০৫:৩৮ এম
মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে এবং তার বহুদিনের লালিত একটি স্বপ্ন পূরণ করতে পোল্যান্ডপ্রবাসী ওয়াসিম মুন্সি ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিদেশে ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের পর, তিনি দেশে ফিরে সড়কপথে নয়, শুক্রবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে তার মাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ গ্রামের দিকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নন্দিরচরে পৌঁছান। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের ফলে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুরো গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
স্বভাবতই, নন্দিরচর গ্রামের বাসিন্দা কাদের মুন্সির ছেলে ওয়াসিম মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে পোল্যান্ডে বসবাস করছেন। পোল্যান্ডে তিনি সফলভাবে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও, মায়ের একটি স্বপ্ন তিনি ভুলে যাননি। দেশে ফিরে এসে, তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর, ওয়াসিম মুন্সি তার মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যেই মুহূর্তে হেলিকপ্টারটি নন্দিরচরের আকাশে উড়তে দেখা যায়, তখন থেকে উশুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। শুধু গ্রামের মানুষই নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও শত শত মানুষ এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে ছুটে আসে।
আরও পড়ুন: খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর
হেলিকপ্টারটি অবতরণের পর পুরো এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে, সবচেয়ে আবেগপূর্ণ মুহূর্ত ছিল একজন মায়ের মুখে ফুটে ওঠা তৃপ্তির হাসি। সন্তানের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা ও সম্মানে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।
ওয়াসিম মুন্সি মায়ের পাশাপাশি বাবা কাদের মুন্সি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসজীবনের সাফল্যের প্রকাশের পাশাপাশি, বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার এক অনন্য নজির ফুটে ওঠে।
স্থানীয় জনগণের মতে, বিদেশে গিয়ে অনেকেই সফল হয়, কিন্তু বাবা-মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে নিয়ে তা পূরণ করতে এমন উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। তারা মনে করেন, ওয়াসিম মুন্সির এই আয়োজন কেবল একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ ও মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিদেশ থেকে অনেকেই সফল হন, কিন্তু মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে দেখতে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা খুব কম। ওয়াসিমের এই উদ্যোগ আমাদের সবার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের
আরেক গ্রামবাসী জানান, হেলিকপ্টারে মানুষ গ্রামে আসতে দেখেছি, কিন্তু শুধুমাত্র মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। এটি আমাদের সবার হৃদয়ে একটি প্রভাব ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন