০৩:৫৭ পি.এম
রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা আতঙ্ক এবং সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে তা কোনও নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়। বরং, এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একটি 'রিমাইন্ডার' বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিবিপ্রধান মন্তব্য করেন, "আমরা তো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে থাকি। পুলিশের পাশাপাশি আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাটাও দেখতে হয়, কাজেই এই সতর্কতা আমরা সবসময় দিয়ে থাকি।" তবে, সম্প্রতি যে কয়েকটি বোমার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেসব বিষয় নিয়ে তারা তৎপর। তিনি আরও বলেন, "সব মিলিয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাটা যেন বজায় থাকে। এজন্য এমন সতর্কতা বিভিন্ন সময় দেওয়া হয়।"
আরও পড়ুন: আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, নতুন ভবন ৩১ একরে নির্মিত হবে
তিনি বলেন, "আগেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন পুলিশের সব যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনা যেন নিরাপদ থাকে। তাই পুলিশকে আবারও নির্দেশনা দিয়ে রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে, যেন পুলিশ অধিক সতর্ক থাকে।"
মো. শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, "যেহেতু ইদানিং বিভিন্ন সত্য মিথ্যা মিলে একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেজন্য একটা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটি একটি রিমাইন্ডার।"
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কিনা এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরকম স্পেসিফিক কিছু নেই। তবে, আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আমাদের যারা সিনিয়র অফিসার আছেন তারা আমাদের সুপারভাইজার। আমরা যারা ফিল্ডে বিচরণ করি, তারা যেন আরেকটু সতর্ক থাকি সেই জন্য রিমাইন্ডার।"
এ সময় মতিঝিলের ছাতা বোমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ডিবিপ্রধান বলেন, "এটার তদন্ত সিটিটিসি করছে, আমরা আসলে ছায়া তদন্ত করছি। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, তাই এখন কিছু বলা যাবে না।"
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ
এই ছাতা বোমার পেছনে জড়িত কোনো সংগঠনের নাম পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "এরকম দুই একজন তো থাকবে। এটা তো ধরেন, একক ব্যক্তি হিসেবে কেউ করবে না। কেউ করলে কোনো একটা ম্যান্ডেট প্রচার বা তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য এরকম কর্মকাণ্ড করে থাকে।"
এর আগে, শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশনস নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ কারণে ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামালে নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা গাড়িগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফর শুনে ভাঙল ঘুম, বালু দিয়ে ময়লার ভাগাড় গায়েবের চেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন