ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মুন্নি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন


মুন্নি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন

জন্মগত শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বপ্নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব—এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ স্থাপন করেছেন সুইটি আক্তার মুন্নি। বাকপ্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি শুধু উচ্চশিক্ষার গণ্ডি অতিক্রম করেননি, বরং নিজের সৃজনশীল প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন, মানুষের গড়ার কারিগর হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। অদম্য সাহসিকতার মাধ্যমে জীবনযুদ্ধে জয়ী মুন্নি সত্যিই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন এবং সমাজের অসংখ্য মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শে পরিণত হয়েছেন।

বর্তমানে সুইটি আক্তার মুন্নি টাঙ্গাইলের পাকুটিয়া এলাকার অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। সেখানে তিনি চারুকলা বা আর্ট বিষয়ে পাঠদান করবেন।

আরও পড়ুন: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে 'প্যাগসা'-র যাত্রা শুরু

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার আব্দুল মালেক ও সুফিয়া বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে মুন্নি সবার বড়। তার বাবা আব্দুল মালেক একজন পুলিশ কনস্টেবল, বর্তমানে ঘাটাইল থানায় কর্মরত আছেন। মা সুফিয়া বেগম গৃহিণী। মুন্নি ঘাটাইল গণপাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেন।

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে পড়াশোনার সময় বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়ালপত্রিকা সাজানো এবং কলেজের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কাজে দক্ষতার পরিচয় দেন। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়ও তিনি কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার আঁকা ছবিতে শিক্ষক ও সহপাঠীরা মুগ্ধ হয়েছেন।

ছবি আঁকার সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একসময় মুন্নি নিজের মতো করে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ ও শাড়িতে নকশা আঁকতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার সৃজনশীল কাজই উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। বর্তমানে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি বাটিক ও বুটিক কারখানা গড়ে তুলেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়েও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সম্প্রতি নতুন করে একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার খবরটি জানাতে ভূঞাপুরের ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে গিয়ে নিজের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন মুন্নি। তার এই অর্জন ও অদম্য প্রচেষ্টায় কলেজের শিক্ষকরা মুগ্ধ হয়েছেন।

আরও পড়ুন: কুবি প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ শুরু

মুন্নিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে একজন শিক্ষক লিখেছেন—প্রচলিত পদ্ধতিতে বাকপ্রতিবন্ধকতা জয় করে কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। পড়াশোনার ফলাফলও ছিল ভালো। ছবি আঁকার পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এবার শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার খবর জানাতে কলেজে এসেছেন তিনি।

শিক্ষকের ভাষায়, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ একদিন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। মুন্নির আরও সাফল্য কামনা করে তিনি লিখেছেন—‘জয় হোক তোমার ইচ্ছাশক্তির।’

মুন্নির মা সুফিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই কথা বলতে পারে না। তবে কখনো তার ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নের কাছে হার মানতে দেখিনি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। নিজের চেষ্টায় অনার্স শেষ করেছে, পাশাপাশি ছবি আঁকা ও নিজের কাজের মাধ্যমে একটি অবস্থান তৈরি করেছে। এখন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছে, এতে একজন মা হিসেবে আমি অনেক আনন্দিত ও গর্বিত। আমি চাই, আমার মেয়ে জীবনে আরও এগিয়ে যাক, নিজের যোগ্যতায় মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুক। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

সুইটি আক্তার মুন্নির এই পথচলা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না, তারই এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

আরও পড়ুন: তিতুমীর কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপে নতুন নেতৃত্ব, পাঁচ শিক্ষার্থী পেলেন দায়িত্ব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবলের রগ কাটল মাদক কারবারিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


রূপগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবলের রগ কাটল মাদক কারবারিরা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এক কনস্টেবলের হাত-পা ভেঙে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য (এপিবিএন) আবুল কালাম মাসাবো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। কয়েকদিন আগে তিনি শাহাদাত ও এমদাদুল নামে দুই মাদক কারবারিকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। এর পর থেকে মাদক কারবারি শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল আবুল কালামকে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল ফোন করে আবুল কালামকে ডেকে নির্জন বিলে নিয়ে যান।

এ সময় শাহজালাল ও তার সঙ্গে থাকা ১০/১৫ জন মিলে আবুল কালামকে নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেন। আবুল কালামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আবুল কালামকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, "ঘটনাটি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ৭ নভেম্বরের চেতনা তুলে ধরলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ পি.এম


জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ৭ নভেম্বরের চেতনা তুলে ধরলেন

দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হবে ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশের এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান হবে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের অঙ্গীকার হোক—দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে সেনাসদস্য নিহত হওয়ায় নেজামে ইসলাম পার্টির শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


টেকনাফে সেনাসদস্য নিহত হওয়ায় নেজামে ইসলাম পার্টির শোক

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সশস্ত্র পাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্য মো. তিতাস শেখের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, "মানবপাচারের মতো ভয়ংকর অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একজন দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যের এই মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।" এই ঘটনা দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বেপরোয়া মনোভাবকে আবারও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

শুক্রবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির সহকারী মহাসচিব হাজী আনোয়ারুল কবীর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতিকুর রহমান সিদ্দিকী এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, "বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মানবপাচারকারীরা শুধু মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করছে না, তারা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য এক ভয়ংকর হুমকি হয়ে উঠেছে।" দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা এবং যৌথ বাহিনীর উদ্ধার অভিযানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, এসব অপরাধী চক্র নির্মূলে আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার, অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।

তিনি নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে দ্রুত তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, "একজন সেনাসদস্যের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতা, অর্থদাতা ও স্থানীয় সহযোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।" তিনি যোগ করেন, "শুধু চুনোপুঁটি ধরে দায় সারলে চলবে না, বরং এসব অপরাধী চক্রের শেকড় সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে হবে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও কঠোর অবস্থানের পরিচয় দিতে হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির আহ্বান, গণতান্ত্রিক-ন্যায়ভিত্তিক-মানবিক-নিরাপদ দেশ গড়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


রাষ্ট্রপতির আহ্বান, গণতান্ত্রিক-ন্যায়ভিত্তিক-মানবিক-নিরাপদ দেশ গড়ার

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সাথে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সকল বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ-এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। সেই একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এসময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে এই বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্তি দেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন, সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করেন সুশাসন।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আজ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%