০৬:৩৩ পি.এম
জলবায়ু অর্থনীতির সম্ভাব্য সম্পদে গাছকে রূপান্তরের অভিনব ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘কার্বডিট’।
সিরডাপ-রিডস আন্তর্জাতিক গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ-২০২৬-এ দলের এ অর্জন বাংলাদেশ থেকে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। একই সঙ্গে তারা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেরা পাঁচ উদ্ভাবনের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
দলটির টিম লিডার সাইফুল্লাহ মানওয়ার, যিনি কার্বডিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফাবিয়ান তাসকিন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও সহপ্রতিষ্ঠাতা, অদিতি ঘোষ প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং আরফা সাইয়ারা রিজা ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় ১৩টি দেশ থেকে মোট ১৮৭টি উদ্ভাবনী প্রস্তাব জমা পড়ে। আন্তর্জাতিক বিচারক কমিটির কঠোর এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা উদ্ভাবনগুলো নির্বাচন করা হয়।
গত ৬ জুলাই সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে কার্বডিট দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এই অর্জনের ফলে গাকৃবির তরুণ উদ্ভাবকদের সামনে আরও বড় সুযোগ এসেছে। আগামী ৬ থেকে ১০ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘এশিয়া-প্যাসিফিক কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এ কার্বডিটের উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনটিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও উদ্ভাবকদের সামনে বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতার আলোকে তৈরি এই মডেল তুলে ধরবেন তাঁরা।
গাকৃবির শিক্ষার্থীদের এ বিশেষ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাকৃবির বিভিন্ন অর্জনের অন্যতম অংশীদার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের গুণগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং তিনি শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
কার্বডিটের উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ পরিবারের গাছগুলোকে সমষ্টিগতভাবে পরিমাপযোগ্য কার্বন সম্পদে রূপান্তর করা এবং সেগুলোকে বৈশ্বিক কার্বন বাজার ও জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করা। এর ফলে গাছের মালিকেরা তাঁদের পরিবেশগত অবদানের আর্থিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া, স্থানীয় তরুণদের সম্পৃক্ত করে গাছের তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও কার্বন সম্পদ তৈরির একটি সম্প্রদায়ভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্বডিটের এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, গ্রামীণ মানুষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের স্থানীয় সমাধান খোঁজার একটি উদাহরণ।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন