বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৮ পি.এম
বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, নবনিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রভাব, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে মামলা তদন্ত এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ৪২তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরপরাধ, বিপন্ন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে আইজিপি আলী হোসেন ফকির ৫০০ প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (লজিস্টিকস) শুভ কুমার ঘোষ।
বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে শাহরিয়ার হাসান সিজান (পিএ-৪২৩১২) ‘বেস্ট ক্যাডেট’, সাইফুল ইসলাম (পিএ-৪২৮০৬) ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক’, তৌকির আহমেদ (পিএ-৪২৩২৪) ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’, আশরাফুল ইসলাম (পিএ-৪২৫০৩) ‘বেস্ট সুইমার’ এবং কামরান শেখ (পিএ-৪২৩৩৯) ‘বেস্ট শুটার’ নির্বাচিত হন।
মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫০০ জন ক্যাডেট এসআই দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার জন্য জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের যে কোন ধরনের অস্থিরতার মধ্যে দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করা উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুসারে, এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তেলের মজুত সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিন করা হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তারপর তা ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়াসহ বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করে চলেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা বিদ্যমান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭১ দিনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
জ্বালানি বিভাগ জানায়, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুত করার বিধান আছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত থাকায় কোনো সংকট প্রকটিত হয়নি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘জ্বালানি নীতিতে ৬০ দিনের কৌশলগত মজুতের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় আমরা ধাপে ধাপে এটি ৯০ দিনে উন্নীত করবো। এই বিষয়ে কাজ চলছে। তবে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।’
বার্ষিক চাহিদা ও বর্তমান সক্ষমতা:
জ্বালানি বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যা মাসিক গড় ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের চাহিদা ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের চাহিদা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন।
বর্তমানে বিপিসি’র আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ ছয়টি কোম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে। বর্তমানে বিপিসি’র নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুত রয়েছে। এই সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ব্যবহারে:
জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) সহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে।
সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহার করতে চায়। এছাড়া বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার সংস্কার করে পরিচালনায় আনা হবে।
জ্বালানি সচিব বলেন, ‘সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ভাড়ার বিষয়ে আলোচনা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ে এবং বিআরটিসি রয়েছে। এসব বিকল্প সুযোগ মাথায় রেখে নিজস্ব অবকাঠামো বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ডিজেলের ক্ষেত্রে বিপিসি’র বর্তমান কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৫৭ দিনের। তবে বিদ্যুৎ ও রেলওয়ের মতো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ৩ মাসের তেল কিনে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মজুত রাখে, সেক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রকল্প ছাড়া দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মজুত আরও ১২ থেকে ১৩ দিন বৃদ্ধি পাবে।’
মজুত বৃদ্ধিতে আসছে যেসব কর্মসূচি:
বিপিসি জানায়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় গত জুনে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ট্যাংক চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মজুত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৩৭ টন বেড়েছে। ফলে বিপিসি’র মোট মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০৩ টন হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পার্বতীপুরে আরও চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও কুমিল্লায় বিদ্যমান অটোমেটেড ডিপো এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে আরও ছয়টি ডিপো নির্মাণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে ১১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি নতুন ট্যাংক এবং ফতুল্লার আলীগঞ্জ ডিপোতে ১৩ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরও দুটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে গোদনাইলে ১ হাজার ৪৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি এইচওবিসি ট্যাংক নির্মাণাধীন রয়েছে।
বিপিসি জানায়, এর পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির প্রধান স্থাপনাগুলোর খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা অয়েলের ৯ হাজার ৫০০ টনের দুটি ট্যাংক, মেঘনা অয়েলের ১০ হাজার টনের তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলের সাড়ে ৫৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন ট্যাংক রয়েছে।
সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে ২ হাজার ১৬৫ টনের পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণকাজ চলছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরার ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।
বিপিসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত জুনে পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হওয়ায় মজুত সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার টন বেড়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পার্বতীপুরে আরও চারটি এবং কুমিল্লায় ছয়টি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে উদ্বৃত্ত ট্যাংকগুলো ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। এর সাথে সাথে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’
আরও পড়ুন
জুলাইয়ের ১৪ দিনে দেশে ১৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন জমি অধিগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে অচল ট্যাংক সচল করা, কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেলে রূপান্তর সহ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রেলওয়ের অব্যবহৃত ট্যাংক ব্যবহার করা হলে দ্রুত মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাদের মতে, এটি সরকারের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক-বর্তমান সভাপতিসহ তিন ছাত্রনেতা পদ পেয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় ৩০ সদস্য বিশিষ্ট সেক্রেটারিয়েট এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে ১৩ জন সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
কমিটিতে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক পদে আবু নাছির মো. ত্বোহা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকারী পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাকৃবি শাখা শিবিরের বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন।
মো. ফখরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাকৃবি শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবু নাছির মো. ত্বোহা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাকৃবি শাখা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০২৬ সালের ষাণ্মাসিক হালনাগাদকৃত কার্যকরী পরিষদে ১৩ জন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন নির্বাচিত হওয়া তা ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে। এর আগে তিনি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক আটক হয়েছে অনলাইন জুয়া চক্রের ছয় সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অনলাইন জুয়ায় জড়িত ছিল। অভিযানটি গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে শুরু হয়, যেখানে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা থেকে আরও তিনজন আটক করা হয়। পুলিশ অভিযানের সময় ৬০৬টি বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্টযুক্ত ৬৭টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে।
আটক হওয়া ছয় জনের মধ্যে রয়েছেন: মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী, কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) এবং মশিউর রহমান তারেক (২০)।
ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, সাইবার মনিটরিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিবি একাধিক অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চিনতে সক্ষম হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের টঙ্গীর রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে প্রথম তিনজনকে আটক করা হয়। পরে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ধরা হয়।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ পরিচালনার জন্য অনেক পেমেন্ট কোম্পানি কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য পেমেন্ট কোম্পানি গুলোর মধ্যে রয়েছে Pay Kashma, Gopay, Lucky pay, LQ pay, XE pay, Cool pay ইত্যাদি। দেশের কার্যরত বেশিরভাগ জুয়ার সাইটের পেমেন্ট কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ চীনের নাগরিকদের হাতে রয়েছে।
বাংলাদেশে এই পেমেন্ট কোম্পানিগুলি কাজ করার জন্য স্থানীয় লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়, যে কারণে তারা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। ব্যাংকের তুলনায় এগুলো সহজলভ্য এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে অধিকাংশ সময় এই পেমেন্ট কোম্পানিগুলি এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন করত এবং সেই টাকা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হতো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে। আটকের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশ অংশের মূলহোতা হিসেবে ধরা পড়েছে এবং তার অধীনে বাকিরা Gopay নামক কোম্পানির হয়ে কাজ করতো। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং এই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও সদস্যদের ধরার জন্য পুলিশ ক্রিয়াশীল রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৩৪তলা থেকে নিচে পড়ে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বায়ান মুতিয়ারা এলাকার ১৩ নম্বর মুকিমে অবস্থিত একটি নির্মাণ সাইটে। দেশটির সময় অনুযায়ী ১২ জুলাই আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম মোহাম্মদ আবদুল কাদের। বুধবার (১৫ জুলাই) পেনাংয়ের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত Bangladeshি শ্রমিকটি ওই নির্মাণ সাইটের পেইন্টিং, প্লাস্টারিং ও হাউসকিপিংয়ের কাজে নিয়োজিত একটি সাব-কন্ট্রাক্টর কোম্পানির অধীনে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি ৩৪ তলায় কাজ করার সময় কোনোভাবে নিচে পড়ে যান এবং পরবর্তীতে ৯ তলার ক্যানোপি ছাদের ওপর তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে, পেনাং হাসপাতালের একটি মেডিকেল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনার পর পেনাংয়ের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সাব-কন্ট্রাক্টরকে খোলা জায়গায় সকল পেইন্টিং ও প্লাস্টারিংয়ের কাজ অবিলম্বে বন্ধে নির্দেশ দিয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা নোটিশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নির্মাণ সাইটের খোলা প্রান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবেষ্টনী দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও আলাদা একটি নিষেধাজ্ঞা নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পেনাংয়ের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক খাইরোজী আসরি এই দুর্ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কর্মক্ষেত্রে, বিশেষ করে উঁচুতে কাজ করার সময় সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তিনি ১৯৯৪ সালের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আইন এবং ২০২৪ সালের নির্মাণ কাজের বিধিমালা অনুযায়ী সকল নিয়োগকর্তা ও ঠিকাদারদের কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদানের আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, কর্মক্ষেত্রে যেকোনো দুর্ঘটনা গোপন করা বা রিপোর্ট না করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি জানান, এই ঘটনার পেছনে আইন অমান্য হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ