বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন মাদরাসার ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও কারণ দর্শানোর নোটিশে তাদের এমপিও স্থগিত, ইনডেক্স কর্তনসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি খাইরুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.২ (ক) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনায় তার যোগসাজশ এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও অযোগ্যতার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
এ নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও শোকজ করা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চরআইচা রাব্বানিয়া আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার এমপিও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কিনা, তা যাচাই করছে অধিদপ্তর।
নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তার নিয়োগ তৎকালীন এমপিও জনবল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ কারণে প্রথম এমপিওভুক্তি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি অর্থে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তার এমপিও বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই মাদরাসার প্রভাষক হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারি কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অধিদপ্তরের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তার এমপিও স্থগিতের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এমপিও নেওয়ার অভিযোগে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিবেদনে তাদের নিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর অধিদপ্তর থেকে ইনডেক্স কর্তনের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিবাদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের ১৬তম নিবন্ধন এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক লুৎফুন নাহারের ১৩তম নিবন্ধন সনদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এমপিও ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর জান্নাতুল উলুম আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ী প্রধান শামিমা নাছরিনের ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন সনদও ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে এনটিআরসিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
নোটিশে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থলেট ভিলেজের অভাবের কারণে অস্থায়ী কাঠের কক্ষ ও হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংকটের মতো বিভিন্ন সমস্যার জন্য ক্রীড়াবিদদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন নাগোয়ার মেয়র ইচিরো হিরোসাওয়া। এশিয়ান গেমসে একের পর এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
এশিয়ান গেমসের আয়োজনের সময় মানবিক ভুল এবং জাতীয় দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল বলে বুধবার স্বীকার করেন নাগোয়া শহরের মেয়র। তিনি জানান, গেমসের আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু ভুল হয়েছে, যা নিয়ে আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
১৭ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর, যা অলিম্পিকের চেয়েও বেশি। তবে শুরু থেকেই আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের। স্থানীয় আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণে কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে।
মেয়র হিরোসাওয়া বলেন, "এসব ভোগান্তির শিকার ক্রীড়াবিদ ও অন্যদের কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।" তিনি জানান, আয়োজনে যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
এবারের এশিয়ান গেমসে খরচ কমানোর লক্ষ্যে আগের আসরের মতো আলাদা কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ রাখা হয়নি। ক্রীড়াবিদদের জন্য অস্থায়ী কাঠের ইউনিট, একটি ক্রুজ জাহাজ এবং বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অস্থায়ী কক্ষ নিয়ে কিছু দলের অভিযোগ রয়েছে; এমনকি কোথাও কোথাও বিছানা ক্রীড়াবিদদের জন্য যথেষ্ট লম্বা নয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন ব্যবস্থাতেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রীড়াবিদদের জন্য নির্ধারিত বাস সময়মতো না চলা, একেবারেই না আসা কিংবা ভুল ভেন্যুতে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। গেমস শুরুর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর নাগোয়ায় পৌঁছানো কিছু ক্রীড়াবিদকে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে।
এর আগে, উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত ভুল করে বাজিয়ে দেওয়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও ক্ষমা চেয়েছিল স্থানীয় আয়োজকরা।
নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এবারের এশিয়ান গেমস রোববার শেষ হওয়ার কথা। শেষ পর্যায়ে এসে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসব সমস্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করা হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার বিমান হামলার ফলে বুধবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের অঞ্চলে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, সাতজন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে যে, রাজধানী কিয়েভে হামলার ফলে দুজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এই হামলায় ব্যক্তিগত বাড়ি, একটি দোকান এবং একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন যে, এলাকায় রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এই হামলায় অবকাঠামো, বাড়িঘর, গুদাম এবং গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়া ও পোল্যান্ড, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সদস্য, রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার প্রেক্ষিতে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় সামরিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ব্যক্তিগত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামারা অঞ্চলটি তেল উৎপাদন ও পরিশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে সড়কপথে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-তে এই তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঝালকাঠিতে আমড়ার হাট বাজার জমে উঠেছে। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে বর্তমানে তাজা আমড়ার বিপুল সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মতে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় আমড়ার চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এই বছর ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫শ’ ৯০ (৪৫৯০) মেট্রিক টন আমড়া। বর্তমানে এর বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ করা হয়েছিল, যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ (৪০৭০) মেট্রিক টন। দুই বছরের মধ্যে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।
বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার জন্য দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে। সুস্বাদু এই ফলের অধিকাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই আমড়ার বেচাকেনা চলে। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে পুষ্টিকর এই ফল সরবরাহ করা হয়। চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর জেলায় আমড়ার আবাদ বাড়ছে। এই বছর আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে ১ হাজার থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে আমড়া কিনছেন।
আমড়া চাষী ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও রঙ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। এজন্য প্রতি মণ আমড়া ১ হাজার থেকে ১৬’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
আমড়া চাষী অনিমেষ হালদার জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ করেছেন। মৌসুমি ফল হিসেবে এবছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে ৪ হাজার টাকার আমড়া পাওয়া যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সর্বমোট ৬ বিঘা জমি থেকে ৬ লাখ টাকা অর্জন হবে।
কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার বাসস’কে জানান, পেয়ারা চাষে বর্তমানে লাভ নেই। এবছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারা ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার অ্যানথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিন গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিকের খরচ ৭শ’ টাকা, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় ৪শ’ টাকায়। এরচেয়ে জমিতে আমড়ার চাষ করলে লাভ বেশি হয়। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০/১২টি গাছের আমড়া নামাতে পারে। প্রতিদিন আমড়া নামাতে হয় না, পরিপক্ক হলে একদিনেই সব নামানো সম্ভব। তাছাড়া একটি বাতাবী লেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।
স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান খান বলেন, ‘ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষীদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতিমণ আমড়াতে ২শ’ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ বাদে একশ’ টাকা লাভ হয়।’
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসস’কে বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছরই আমড়ার আবাদ বাড়ছে। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুব সমাজের জন্য ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে আমড়া একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘কাকরোচ আন্দোলন’ একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক আন্দোলন দেশটির নির্বাচন কমিশনের দিকে লক্ষ্য করে।
বিরোধী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে এই বিক্ষোভ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
একটি সংবাদপত্রের অনুসন্ধানে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর, ভারতের তরুণভিত্তিক ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্ভবত কমিশনের বাকি দুই সদস্যের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ, বাদ দেওয়া, পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে একটি আপত্তিতে কমিশনার সান্ধু অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন দুই কমিশনারের লিখিত পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজ করেছে, যা সম্পূর্ণ “অনুমোদনহীন এবং বেআইনি”।
তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত অভিযোগগুলোতে ঘটনার কেবল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাকরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে “ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানান।
ডিপক হুঁশিয়ারি দেন যে, শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে মুম্বাই থেকে শুরু করে সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করা হবে। তবে ডিপকের বেঁধে দেওয়া শনিবারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগ করেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
পরবর্তীতে মুম্বাই পুলিশ ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি না দিলে, অভিজিৎ ডিপক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তাঁর সমর্থকদের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা না মেনে গণগ্রেপ্তার বরণ করার আহ্বান জানান। এরপরই শুক্রবার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সরব বিরোধী জোট
সিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের কড়া সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো।
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন তা কোনো দেশদ্রোহের চেয়ে কম নয়”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “যদি বাকি দুই কমিশনারের অজ্ঞাতে বা অনুমোদন ছাড়া এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে... তবে সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং পুরো এসআইআর প্রক্রিয়াই আইনত অবৈধ”।
বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, নির্বাচনে সুবিধা পাইয়ে দিতে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাথে যোগসাজশে ভোটার তালিকা ম্যানিপুলেট করেছে—যদিও কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকা এই কাকরোচ আন্দোলন গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের তুমুল রাজপথের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল।
বর্তমানে এই গোষ্ঠীটি প্রধানত তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে:
১. মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।
২. এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা, আসন্ন সমস্ত নির্বাচন স্থগিত রাখা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করা।
৩. বাদ পড়া কোটি কোটি ভোটারের নাম একটি স্বাধীন পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনর্বহাল করা।
সিভিল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট অমৃতা জোহরি ডয়চে ভেলেকে (ডিডব্লিউ) বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করার পেছনে এসআইআর প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও জনসাধারণের উদ্বেগের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা জনপরামর্শ ছাড়াই যেভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং এতে দুই কমিশনারের ধারাবাহিক আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তা জনআস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুধীন্দ্র কুলকার্নি এই আন্দোলনকে একক কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের চেয়েও একটি বলিষ্ঠ ‘প্রেসার গ্রুপ’ (চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী) হিসেবে দেখছেন। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, “সিজেপি-র জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়া কঠিন। এটি আপাতত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তাদের বিরোধী জোটের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে”।
তবে রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও বিশ্লেষক রাধিকা রামাসেশন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, “ভোটাধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের সুরক্ষার সাথে জড়িত। তরুণ সমাজ, যারা প্রথমবার ভোট দিচ্ছে, তাদের জীবনের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে। সিজেপি তাদের আন্দোলনের পরিধি বাড়ালেও মূল ইস্যুতে তাদের প্রভাব কমবে না”।
সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে?
জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় সবার দৃষ্টি এখন ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সিজেপির প্রস্তাবিত রাজপথের কর্মসূচির দিকে।
তবে শুধু আন্দোলন করে কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো সম্ভব নয়। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, একমাত্র লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের দুই কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই কেবল অসদাচরণ বা অক্ষমতার প্রমাণ সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা সম্ভব।
ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি ডয়চে ভেলেকে বলেন, “রাস্তায় আন্দোলন করে সরানোর চেয়ে আইনি পথই বেশি বাস্তবসম্মত। তিন সদস্যের কমিশনে একতরফা নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, এবং সেখানে সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে”।
নির্বাচন কমিশনের সাথে এই লড়াই তরুণদের পরিচালিত 'কাকরোচ আন্দোলনের' জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যা নির্ধারণ করবে ভারতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান কতটা সুদৃঢ় হতে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ