নদীপথের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, পরিবহন খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নদী থেকে অতিরিক্ত দূরত্বের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সার সরবরাহ শৃঙ্খলে (Supply Chain) কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সচেতন মহলে জোর আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, নতুন এই বাফার গুদামের সুসংগঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুর রহমানসহ সংস্থাটির উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিসিআইসির শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতেই স্থান নির্বাচন নিয়ে কৃষি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য সমালোচনা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
জমি অধিগ্রহণের পূর্বে নদীপথের সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ব্যয়ের যৌক্তিকতা বিসিআইসি কতটুকু খতিয়ে দেখেছিল—তা এখন বড় জিজ্ঞাসার বিষয়। এ বিষয়ে বিসিআইসি বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ