বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:০৩ এম
এক ব্যাগ রক্ত, অসংখ্য জীবনের আশা
রাত গভীর। হাসপাতালের করিডোরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ছোটাছুটি। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা, একটাই প্রশ্ন—“রক্ত পাওয়া যাবে তো?” ঠিক এমন অসংখ্য সংকটময় মুহূর্তে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ব্লাড ব্যাংক। প্রচারের আলো নয়, মানবতার দায়বদ্ধতাকেই শক্তি হিসেবে নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পথচলা। করোনা মহামারির দুঃসময়ে যখন রক্তের সংকটে অসহায় হয়ে পড়েছিল বহু মানুষ, তখনও থেমে থাকেনি এই সংগঠন। জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া এবং মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, হাজারো মানুষের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভের পর বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্বে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে চলছে মানবতার এই যাত্রা।
আড়াই হাজারের বেশি রক্তদান, দুই হাজারের বেশি মানুষের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং
পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের পর ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে আনুমানিক আড়াই হাজারেরও বেশি ব্যাগ রক্ত রোগীদের কাছে পৌঁছেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে রক্তদান করলেও তা সব সময় ডেটাবেজে যুক্ত হয় না। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৭০০-এর বেশি, ২০২৪ সালে ১৫০-এর বেশি, ২০২৫ সালে দুটি পৃথক ক্যাম্পেইনে ১৫০ ও ২০০-এর বেশি এবং ২০২৬ সালে দুটি বড় আয়োজনে ২৫০ ও ১৫০-এর বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। প্রতিটি আয়োজনেই রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৫০ জন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোর শহরের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা কমিউনিটিগুলোর একটি এখন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের নিয়েই গড়ে উঠেছে।
রক্তদান ছাড়িয়ে মানবিকতার বিস্তৃত পরিসর
যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম কেবল রক্ত সংগ্রহ বা রক্তদাতা ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনায় স্বাস্থ্য ও রক্তদানবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ডোনার সংবর্ধনার মতো বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আলোচনা সভার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই মানবিক মূল্যবোধ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। গত বছর থেকে নিয়মিত রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে চালু হয়েছে ‘সিলভার হার্ট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘গোল্ডেন হার্ট অ্যাওয়ার্ড’, যা নতুন প্রজন্মকে রক্তদানে আরও উৎসাহিত করছে।
একটি সংগঠন নয়, মানবতার এক অনন্য আন্দোলন
এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদে নেতৃত্ব দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রান্ত কুমার। দ্বিতীয় পরিষদে ছিলেন ফারুক হোসেন ও জুয়েল রানা, তৃতীয় পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন মাসুম বিল্লা ও মুর্তজা বশির এবং বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জসিম উদ্দীন ও সাকলায়েন মোস্তাক। তাঁদের ধারাবাহিক নেতৃত্বে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ এমন এক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি রক্তের ব্যাগ মানে শুধু চিকিৎসার উপকরণ নয়; এটি একজন মায়ের মুখে হাসি, একটি পরিবারের স্বস্তি, একটি শিশুর নতুন জীবন কিংবা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠন প্রমাণ করেছে, মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয় পদবি বা পরিচয়ে নয়; বরং নিঃস্বার্থভাবে অন্যের জীবনের জন্য এগিয়ে আসার মধ্যেই। সেই বিশ্বাস নিয়েই যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজও লিখে চলেছে মানবতার অনন্য এক ইতিহাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং আশেকে রাসূল।
১২ রবিউল আউয়াল, বুধবার সকালে জামিয়া মতিনিয়া সুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি পীরজাদা মাওলানা রিয়াজুল করিম আল-কাদরীর নেতৃত্বে জশনে জুলুছ বের হয়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জুলুছটি স্থানীয় আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুছ পরবর্তী আলোচনা সভায় ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের কর্মসূচি ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলি প্রমাণ করে যে, এ রাষ্ট্র ঈদে মিলাদুন্নবী চায়।
তিনি আরও বলেন, “যারা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করতে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মনে রাখতে হবে—সুন্নী জনতা তাদের ধর্মীয় অধিকার ও বিশ্বাসের বিষয়ে সচেতন। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, সুন্নী জনতাকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করবেন না।”
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান। তিনি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবতার কল্যাণে তাঁর শিক্ষা এবং তা দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণের আহ্বান জানান।
সভাটি পীরজাদা মাওলানা রিয়াজুল করিম আল-কাদীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আশরাফুল আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় নাসিরপুর সাহেববাড়ীর গদিনিশীন পীর আলহাজ সৈয়দ আবুল মুজাররাদ আশিক বিল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি পীরজাদা মাওলানা মুস্তাক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, পীরজাদা মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আল-কাদরী, পীরজাদা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কনা মিয়া, মাওলানা কাজী আতাউর রহমান গিলমান, পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, মুফতি খন্দকার নজরুল ইসলাম, পীরজাদা সৈয়দ আবু নৌশাদ, হাফেজ সৈয়দ জিয়াউল কামাল জাকারিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জশনে জুলুছের সময় হামদ-নাত, দরুদ-সালাম ও ধর্মীয় স্লোগানে নাসিরনগর উপজেলা সদর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সী মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সুন্নিয়াত প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
পরে মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রধান উপদেষ্টা পীরজাদা মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আল-কাদরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে রসায়ন বিভাগ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান বিজ্ঞান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> বিশ্ব
> মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন সংলাপের সমালোচনার প্রেক্ষিতে গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা মানেই আপস নয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আলোচনা মানে পশ্চাদপসরণ নয়, বরং এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি প্রতিরোধ। এই তথ্যটি আলজাজিরা থেকে প্রাপ্ত।
গালিবাফ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা দ্বারা প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের দৈনিক কায়হানে প্রকাশিত আলোচনার সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ উল্লেখ করেছেন, ‘আমাকে বলতেই হচ্ছে যে, যেকোনো যৌক্তিক পদক্ষেপ, যেকোনো কর্তৃত্বপূর্ণ সংলাপ, বা শত্রুর কাছ থেকে জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে আপস এবং নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের অর্জনকে সুসংহত করা এবং শত্রুর পরিকল্পিত গুরুতর বিপর্যয় থেকে দেশকে নিরাপদে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রের শক্তির উপকরণগুলো সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।
এছাড়া, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং আলোচক দলের প্রতিটি অর্জনকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> বিশ্বমার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক গ্রেপ্তার বন্ধ করেন।
৪৭ সদস্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের মধ্যে ৪৫ জন বুধবার নেতানিয়াহুর কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের ‘প্রাণঘাতী সহিংসতা’ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে নেতানিয়াহুকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা দমনে ইসরাইলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অপরাধী যে পক্ষেরই হোক না কেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীরে সহিংসতার ‘উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি’ ঘটেছে। এর ফলে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, বসতিস্থাপনকারীদের মসজিদে হামলার অভিযোগও উঠেছে।
চিঠিতে ২০২২ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত নয়জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেটররা এসব মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত জোরদার করার জন্যও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি এমন এক সময়ে পাঠানো হলো, যখন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইল সরকারের পশ্চিম তীর নীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কারণে দলের অনেক সদস্য ইতোমধ্যে দেশটির জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিটি যৌথভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেটর চাক শুমার এবং নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার তৈরি করেছেন। শুমার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
চিঠিতে পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক একটি প্রাণঘাতী ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে, ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দলের নিরাপত্তায় থাকা এক ইসরাইলি ব্যক্তি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ