প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নবনির্মিত বাফার সার গুদামের স্থান নির্বাচন নিয়ে খোদ উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। গুদামটি নদীপথ থেকে দূরবর্তী এলাকায় নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে সার পরিবহনে সরকারের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে বলে দাবি করেছেন দায়িত্বশীল কৃষি কর্মকর্তা।
নতুন এই বাফার গুদামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে খামারবাড়ী, বরিশালের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম জমি অধিগ্রহণ ও সার্বিক স্থান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি উক্ত সিদ্ধান্তকে 'ভুল' উল্লেখ করে কড়া সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, "সার দ্রুত সংরক্ষণ ও সুলভ পরিবহনের ক্ষেত্রে গুদামের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে মূলত নদীপথেই বড় পরিসরে সার পরিবহন করা হয়। ফলে বাফার গুদাম নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে হওয়া আবশ্যক ছিল।"
তিনি আরও জানান, নবনির্মিত এই গুদামটি নিকটস্থ নদী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর ফলে নদীপথে সার আনয়নের পর তা নৌযান থেকে নামিয়ে পুনরায় সড়কপথে গুদামে পৌঁছাতে হবে। এই অতিরিক্ত পথ ও দ্বিমুখী ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যার প্রত্যক্ষ আর্থিক চাপ পড়বে সরকারি কোষাগারের ওপর।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি গুদাম নির্মাণের পূর্বে নদীপথের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, পরিবহন খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নদী থেকে অতিরিক্ত দূরত্বের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সার সরবরাহ শৃঙ্খলে (Supply Chain) কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সচেতন মহলে জোর আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, নতুন এই বাফার গুদামের সুসংগঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুর রহমানসহ সংস্থাটির উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিসিআইসির শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতেই স্থান নির্বাচন নিয়ে কৃষি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য সমালোচনা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
জমি অধিগ্রহণের পূর্বে নদীপথের সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ব্যয়ের যৌক্তিকতা বিসিআইসি কতটুকু খতিয়ে দেখেছিল—তা এখন বড় জিজ্ঞাসার বিষয়। এ বিষয়ে বিসিআইসি বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন