বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪০ এম
বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইতালিতে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানোর মাধ্যমে মানুষকে শ্রীলঙ্কা, মিশর বা অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো এবং দেহব্যবসায় বাধ্য করা হতো। এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের একজন মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এই তথ্য প্রকাশ করেন। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে আরজুকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি জানায়, ১৬ জুলাই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। মিশর থেকে কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে তাকে মিশরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি জানায়, ফাতেমা ও তার পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আরজু। প্রথমে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী আটকা পড়ে যান।
আঞ্জুমান আরা শ্রীলঙ্কাতেই পালিয়ে আত্মগোপনে থাকেন, আর ফাতেমাকে ইতালির মিশরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিশরে নিয়ে যাওয়ার পর ফাতেমার ওপর শুরু হয় চরম নির্যাতন। তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। তিনি এতে রাজি না হলে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার মতো ভয়াবহ শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়।
১২ বছরে ২ হাজার মানুষকে পাচার
এসআরবি জানায়, গ্রেফতার আরজু গত ১২ বছর ধরে এই পাচারকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সে দুই হাজারেরও বেশি সরল-সহজ মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছে। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের ভুয়া নাম ব্যবহার করত, যদিও তার নিজস্ব কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আরজুর ব্যবহৃত মোবাইলে পাওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিশরে অবস্থান করা আরজু ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং সম্প্রতি পুনরায় মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এনএসআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা তিন ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আরজুকে গ্রেফতার দেখিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা আঞ্জুমান আরা এবং মিসরে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনস্বার্থে কাজের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি মাইলফলক অর্জন করেছে তালাশ বিডি মিডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের জনস্বার্থমূলক কার্যক্রম ও মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তালাশ বিডির সম্পাদক রনি সিকদারের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্টতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সংগঠনটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস-১৫৩৯৯/২০২৬।
তালাশ বিডি মিডিয়া লিমিটেড একটি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি একটি পৃথক মানবাধিকার ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন। তবে তালাশ বিডির সম্পাদক রনি সিকদারের মানবাধিকার কার্যক্রমের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং জনস্বার্থে কাজ করার দীর্ঘদিনের আগ্রহের সঙ্গে নতুন এই সংগঠনের উদ্যোগটি সরাসরি সম্পৃক্ত।
রনি সিকদার এর আগে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় মানবাধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক জনস্বার্থমূলক উদ্যোগ প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষের আইনগত অধিকার, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সামাজিক কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার লক্ষ্যে নিজেদের উদ্যোগে একটি পৃথক সংগঠন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া, পরিশ্রম ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে আইনসম্মতভাবে কাজ করবে সংগঠনটি। মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্যের কাছে পিছপা না হওয়ার প্রত্যয় রয়েছে তাদের। তবে প্রতিটি কার্যক্রম আইন, তথ্য, প্রমাণ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন করা। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে আইনগত সহায়তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির ঘোষিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইনগত সহায়তা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সহায়ক কার্যক্রম, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সহায়তা, দুঃস্থ, এতিম, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের শিক্ষা সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবিক সহায়তা প্রদান।
এছাড়া সামগ্রিক উন্নয়নের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সংহতি ও সুসম্পর্ক রক্ষায় কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
সংগঠনটি নিজেদের একটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমূলক, দারিদ্র্য বিমোচন, আবাসন সহায়ক, মানবাধিকার বিষয়ক, অরাজনৈতিক, অলাভজনক, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
তালাশ বিডির সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে যাত্রা শুরুর পর জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তার ক্ষেত্রে পৃথক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালাশ বিডি সংবাদমাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব পরিসরে কাজ করবে এবং বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও অনুমোদিত কার্যক্রম অনুযায়ী কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন সংগঠনটির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠনের মাধ্যমে সারাদেশে কার্যক্রম বিস্তৃত করে মানুষের অধিকার, আইনগত সহায়তা ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির প্রধান কার্যালয় ৬ ডি.আই.টি এভিনিউ, সাব্বির কোর্ট ভবন, ৪র্থ তলা, দৈনিক বাংলার মোড়, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। যোগাযোগের ফোন নম্বর ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. জিয়ারুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পিবিআই সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের প্রেস রিলিজ থেকে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই কিশোরী (ছদ্মনাম রুবিনা) গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় কলারোয়া থানার হেলাতলা গ্রামের একটি কুল-বরই বাগানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার ২৮ সেপ্টেম্বর কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই সাতক্ষীরা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার শ্রীরামকাঠী গ্রাম থেকে জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
কলারোয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান রিমু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলায় আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী জেলা বিশেষ আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন আক্কাছ আলী। এ সময় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
এটি জানা গেছে যে, আক্কাছ আলী ২০০৬ সালের ২৯ মার্চ বাঘা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি আবারও মেয়র নির্বাচিত হন। দুদকের পক্ষ থেকে আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর, দুদকের রাজশাহী উপ-সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন এই মামলা দুটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করেন।
এই মামলায় আক্কাছ আলী উচ্চ আদালত থেকে ছয় মাসের জামিন লাভ করেছিলেন। জামিনের শর্ত হিসেবে তিনি মামলার সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার অঙ্গীকার করে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছিলেন।
২৫ সেপ্টেম্বর তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ১০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ওই অর্থ জমা না দিয়ে মঙ্গলবার পুনরায় আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন গ্রহণ না করে পূর্বের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেশনন্স কাপের প্রথম ম্যাচে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়লাভ করেছে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ১০ জনের দলের বিরুদ্ধে সহজ জয় তুলে নিয়েছে টমাস টুখেলের শিষ্যরা।
প্রাগে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডন ও হ্যারি কেইনের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে চেক প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করেছে। আগের ম্যাচে নেশনস লিগে স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে ২২টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে সাতটি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে স্বাগতিক চেক প্রজাতন্ত্র ছয়টি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ঘরের মাঠে ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্র বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। তবে ২৫ মিনিটে পাভেল শুলৎসের জন্য বড় ধাক্কা আসে, যখন অ্যান্ডারসনকে ফাউল করার জন্য রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর এর হস্তক্ষেপের পর সেটি লাল কার্ডে পরিবর্তিত হয়, ফলে চেক প্রজাতন্ত্র ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে ইংল্যান্ডের হাতে চলে আসে। যদিও বলের দখল এবং আক্রমণ বাড়ে, প্রথমার্ধে চেকদের শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙতে তারা ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংলিশরা কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায়। ডি-বক্সের বাইরে নিজেদের মধ্যে বলের আদান-প্রদান করতে গিয়ে পজেশন হারায় চেক প্রজাতন্ত্র। ডান দিক থেকে ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে হেডে গর্ডন দলকে এগিয়ে দেন।
ইংলিশদের ধারাবাহিক আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় ৬৯ মিনিটে। বক্সের ভেতর রজার্সকে আটকাতে গিয়ে ক্রেইচি বল হারান এবং সেটি কেইনের সামনে পড়ে। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে ২-০ করেন।
১০ জন নিয়ে চাপের মধ্যে থাকা চেক প্রজাতন্ত্র শেষ দিকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। ৮২ মিনিটে এজেকিয়েল এজের শট চেক গোলকিপার কোভার কোনোমতে ঠেকিয়ে না দিলে জয় ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
এই জয়ের ফলে লিগ ‘এ’র গ্রুপ সিতে দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে, শীর্ষে থাকা স্পেনের চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র টানা দুই ম্যাচ হেরে তলানিতে রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, এবং চেক প্রজাতন্ত্র খেলবে স্পেনের বিপক্ষে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ