০৬:০৭ পি.এম
চট্টগ্রাম, ২২ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামকে একটি পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে, বন্দর নগরীর বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ৩ কিলোমিটার তীরে একটি পর্যটন জোন স্থাপন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
এই পর্যটন জোনের কাজটি ‘কালুরঘাট সেতু থেকে চাকতাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের অধীনে করা হবে।
সিডিএ’র উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বাসসকে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের অধীনে শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে আগমনের প্রস্তুতি
এছাড়াও এখানে শিশুদের জন্য বিনোদন সুবিধাসহ পর্যটক-বান্ধব রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য তহবিল ব্যয় করা।
পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ আহমেদ বলেন- পর্যটন অঞ্চল নির্মিত হলে এই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। তিনি মন্তব্য করেন, চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে মনোরম সমুদ্র দৃশ্য, পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন, জলপ্রপাত এবং হ্রদ অন্যতম।
সিডিএ’র সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান জানান, এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন হলে বন্দর নগরীটি একটি সত্যিকারের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। তবে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নদী পরিষ্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে হালদা ভ্যালি চা বাগানে টিলা কেটে মাটি ভরাটের অভিযোগ
পর্যটন উদ্যোক্তা এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) পরিচালক এ এস এম ইসমাইল খান বলেন, সরকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে সক্ষম না হলে, বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে এসব কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া উচিত।
সিডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ‘কালুরঘাট-চাক্তাই চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক’ প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে চাকতাই খালের মোহনায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাস জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এই সড়কটি সিটি বাইপাস লুপ রোড ও অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সংযুক্ত করবে এবং শহরের যানজট কমাবে।
তিনি বলেন, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা থেকে শহরে আসা যানবাহনগুলো এই সড়কপথ দিয়ে শহর কেন্দ্রকে বাইপাস করে শহরের বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে যেতে পারবে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো থেকে যানবাহনগুলো এর মাধ্যমে শহরের উত্তর দিকেও যেতে পারবে।
আরও পড়ুন: খুলনায় শুরু হলো সৌখিন বাগানীদের বৃক্ষমেলা ও প্রদর্শনী
তিনি জানান, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ৯২ শতাংশ নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়কটি পূর্ণমান চালু হলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া যাবে। এর ফলে নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নগর যোগাযোগ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বাসসকে জানান- এই প্রকল্পে সিডিএ মাস্টার প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলবে। বাকলিয়া চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম অনুন্নত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এই এলাকার উন্নয়নে বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, নগরীর বাকলিয়া একটি জনবহুল এলাকা হলেও এখানে বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এলাকাটির সামগ্রিক চিত্র বদলে যেতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে এবার হোটেল সি প্রিন্সেসে আগুন
তাদের মতে, এই নতুন পর্যটন কেন্দ্রটি শুধু বাকলিয়ার মানুষকেই নয়, বরং পুরো চট্টগ্রাম নগরীর মানুষকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন