০৯:৩১ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কুড়িগ্রাম জেলার নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী নেতাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় সর্বাধিক উচ্চারিত নামগুলোর একটি হল বর্তমান জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান (রানা)।
আতিকুর রহমান রানা কুড়িগ্রামের প্রয়াত যুবদল নেতা মরহুম রায়হান কবীরের ছোট ভাই। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রদল থেকে যুবদল—এ সময়ের প্রতিটি ধাপে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে জেলার বহু নেতা-কর্মীর কাছে তিনি একজন পরীক্ষিত, গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ২০০১ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন আতিকুর রহমান রানা। পরে কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত মুখ।
দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে আতিকুর রহমান রানাকে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব তৈরিতে এবং তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস।
জীবনবৃত্তান্তে আতিকুর রহমান রানা বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুবদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। দল যদি তার ওপর আস্থা রাখে, তবে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলকে একটি আদর্শিক, সুসংগঠিত ও কর্মীবান্ধব সংগঠনে পরিণত করতে কাজ করবেন।
এদিকে, তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদল আরও ঐক্যবদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সভাপতি মরহুম রায়হান কবীর, যিনি ২০১৭ সালে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের আগে থেকেই বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে কুড়িগ্রাম জেলা 'র প্রধান সেপাহসালার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর দেশ নায়ক তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠানে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বরণের কয়েক ঘন্টা আগেই মৃত্যুবরণ করেন।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন