মোঃ শরীফ উদ্দিন :ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:০৭ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং আশেকে রাসূল।
১২ রবিউল আউয়াল, বুধবার সকালে জামিয়া মতিনিয়া সুন্নীয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি পীরজাদা মাওলানা রিয়াজুল করিম আল-কাদরীর নেতৃত্বে জশনে জুলুছ বের হয়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জুলুছটি স্থানীয় আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুছ পরবর্তী আলোচনা সভায় ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের কর্মসূচি ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলি প্রমাণ করে যে, এ রাষ্ট্র ঈদে মিলাদুন্নবী চায়।
তিনি আরও বলেন, “যারা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করতে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মনে রাখতে হবে—সুন্নী জনতা তাদের ধর্মীয় অধিকার ও বিশ্বাসের বিষয়ে সচেতন। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, সুন্নী জনতাকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করবেন না।”
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান। তিনি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবতার কল্যাণে তাঁর শিক্ষা এবং তা দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণের আহ্বান জানান।
সভাটি পীরজাদা মাওলানা রিয়াজুল করিম আল-কাদীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আশরাফুল আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় নাসিরপুর সাহেববাড়ীর গদিনিশীন পীর আলহাজ সৈয়দ আবুল মুজাররাদ আশিক বিল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি পীরজাদা মাওলানা মুস্তাক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, পীরজাদা মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আল-কাদরী, পীরজাদা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কনা মিয়া, মাওলানা কাজী আতাউর রহমান গিলমান, পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, মুফতি খন্দকার নজরুল ইসলাম, পীরজাদা সৈয়দ আবু নৌশাদ, হাফেজ সৈয়দ জিয়াউল কামাল জাকারিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জশনে জুলুছের সময় হামদ-নাত, দরুদ-সালাম ও ধর্মীয় স্লোগানে নাসিরনগর উপজেলা সদর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়সী মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সুন্নিয়াত প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
পরে মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রধান উপদেষ্টা পীরজাদা মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমেদ আল-কাদরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে রসায়ন বিভাগ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান বিজ্ঞান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> বিশ্ব
> মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন সংলাপের সমালোচনার প্রেক্ষিতে গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা মানেই আপস নয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আলোচনা মানে পশ্চাদপসরণ নয়, বরং এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি প্রতিরোধ। এই তথ্যটি আলজাজিরা থেকে প্রাপ্ত।
গালিবাফ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা দ্বারা প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের দৈনিক কায়হানে প্রকাশিত আলোচনার সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ উল্লেখ করেছেন, ‘আমাকে বলতেই হচ্ছে যে, যেকোনো যৌক্তিক পদক্ষেপ, যেকোনো কর্তৃত্বপূর্ণ সংলাপ, বা শত্রুর কাছ থেকে জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে আপস এবং নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের অর্জনকে সুসংহত করা এবং শত্রুর পরিকল্পিত গুরুতর বিপর্যয় থেকে দেশকে নিরাপদে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রের শক্তির উপকরণগুলো সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।
এছাড়া, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং আলোচক দলের প্রতিটি অর্জনকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> বিশ্বমার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক গ্রেপ্তার বন্ধ করেন।
৪৭ সদস্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের মধ্যে ৪৫ জন বুধবার নেতানিয়াহুর কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের ‘প্রাণঘাতী সহিংসতা’ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে নেতানিয়াহুকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা দমনে ইসরাইলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অপরাধী যে পক্ষেরই হোক না কেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীরে সহিংসতার ‘উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি’ ঘটেছে। এর ফলে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, বসতিস্থাপনকারীদের মসজিদে হামলার অভিযোগও উঠেছে।
চিঠিতে ২০২২ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত নয়জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেটররা এসব মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত জোরদার করার জন্যও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি এমন এক সময়ে পাঠানো হলো, যখন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইল সরকারের পশ্চিম তীর নীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কারণে দলের অনেক সদস্য ইতোমধ্যে দেশটির জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিটি যৌথভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেটর চাক শুমার এবং নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার তৈরি করেছেন। শুমার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
চিঠিতে পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক একটি প্রাণঘাতী ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে, ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দলের নিরাপত্তায় থাকা এক ইসরাইলি ব্যক্তি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৫৭ জনে পৌঁছেছে। এখনও অন্তত ৪০৩ জনের খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৬টি দেশের ৩৪১ জন নাগরিক এবং ৬২ জন নেপালি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ কৈলাস মানসসরোবরের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রায় ছিলেন। নিখোঁজ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে ১০৫ থেকে ১৩৩ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় রয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই আকস্মিক বন্যার ফলে কৈলাস মানসসরোবর তীর্থযাত্রা আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
এই বন্যায় কৈলাস পর্বত এবং মানসসরোবর হ্রদে যাওয়ার প্রধান রুটের রাস্তা, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা কেবল একটি ভ্রমণ বা সাধারণ তীর্থযাত্রা নয়; এটি এক পরম আত্মিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সন্ধান, যা তীব্র শারীরিক কষ্টের ঊর্ধ্বে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতের বোন ধর্মের কোটি কোটি মানুষের কাছে এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র এবং রহস্যময় কেন্দ্র। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত সাধারণ কোনো পর্বত নয়।
এটি দেবকূলের প্রধান ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীর আদি বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, কৈলাসে স্বয়ং শিব সশরীরে বিরাজ করেন। মনে করা হয়, মানসসরোবর হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে পরমপিতা ব্রহ্মার মন থেকে, যার কারণেই এর নাম মানসসরোবর। এই হ্রদের জল অত্যন্ত পবিত্র।
বিশ্বাস করা হয়, মানসসরোবরের পবিত্র জলে একটি ডুব দিলে মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায়। আর কৈলাস পর্বতের চারপাশে ৫২ কিলোমিটারের এক চক্কর বা 'পরিক্রমা' সম্পূর্ণ করতে পারলে মানুষ মোক্ষ লাভ করে, অর্থাৎ সে জন্ম ও মৃত্যুর চিরন্তন চক্র থেকে মুক্তি পায়। তিব্বতি এবং হিন্দু উভয় ঐতিহ্যেই কৈলাস পর্বতকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র মনে করা হয়। বলা হয়, এটি স্বর্গ ও মর্ত্যের সংযোগস্থল। সাধক এবং আধ্যাত্মিক অন্বেষণকারীদের মতে, এখানকার মহাজাগতিক শক্তির স্তর এতটাই তীব্র যে, এখানে ধ্যান করলে অতি দ্রুত আত্মিক উন্নতি ঘটে এবং ভেতরের কুপ্রবৃত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
মাউন্ট এভারেস্টে হাজার হাজার মানুষ উঠলেও, ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার উচ্চতার কৈলাস পর্বতের চূড়ায় আজ পর্যন্ত কোনো মানুষ পা রাখতে পারেনি। চীনের সরকার এবং ধর্মীয় বিশ্বাস উভয় কারণে এখানে আরোহণ নিষিদ্ধ। লোককথা আছে, যিনিই এই পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন, তিনি হয় দিক হারিয়েছেন, না হয় তীব্র আবহাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই চিরন্তন এবং অলৌকিক রহস্য মানুষকে এক তীব্র চৌম্বকীয় আকর্ষণে কাছে টানে। ভক্তদের কাছে এই যাত্রার শারীরিক কষ্ট হলো অহংকার ও অহমিকা বিসর্জনের একটি প্রক্রিয়া। তারা বিশ্বাস করেন, শিবের ডাক না এলে কেউ কৈলাশে যেতে পারে না।
১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই যাত্রা প্রায় দুই দশকের জন্য স্থগিত ছিল। ১৯৮১ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তির পর এটি পুনরায় চালু হয়। এরপর কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি আবার বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর ২০২৫ সালে পুনরায় যাত্রাটি শুরু হবে।
ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা মূলত তিনটি প্রধান রুটের মাধ্যমে কৈলাস মানসসরোবরে পৌঁছাতে পারেন। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস রুটটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আলমোড়া ও ধারচুলা হয়ে এগিয়ে যায়। এরপর গুঞ্জি এবং লিপুলেখ পাশ দিয়ে তিব্বতে প্রবেশের জন্য হেঁটে বা ট্রেকিং করে যেতে হয়। সিকিম নাথু লা পাস রুটটি দিল্লি থেকে গ্যাংটক হয়ে নাথু লা পাস অতিক্রম করে এবং এরপর গাড়ির সাহায্যে তিব্বতের ভেতরে এগিয়ে যায়। সরকারি মাধ্যমে পরিচালিত এই রুটে ট্রেকিং বা হাঁটার পরিমাণ কম এবং গাড়িতে ভ্রমণের সুযোগ বেশি। ফলে এটি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ, যদিও পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে ২০ দিনেরও বেশি সময় লেগে যায়।
তৃতীয় রুটে তীর্থযাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে বিমানে বা গাড়িতে করে নেপালগঞ্জ বা সিমিকোট যান এবং সেখান থেকে হিলসা হয়ে অথবা সড়কপথে তিব্বতে প্রবেশ করেন। সরকারিভাবে পরিচালিত রুটগুলোর মতো না হয়ে, এই রুটটি বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কঠিন ট্রেকিং এড়ানোর জন্য এতে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও রয়েছে। নেপালের আকস্মিক বন্যায় এই রুটটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের সাড়ে ৪ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় যেতে হয়, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। তীর্থযাত্রীদের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, ভূমিধস এবং দুর্গম ভূখণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়। এর সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো কৈলাস পর্বতের চারপাশের ৫২ কিলোমিটারের পরিক্রমা, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ডলমা লা পাস অতিক্রম করা অন্তর্ভুক্ত।
শারীরিক কষ্ট ছাড়াও কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় যেতে নানান সরকারি অনুমতি ও ভিসা লাগে। শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ঝুঁকি বিবেচনায় ভারত সরকার এ যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নির্ধারিত কোটার বাইরে কেউ এ যাত্রায় যেতে পারেন না। এমনকি কেউ চাইলেও একা এ যাত্রায় সামিল হতে পারবেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনা বা নির্ধারিত বেসরকারি ট্রাভেল অপারেটররাই এ তীর্থযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এত বাধার পরও প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পুণ্যের আশায় কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ