০৫:৫৯ পি.এম
বৃহস্পতিবার ইউক্রেন মস্কোতে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় আগুন লেগে গেছে এবং দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তারা তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একাধিক যাচাই না করা ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের আকাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। অন্য একটি ভিডিওতে ড্রোন আকাশে উড়তে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ খবর মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে কাজানের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার আগে এই বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। মস্কো থেকে কাজানের দূরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় ড্রোন হামলা বেড়ে গেছে কিয়েভের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে, মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে অর্থ যোগান দেওয়া তেল শোধনাগারগুলোকে হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী বড় আকারের হামলা প্রতিহত করে যাচ্ছে। বেশ কিছু ড্রোন এমএনপিজেড (মস্কো তেল শোধনাগার) পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।’
শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। তবে, রুশ গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর জানিয়েছে, হামলার সময় যাত্রীদের ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শেরেমেতিয়েভো রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচার, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য!
মস্কো অঞ্চলের ঝুকভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে আরেকটি ড্রোন আঘাত হানে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, একই সঙ্গে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি শপিং সেন্টারে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ১৮০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত রাতে ইউক্রেনের পাঁচ শতাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানাচ্ছে, অন্তত দুই বছরের মধ্যে মস্কোর ওপর এটি সবচেয়ে বড় হামলা। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে আসছে।
-কাজানে পুতিন- মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানে অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের আয়োজক হওয়ার মাত্র কিছু ঘণ্টা আগে এই হামলা ঘটেছে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর তাদের প্রধানমন্ত্রীদের পাঠিয়েছে, আর ফিলিপাইন পাঠিয়েছে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোসকে।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
ইউক্রেনে চার বছরের সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সত্ত্বেও রাশিয়ায় স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন পুতিন। যুদ্ধমুখী অর্থনীতিতে পরিচালিত রাশিয়া বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক সংকট ও ঋণের উচ্চ সুদের চাপ মোকাবিলা করছে।
এ বছর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ধীর হয়ে এসেছে। একই সময়ে রাশিয়ার ভেতরে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে কিয়েভের পক্ষ থেকে। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোর ‘একটি সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত।’
পুতিন বারবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলতেন, রাশিয়া শক্তি প্রয়োগ করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল দখল করবে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন