ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হতে পারে ‘চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর’


সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হতে পারে ‘চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর’

ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে চীন ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করেছে ‘চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর’ (সিপিআইসি)। তবে এই উদ্যোগের পেছনে দুই দেশের সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) সম্পর্কিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদনগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার হাতিয়ার হিসেবে এই উদ্যোগ কাজ করতে পারে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুই দেশের যৌথ এই উদ্যোগ।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর ইসলামাবাদের পাকিস্তান-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে সিপিআইসি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার প্রকল্পটিতে সহযোগিতা করার জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংসে রাশিয়ার জোরদার হামলা

সিপিআইসির আওতায় দুই দেশের ১৮টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সংবাদ ও কনটেন্ট বিনিময় করবে। পাশাপাশি, যৌথভাবে সংবাদ তৈরি এবং বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনগুলোর জবাব দেওয়ার জন্য একটি ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট গঠন করা হবে। দুই দেশের থিংকট্যাংকগুলো যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনার কাজ করবে।

এই উদ্যোগকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) ‘কণ্ঠস্বর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সিপিইসি, যা কয়েক বিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ ও অর্থায়নে পরিচালিত, পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্প।

সিপিআইসির ধারণা নতুন নয়। ২০২৪ সালের মার্চে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সিপিইসি নিয়ে কথিত ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে চীন-পাকিস্তান মিডিয়া ফোরাম একটি মিডিয়া করিডর গঠনের ঘোষণা দিয়ে নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যৌথভাবে পরিচালিত একটি ‘নার্ভ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানের তথ্যপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে চীন উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক

সিপিআইসির সঙ্গে যুক্ত ১৮টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। চীনের পক্ষ থেকে রয়েছে সিনহুয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও পিপলস ডেইলি। পাকিস্তান-চীন ইনস্টিটিউট দুই দেশের থিংকট্যাংকগুলোর যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার মন্তব্য করেছেন যে, এসব কার্যক্রম দুই দেশের পক্ষে জনমত ও বয়ান তৈরিতে সহায়তা করবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংয়ের বক্তব্য, দুই দেশই অপতথ্য, ভুয়া খবর ও মিথ্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এই উদ্যোগ সেগুলো মোকাবিলা করে দুই দেশের অনুকূলে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, কোন সংবাদকে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে? বিশেষ করে দুই দেশের সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু

পাকিস্তানে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশটির সরকার ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পেকা) সংশোধন করে।

সংশোধিত আইনের ২৬-এ ধারায় জেনেশুনে বা যুক্তিসংগতভাবে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা হয়—এমন তথ্য ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তথ্যের কারণে জনমনে ভয়, আতঙ্ক বা অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকতে হবে।

এ ছাড়া সংশোধিত আইনে সরকারনিয়ন্ত্রিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ করার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ‘পাকিস্তানের আদর্শবিরোধী’ হিসেবে বিবেচিত কনটেন্টও সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, আইন সংশোধনের পর প্রথম নয় মাসে পেকা আইনে অন্তত নয়জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন রাফতার প্রতিষ্ঠাতা ফারহান মালিক।

আরও পড়ুন: নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান

এ ছাড়া ডন-এর সাংবাদিক মুহাম্মদ আকবর নোটজাইকে নোটিশ পাঠায় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। বেলুচিস্তানে দুর্নীতি নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত তার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নোটিশ দেওয়া হয়। বেলুচিস্তানেই অবস্থিত সিপিইসির গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদর বন্দর।

২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ পাকিস্তান সরকার পেকা আইনের ২৬-এ ধারায় ১৮৭টি মামলা দায়েরের তথ্য জানিয়েছিল। অন্যদিকে, ফ্রিডম নেটওয়ার্ক ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১২৯টি অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৫৮টি ছিল আইনি মামলা, যার অধিকাংশই পেকা আইনের আওতায়।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইকবাল খট্টক বলেছেন, সংশোধিত আইন সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক সাংবাদিক নিজেরাই নিজেদের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করছেন।

আরএসএফের ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রকাশিত সংবাদ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কখনো কখনো দমনও করে।

আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

পেকা আইনের সংশোধনী স্থগিত চেয়ে পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এই সংশোধনী স্থগিত করা সম্ভব নয়।

সিপিইসি নিয়ে সমালোচনার বিষয়টিও পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০২২ সালে ফরেন পলিসি সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সিপিইসির সমালোচনাকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমালোচনার মতোই বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো সাংবাদিক নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে সতর্কবার্তা পাঠাত।

২০২০ সালে প্রকাশিত ব্রুকিংসের ‘অ্যাট অল কস্টস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রেও সিপিইসি নিয়ে চীন ও পাকিস্তান সরকারের অবস্থান এবং প্রকল্পটির ভাবমূর্তি রক্ষার প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়েছিল।

অন্যদিকে, আরএসএফের ২০২৬ সালের সূচকে চীনের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৮তম। উত্তর কোরিয়া ও ইরিত্রিয়ার পর দেশটির অবস্থান সবচেয়ে নিচে। আরএসএফের হিসাবে, চীনে ১২১ জন গণমাধ্যমকর্মী কারাবন্দী রয়েছেন। সংস্থাটি চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক কারাবন্দি রাখা দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আরও পড়ুন: কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে লাশ উদ্ধার

কোভিড-১৯ মহামারির সময় উহান থেকে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে নাগরিক সাংবাদিক ঝাং ঝানকে প্রথমবার কারাবন্দী করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে আবারও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সিপিআইসির সদস্য চায়না মিডিয়া গ্রুপ সিজিটিএন ও চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের সরকারি অবস্থান তুলে ধরতে এসব গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চীনের গণমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে ২০২২ সালে ৩০টি দেশে গবেষণা চালায় ফ্রিডম হাউস। গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের পর এসব দেশের মধ্যে ১৯টির সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছে। আর ১২টি দেশের সরকার বেইজিংয়ের অপছন্দের সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে।

ওই দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কনটেন্ট বিনিময়ের চুক্তি বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছিল ফ্রিডম হাউস। তবে সিপিআইসি এর বিপরীত পথে হাঁটছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগের জায়গা হলো, সিপিআইসির আওতায় কোন সংবাদ বিভ্রান্তিকর, তা নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত সেই দুই দেশের সরকারের প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে, যাদের কর্মকাণ্ড নিয়েই সাংবাদিকদের অনুসন্ধান করার কথা।

সিপিইসির ঋণ, বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পাওনা, গোয়াদরে স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভ কিংবা চীনা কর্মীদের ওপর হামলার মতো বিষয় নিয়ে কোনো সাংবাদিক প্রতিবেদন করলে সেটিকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর পেকা আইনের ২৬-এ ধারায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে সমালোচকদের মনে হচ্ছে।

তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অবশ্য দ্বিমত নেই। ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধে নিরপেক্ষ ফ্যাক্ট-চেকিং গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ যাচাইয়ের দায়িত্ব সেই সরকারের হাতে থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কারণ, সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ, নীতি ও ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয় রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানকে গণমাধ্যমের জবাবদিহির আওতায় রাখার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানই যদি নির্ধারণ করে দেয় তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর কি না, তাহলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

একটি নিরপেক্ষ তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও তথ্যই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়। সেই তথ্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলেও তা প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে।

কিন্তু সিপিআইসির লক্ষ্য যদি চীন-পাকিস্তান অংশীদারত্বের ভাবমূর্তি রক্ষা করা হয়, তাহলে দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধান করা সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চাকরি হারানো কিংবা গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তারা প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে পারেন।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার। কোনো ঘটনা বা অনিয়ম সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে না, আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে না।

সিপিআইসিকে ঘিরে মূল উদ্বেগ তাই শুধু ভুয়া খবর প্রতিরোধ নয়; বরং সত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য বীমা থেকে পাওয়া গেছে আড়াই কোটি টাকার বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য বীমা থেকে পাওয়া গেছে আড়াই কোটি টাকার বেশি

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মেটলাইফ বাংলাদেশের গ্রাহকেরা ডেঙ্গু চিকিৎসার বীমা দাবি বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি পেয়েছেন। এই অর্থ চিকিৎসার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণত টানা কয়েক দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ যুক্ত হয়, যা অনেকের জন্য পূর্ব প্রস্তুতির বাইরে থাকে। মেটলাইফের কাছ থেকে সময়মতো বীমার টাকা পাওয়ার ফলে গ্রাহকেরা বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি লাভ করেছেন। এই অর্থ তাঁদের হাসপাতালের খরচ মেটাতে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

বীমা দাবি পরিশোধের এই চিত্র অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম আর্থিক প্রস্তুতির গুরুত্বকে তুলে ধরে। এটি দেখায় যে, বীমার সুবিধা শুধুমাত্র মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গ্রাহক জীবিত থাকাকালেও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিপ্লব: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কৃষকদের শত কোটি টাকা লুট করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


বিপ্লব: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কৃষকদের শত কোটি টাকা লুট করেছে

এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্যসচিব ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণের নামে শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে। ভালো বীজের লেবেল লাগিয়ে নিম্নমানের বীজ সরবরাহের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা কৃষকের ক্ষতি করা হয়েছে।’

রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বোরো ধান ও সরিষার বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহাদত হোসেন বিপ্লব আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের নরসিংদীর একজন নেতা ৫০০ কোটি টাকার সার খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু সার কেলেঙ্কারিই নয়, বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে লুটপাট করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ভালো বীজের পরিবর্তে প্যাকেটের গায়ে ভালো বীজের লেবেল লাগিয়ে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন করতে পারেননি।

বর্তমানে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে কৃষিবিদ বিপ্লব বলেন, ডিলার ও সাব-ডিলারদের একটি অংশ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া। তারা বরাদ্দ করা সার খোলা বাজারে বিক্রি করছেন এবং সারের মজুত নিয়ে লুকোচুরি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে এবং দেশে সারের কোনো সংকট থাকবে না।

ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য ভালো বীজ প্রয়োজন উল্লেখ করে শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, গত বছর কৃষকদের মধ্যে ভালো মানের বীজ বিতরণ করা হয়েছিল। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মনোহরদী উপজেলার চার হাজার কৃষকের মধ্যে বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

শুকুন্দী নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এ বি এম মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম আপেল, সদস্যসচিব দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্স, উপজেলা কৃষকদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুরুজ মিয়া, পৌরসভা কৃষকদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং মনোহরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মোজাম্মেল হোসেনসহ অন্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. সিরাজ মোল্লাকে আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর একটার দিকে দপদপিয়ার পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দপদপিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি সিরাজ মোল্লাকে আটক করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আসামির তিন ভাই ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় তারা জোরপূর্বক ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে হামলাকারীরা পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করেন, যার ফলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনার পর দপদপিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি তৌহিদুজ্জামান সোহাগ।

নলছিটি থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, "সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা হলে তার পরিবারের সদস্যরা ছিনিয়ে নিয়ে যান। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৪ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৪ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক নিহত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং পেট্রোল পাম্পের নিকট একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাহবুবুর রহমান (৬৪) নামের এক মোটরসাইকেল চালক। এই দুর্ঘটনাটি ঘটে আজ দুপুর ১২টার দিকে।

মাহবুবুর রহমান চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছৈয়দাবাদ গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের পুত্র।

দৈনিক যুগান্তরের বান্দরবান দক্ষিণ প্রতিনিধি ইলিয়াস আরমান, যিনি নিহতের ভাগিনা, জানান যে, আজ দুপুরে মহাসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার সময়, তিনি যখন উত্তর হারবাং পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌঁছান, তখন কোনো একটি দ্রুতগামী যান তার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশে কেউ বিষয়টি সরাসরি দেখতে না পাওয়ায় ঘাতক যানটির সঠিক শনাক্তকরণ সম্ভব হয়নি। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারাত্মকভাবে হতাহত হন।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতার কারণে প্রায়ই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%