০২:১০ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুবিখ্যাত প্রতীকগুলির মধ্যে একটি হলো এয়ারফোর্স ওয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেখানেই আকাশপথে যান, এয়ারফোর্স ওয়ান তাকে বহন করে। এয়ারফোর্স ওয়ান কেবল একটি বিমান নয়, একে বলা হয়, উড়ন্ত হোয়াইট হাউস। এতে মজুত আছে অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, বিমানে বসেই তিনি দেশ শাসন করতে সক্ষম। বলা ভালো, তিনি বিশ্ব চালাতে পারছেন।
এয়ারফোর্স ওয়ানে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত আছে, যা আকাশে শত্রুর যেকোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। রাষ্ট্রপতি, কর্মী এবং ক্রু ছাড়া এয়ারফোর্স ওয়ানে একশরও বেশি অতিথির ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এটি সার্জিক্যাল রুমসহ জরুরি চিকিৎসার জন্য সর্বাধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জাম এবং ওষুধ মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি, আকাশে উড়তে উড়তেই রিফুয়েলিংয়েরও ব্যবস্থা রয়েছে এই এয়ারক্র্যাফটে।
বর্তমানে বোয়িং ৭৪৭-২০০ সিরিজের দুটি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকেই বিমান দুটি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বহন করে আসছে। তবে পুরোনো বিমান দুটি পরিবর্তন করে বোয়িং নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে যুক্ত করার জন্য দুটি অত্যাধুনিক বিমান নির্মাণ করছে। নতুন বিমান দুটি বহরে যুক্ত হতে অন্তত আরও দুই বছর লাগবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করাটা সহজ নয়। পুরনো বিমান আর তার ভালো লাগছে না। নতুন বোয়িংয়ের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে করতে হয়তো তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: তুর্কি পার্লামেন্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি উপস্থাপন
এ অবস্থায় মধ্যবর্তী সময়ের জন্য একটি আধুনিক বোয়িং ৭৪৭-৮ এয়ারক্র্যাফটকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার, ম্যারিল্যান্ডের বেজ অ্যান্ড্রুজে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান উদ্বোধন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমানটি ঘুরে দেখার পর, লাল গালিচা বিছানো সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে।’
নতুন বিমানটিকে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বিলাসবহুল হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেছেন, 'বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।' গত বছর কাতার রাজপরিবার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল জাম্বো জেট এই যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। ভিন্ন একটি দেশের কাছ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের উপহার নেওয়ার নৈতিক, আইনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত নানা প্রশ্নকে উপেক্ষা করেই মার্কিন বিমানবাহিনী এর এয়ারফোর্স ওয়ানে রূপান্তরের কাজ শুরু করে।
নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে আগের সুবিধাগুলির পাশাপাশি আরো আভিজাত্য, আধুনিকতা এবং বিলাসিতা যুক্ত হচ্ছে। বিমানটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি, লজিস্টিক সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর দাবি, এই বিমানে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা হয়েছে। নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে লেজের অংশে থাকা আমেরিকান পতাকা আগে থেকে কিছুটা ঢিলেঢালা। ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে একটা ঢেউয়ের ছোঁয়া দিয়েছি। আমরা সবসময় সোজা নুডলসের মতো নকশা ব্যবহার করে এসেছি, যা আমি কখনই খুব একটা পছন্দ করিনি।’
এটি এমন একটি পরিবেশ যে, এয়ারফোর্স ওয়ান সাজানোর ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুচিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যখন এই নতুন বিমান বহরে যুক্ত হবে, তখন পুরোনো বিমানগুলোর সংস্কার শেষে সেগুলো জাদুঘরে পাঠানো হবে। ১৯৯০ সাল থেকে আগের বিমান দুটি দুই জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মাইল উড়েছে। এয়ারফোর্স ওয়ানে যুক্ত হওয়ার আগে শিগগিরই নতুন বিমানটি ‘কমিশনিং ফ্লাইট’ শুরু করবে। কমিশনিং ফ্লাইটকে বিমানের পরিবর্তনের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প আশা করছেন, আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মদিনের আগেই তিনি নতুন বিমানটিতে চড়ে মাউন্ট রাশমোরে যেতে পারবেন। স্বাধীনতা দিবসের দিনে তিনি নতুন উড়ন্ত হোয়াইট হাউস নিয়ে আসল হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে চান।
আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের ৪৬ লাখ টাকা দিয়েও স্বপ্নের ইতালিতে যেতে পারেননি সোহেল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন