ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান


বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খান নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া তিন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিক। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ৫(২) অনুসারে তাকে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তাকে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। পূর্বে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-১৯৯৩’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে থাকার নিয়ম ছিল। তবে ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ৭১ বছর বয়সী এ অভিজ্ঞ করপোরেট লিডারের বিএসইসি প্রধান হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। মাসুদ খান বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ২০ বছর পর্যন্ত দেশ ও বিদেশে ফিন্যান্সের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র স্বাধীন পরিচালক হিসেবেও যুক্ত আছেন। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর নিয়োগ পাওয়া সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এর অধীনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিন বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং তার কমিশনাররা মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘসময় ধরে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ একাধিক মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কমিশনারদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশেদ মাকসুদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময় তিনি এবং তার সহকর্মীরা কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাজারের আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সংস্কার করা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২১ মাসে কমিশন পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে মার্জিন ঋণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার-সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন সম্পর্কিত তিনটি খসড়া বিধিমালা এবং নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। রাশেদ মাকসুদ আরও জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার মতে, এসব উদ্যোগ পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে কমিশন বাজারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমকে জোরদার করেছে। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের চর্চাকে সংকুচিত করতে, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি নিয়মভিত্তিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিকেও কমিশনের অন্যতম একটি অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে সেরা ইউএনও হলেন রতন কুমার অধিকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


সিলেটে সেরা ইউএনও হলেন রতন কুমার অধিকারী

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী ‘শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এই সম্মাননার মাধ্যমে তার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দক্ষ leadership, সততা, নিষ্ঠা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। তাকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ ‘শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদের স্বাক্ষরিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’ প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশিত হয়।

এছাড়া, শ্রেষ্ঠ ইউএনও ছাড়াও সিলেট জেলায় মোট ১৩ জন এবার ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা যায়, বিসিএস ৩৬ ব্যাচের মেধাবী এই অফিসার ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তার কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে উপজেলায় শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই সম্মাননা প্রাপ্তির পর তার নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার উন্নয়ন ও শিক্ষার ধারা আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন নয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন নয়ন

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রবিউল ইসলাম নয়ন ঢাকার মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে জায়গা পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত রবিউল ইসলাম নয়ন মাঠপর্যায়ের একজন পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। একই সাথে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার তার হাতে নতুন দায়িত্ব BNP চেয়ারম‍্যান তারেক রহমান তুলে দিলেন।

দলের চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন নেতাদের একজন হিসেবে রবিউল ইসলাম নয়নের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। নতুন কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈদের ছুটির আগে থেকেই উধাও বালিয়াকান্দি শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাজবাড়ী প্রতিনিধি  জাকির হোসেন পাটোয়ারী 

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


ঈদের ছুটির আগে থেকেই উধাও বালিয়াকান্দি শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার
 
সরকারি ছুটির নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঈদের ছুটির আগে থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহার। 
ঈদের ছুটির পর মাত্র দুই দিনের ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নিলেও, সেই ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি এখন অবধি কর্মস্থলে ফেরেননি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ হয়, তদন্তও হয়, কিন্তু দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা হয় না। সাধারণ শিক্ষকদের দাবী, কতিপয় শিক্ষক নেতাকে নিয়ে তিনি গড়েছেন সিন্ডিকেট, ডিপিই’তেও রয়েছে তার হাত। 
অভিযোগ উঠেছে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার রহস্যজনক যোগসাজশ ও আশ্রয়-প্রশ্রয়েই কর্মস্থলে দিনের পর মাস অনুপস্থিত থেকেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির পাশাপাশি এ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, বিল অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এর আগে তাঁর এ সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও রহস্যময় কারণে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহারের ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত দুটি চাঞ্চল্যকর অডিও কথোপকথন এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। একটি অডিও রেকর্ডে এক ভুক্তভোগীকে বলতে শোনা যায় "আমাদের টিও (উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা) অত্যন্ত ঘাগু...। আমি টাকা না দেওয়ায় ডিপিইও (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস) অফিস থেকে আমার ফাইল ফেরত এনেছেন। এরপর আমার নিকট হতে তাজমুন্নাহার ৫ হাজার টাকা নেন, জেলা শিক্ষা অফিসের উজ্জ্বল নেন ৩ হাজার টাকা।" ক্ষোভ প্রকাশ করে চরম বিব্রতকর শব্দ উচ্চারণের পর ওই ব্যক্তি আরও বলেন, "মুখে পাউরুটি দিয়ে যদি মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে সেটাই করি। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে একতা নেই।" অপর একটি অডিও রেকর্ডে আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষককে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায় "৫ হাজার দিতে হয়েছে, কিছু বলার নাই। ভোট কেন্দ্র সংস্কার বিল বাবদ দিতে হয়েছে কয়েক হাজার। উজ্জ্বলও (জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মচারী) নিয়েছে ৩ হাজার। কয়ডা পয়সা নিয়ে যদি মুক্তি দেয় তাও ভালো, কোনো প্রকার মানবিকতা নেই, আল্লাহর উপর ভরসা করে দিছি। ডাইরেক্ট দিছি, দিতে হবে বলছে তাই দিছি।" মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে অন্য একজন শিক্ষক জেলা শিক্ষা অফিসারের (ডিপিইও) ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষক স্পষ্ট বলেন, "যে টিই (উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা), সেই ডিপিইও। উজ্জ্বল নিছে ৩ হাজার, কেউ বাদ নাই। অন্যরা দু’জনকে ৮ হাজার টাকা করে দিছে।" 
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ মে বালিয়াকান্দি উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই শিক্ষা প্রশাসনে নানা জটিলতা তৈরি করেন তাজমুন্নাহার। শিক্ষকদের অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক তদারকির চেয়ে ফাইল আটকে রাখা ও বিল-ভিত্তিক কার্যক্রমে অনৈতিক সুবিধা নিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। চলতি ২০২৬ সালের প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সমন্বয়ে ফলাফল প্রস্তুতের নিয়ম থাকলেও, এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কো-কারিকুলামভিত্তিক বিষয়গুলো শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন করার কথা থাকলেও, তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেগুলো প্রান্তিক মূল্যায়নের রুটিনে ঢুকিয়ে ২ দিন পাঠ দিবস কমিয়ে দেন। পরিপত্র অনুযায়ী প্রান্তিক মূল্যায়ন স্কুল ভিত্তিক বা পাশাপাশি কয়েকটি স্কুল মিলে নেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে উপজেলাব্যাপী অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেন। শিক্ষকদের দাবি, এই অভিন্ন প্রশ্নপত্রের প্রান্তিক মূল্যায়ন খাত থেকে তিনি কৌশলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫০ নম্বর ধারাবাহিক ও ৫০ নম্বর সামষ্টিক এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০ নম্বর ধারাবাহিক ও ৭০ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই শিক্ষা কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অস্পষ্টতার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে ফলাফল প্রস্তুত করতে গিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও "গোজামিল" দিয়ে ফলাফল প্রস্তুত করার বিষয়টি জানান অশিক্ষকরা।
নাম না প্রকাশের শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের ল্যাবটব ও নারুয়া ইউনিয়নের পাটকিয়াবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ল্যাবটব তার টাঙ্গাইলের বাসায় নিয়েছেন সন্তানদের ব্যবহারের জন্য।  
এছাড়া বেজলাইন সার্ভে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা কিংবা পাঠঘাটতি পূরণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, গত জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র সংস্কার প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৩২টি বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং ইউএনও’র তদারকি কমিটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রত্যয়নপত্র দিলেও, অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই বিল আটকে রেখেছেন তাজমুন্নাহার। বিল অনুমোদনের জন্য শিক্ষকদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের এক লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শুধু বেতন সমতাকরণের ফাইল ছাড়ানোর জন্যই তাজমুন্নাহার ৭৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া পিআরএল (চজখ), অবসরকালীন সুবিধা এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও নিয়মিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, "কাজের অগ্রগতির চেয়ে ফাইল আটকে রাখার বিষয়টাই উনার প্রধান যোগ্যতা।" অনুসন্ধানে জানা যায়, মোছা. তাজমুন্নাহার এর আগেও যেসকল উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন, সবখানেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। 
এর আগে শিবপুর, ধামরাই এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশব্লক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং ঠিকাদারি বিল অনুমোদন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এমনকি পূর্ববর্তী কর্মস্থলে শিক্ষকদের তীব্র আন্দোলন ও মানববন্ধনের মুখে পড়েও পরে নানা চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে ও 'লিখিত সমঝোতা'র মাধ্যমে পরিস্থিতি ধামাচাপা দেন। এছাড়া বাসা ভাড়া বকেয়া রাখা এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগও তাঁর পিছু ছাড়েনি।
ঈদের ছুটির আগে থেকেই কর্মস্থল ত্যাগ করা এবং বর্তমানে অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারের অফিসে বৃহস্পতিবার সকালে গেলেও পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন,  আমি নিজেই বালিয়াকান্দি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহারের কর্মকাণ্ডে বিব্রত।  তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি রিপোর্ট প্রেরণ করেছি।  আমি তাকে নিয়ে আর একটি কথাও বলতে চাই না। 
স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রাথমিক শিক্ষকরা এই "ঘুষখোর" ও "স্বেচ্ছাচারী" কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ১৮৯টি পরিবারের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


কুড়িগ্রামে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ১৮৯টি পরিবারের মাঝে স্যানিটারী ল্যাট্রিন বিতরণ
 
কুড়িগ্রামে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্বাচিত পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী ল্যাট্রিন বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
 
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। 
 
কুড়িগ্রাম এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন  বাংলাদেশ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মশিউর রহমান মন্ডল, সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিত্যানন্দ বর্মন, বেলগাছা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, কুড়িগ্রাম এডিপি ম্যানেজার নীতা ফ্লোরা দাস। 
 
এতে শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ১৮৯ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ল্যাট্রিনের পূর্ণাঙ্গ সেট বিতরণ করা হয়।
 
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের বিকল্প নেই। তবে সুন্দর পরিবেশ গড়তে যত না অর্থের প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি করা। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারের বিষয়ে সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।  স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আগামী প্রজন্মকে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিস, টাইফয়েডের মত মারাত্মক সংক্রামক রোগ মুক্ত রাখা সহজ হবে। এক্ষেত্রে স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় সকলকে আরো মনোযোগী হতে হবে। মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%