বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:১৩ এম
কানাডীয় গবেষকদের পরিচালিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘জিএলপি-১’ গোত্রের ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহারে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুরা ওজন কমাতে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি ৭৫০ জনেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে আয়োজিত ৯টি পৃথক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ ওষুধগুলো কেবল অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে না, বরং এটি অংশগ্রহণকারীদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাজ্যে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক স্থূলতায় ভোগা অনুর্ধ্ব-১৮ রোগীদের চিকিত্সার জন্য ‘মাউনজারো’ ও ‘ওয়েগোভি’-এর মতো জিএলপি-১ ওষুধগুলো প্রেসক্রাইব করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে যখন অতিরিক্ত ওজনের কারণে শরীরে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসা বা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কার্যকর হয় না, তখনই দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা-র বিশেষায়িত সেন্টারগুলো থেকে এগুলো প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন
অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে ঝিনুকের নির্যাস, বলছে গবেষণা।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ইনজেকশন গ্রহণের পর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গেছে বমি বমি ভাব।
তুলনামূলক অন্যান্যদের তুলনায় ওষুধ গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে এই উপসর্গটি অধিক পরিমাণে দেখা গেছে।
তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কেবল বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে ও নির্দেশনায় এই ওষুধগুলো ব্যবহার করা উচিত।
এ ছাড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর জিএলপি-১ চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এসব ওষুধ মারাত্মক স্থূলতার চিকিত্সায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে, তবে এটি কোনোভাবেই সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম কিংবা সুস্থ জীবনযাত্রার বিকল্প হতে পারে না।
ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা সমান জরুরি।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযোগ সড়ক নেই। যে যে সড়কগুলো আছে সেগুলো কাদা ও জলাবদ্ধতায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই কারণে শিক্ষার্থীরা যেন স্কুলের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছে এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরকারি গাবনা প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান মূল পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে। ওই পথ দিয়ে গাবনা গ্রামসহ পাশের গোধইল গ্রামের অন্তত ৭০ জন শিক্ষার্থী স্কুলে আসে। এই সরু পথটি শুধু ছাত্রদের জন্য নয়, বরং অন্তত দেড়শ পরিবারের প্রায় ৫০০ মানুষের চলাচলের মাধ্যম। শুষ্ক মৌসুমে এই পথ শুকনো থাকলেও, বর্ষা মৌসুমে অন্তত ছয় মাস ধরে জলাবদ্ধ থাকে। বিকল্প পথ না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, ফলে অভিভাবকদের আতঙ্কে স্কুলে পাঠাতে হয়।
অবস্থার কারণে অনেকে পানিতে পড়ে যায়, পোশাক ভিজে ও নোংরা হয়। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি চলাচল করায় পায়ে চুলকানি ও ঘা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি কমে গেছে এবং তাদের পড়াশোনাতেও লক্ষণীয় পিছিয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়টির আশপাশে থাকা দুটি পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় ভবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার মাত্র ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।
ছোট কাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই অবস্থা রয়েছে। মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় ৪০০ মিটার। মাটির সরু পথের বর্ষায় কাদা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। উপজেলা জুড়ে ৩৪টি বিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম জানিয়েছে, কাদাপানি মাড়িয়ে স্কুল যাওয়ার কারণে পচা পানির কারণে তাদের পায়ে চুলকানি ও ঘা হয়েছে। ছোট শিক্ষার্থীরা পানিতে পড়ে জামাকাপড় ও বই ভিজিয়ে ফেলে, তাই অভিভাবকরা তাদের স্কুলে পাঠাতে চান না।
স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা জানান, গাবনা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের স্কুলের দুই পাশে দুটি পুকুর আছে। প্রতি বছর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এর কারণে স্কুলের উত্তর পাশের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গাইড ওয়াল নির্মাণ না হলে ভবনটি পুকুরে ধসে যাবে। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, রাস্তা ও পাড় সংস্কার জরুরি।’
গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক ও ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। আমরা শিক্ষকরাও এই পথ দিয়ে আসার সময় পোশাক নোংরা হয়ে যাওয়া কারণে বাধ্য হয়ে আলাদা পোশাক সঙ্গে নিয়ে আসি। প্রতি বছরই উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি।’
বদলগাছী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘এই উপজেলায় ১৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ের সংযোগ পথে বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলকেও অবগত করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কে সমস্যা রয়েছে, যার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে সড়কগুলো সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ বিশ্বকাপ এবার শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং বৈচিত্র্য ও অভিবাসনের গল্পও তুলে ধরছে। এবারের আসরের পালা কিংবা কাঠামোয় রেকর্ডসংখ্যক ফুটবলার নিজেদের জন্মভূমির বাইরে অন্য দেশের হয়ে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয়তার ধারণাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের এক হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড়ের প্রায় ২৩ দশমিক ৬ শতাংশই নিজেদের জন্মভূমির পরিবর্তে অন্য দেশের জার্সি গায়ে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আগের কাতার বিশ্বকাপে এই হার ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
এতে অন্যতম পরিস্কার উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসির কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি ফ্রান্সের হয়ে খেললেও তাঁর শিকড় রয়েছে আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাজ্যে। তিনি তাঁর বহুজাতীয় পরিচয়কে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে তিনি ৭টি অ্যাসিস্ট করে পেলের পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।
বিশ্বকাপে জন্মভূমির বাইরে অন্য দেশের হয়ে খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের পা থেকে এসেছে ৭০টি গোল ও অ্যাসিস্ট। এর মধ্য থেকে ১৯টি গোল এমন, যেখানে গোলদাতা ও অ্যাসিস্টদাতা—দুজনই জন্মসূত্রে ভিন্ন দেশের নাগরিক।
এছাড়াও, তিনটি আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর দলে অভিবাসী খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া হুলিয়ান কিনিয়োনেস মেক্সিকোর হয়ে গোল করেছিলেন, জার্মানিতে জন্ম নেওয়া মালেক তিলমান যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মারাত্মক পারফরমেন্স দেখিয়েছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী জোনাথন ডেভিড কানাডার হয়ে ইতিহাস এঁকেছেন।
ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৭৪ জন ফুটবলার এবার বিভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতা করেছেন, অন্যদিকে কুরাসাও দলের ২৬ সদস্যের মধ্যে ২৫ জনই নেদারল্যান্ডসে জন্মেছেন।
স্পেনের নিকো উইলিয়ামস, আইভরি কোস্টের গুয়েলা দুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সটার কিংবা স্কটল্যান্ডের জন সটার—একই পরিবারের সদস্য হয়েও ভিন্ন দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই উদাহরণগুলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয়তার ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যের প্রতিফলন।
দ্য গার্ডিয়ানের মতে, আধুনিক ফুটবলে জাতীয়তার সংজ্ঞা দীর্ঘকাল ধরে যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। বিশ্বায়ন, অভিবাসন ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে জন্মস্থান এবং জাতীয় পরিচয়ের একমাত্র নির্ধারক থাকছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে টিসিবি পণ্যের একটি তালাবদ্ধ গোডাউনের আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ ও ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে ১৭ বছর বয়সী তরুণ নাসিম আলী ওরফে নয়নের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাটবাকইল বাজারের শাপলা মার্কেটের নিচতলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নয়নের পিতার নাম আব্বাস আলী, তিনি নেজামপুর ইউনিয়নের হাটবাকইল গ্রামের বাসিন্দা।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাটবাকইল বাজারের শাপলা মার্কেটের নিচতলায় টিসিবি পণ্যের একটি তালাবদ্ধ গোডাউনে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে থাকে। তারা গোডাউনের দরজা ভেঙে মার্কেটের পাম্প থেকে পানি সরবরাহ করে আগুন নেভাতে সচেষ্ট হন।
এ সময় স্থানীয়রা বালুও ব্যবহার করেন।
নয়নও আগুন নেভানোর জন্য ওই ঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে দোতলায় উঠার চেষ্টা করে এবং পানির ট্যাংক থেকে বালতিতে পানি নিয়ে নিচে নামার সময় প্রচণ্ড ধোঁয়ায় আটকা পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
নাচোল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার এন্তাজুল হক জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুরো ভবনটি তল্লাশি শুরু করলে সিঁড়ির পাশে নয়নের মরদেহ পাওয়া যায়।
বিভিন্ন অংশ কিছু ফোসকা পড়ে ঝলসে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, আগুনের আঁচ এবং ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে নয়ন মারা গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে চিন্তা করছে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাগণ।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেছেন, ঊর্ধ্বমুখী আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কারণে নয়নের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং আবেদন অনুযায়ী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন। তিনি শেষবারের মতো পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। এরপরেই জাতীয় দল থেকে অবসর নেবেন এই তারকা ফুটবলার। নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলেই তার রেকর্ড গড়া ক্যারিয়ার থামবে। এই ক্যারিয়ারের পাতায় তিনি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় হয়েছেন।
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এবার জানা যাচ্ছে তার শেষ দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ আওয়াদের বরাত দিয়ে গোল ডট কম জানাচ্ছে, পর্তুগালের একজন এজেন্ট বলেছেন যে রোনালদো একটি ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাবেন।
আওয়াদ জানিয়েছেন এই ম্যাচ সম্পর্কে, ‘তিনি উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলবেন। ম্যাচটি হবে স্পোর্টিং লিসবনের হোম মাঠ হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে।’ এর মানে হলো, ২৪ সেপ্টেম্বরের এই ম্যাচেই সমর্থকরা শেষবারের মতো রোনালদোকে পর্তুগালের জার্সিতে দেখতে পাবেন।
এই বিদায়ের খবর মিলে যাচ্ছে পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুজের নিয়োগের সঙ্গে। জেসুস সম্প্রতি চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দল এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন করবেন না। ফলে রোনালদোর জন্য দরজা খোলা থাকছে।
ক্যানাল ১১-কে জেসুস বলেছেন, ‘অনেকে হয়তো ভাবছেন নতুন কোচ এসেই অনেক খেলোয়াড় বদলে দেবেন। তবে তা হবে না। আমি বোকা নই। এ ছাড়া, যারা এবার ডাক পাননি, এমন অনেক খেলোয়াড়কে দলে আনার মতো সময়ও আমার হাতে নেই।’ তার এই বাস্তবসম্মত চিন্তার কারণে রোনালদো তার প্রাপ্য বিদায়ী সংবর্ধনা পেতে সক্ষম হতে পারেন, তারপর দল বদল আসবে।
ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের পর রোনালদো সরে দাঁড়ালে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হবে অসাধারণ পরিসংখ্যান নিয়ে। রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ২৩৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৪৬টি গোল করেছেন। এতে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড়।
জাতীয় স্তরে তার ট্রফি ক্যাবিনেটে আছে ২০১৬ সালে জেতা একটি ইউরো শিরোপা। এর পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জেতা দুটি নেশনস লিগ শিরোপাও রয়েছে। বর্তমানে রোনালদোর বয়স ৪১ বছর হলেও, আল নাসরের সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। ক্লাব ফুটবলে তিনি আরও কিছু মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্যে চেষ্টা করছেন।
২৪ সেপ্টেম্বর তার আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হতে চললেও, রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারে এখনো একটি বড় লক্ষ্য বাকি আছে। রোনালদোর ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা ৯৭৬টি। অবসরের আগে তিনি ১০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে চান। পর্তুগালের দায়িত্ব শেষ হলে তার সমস্ত মনোযোগ ক্লাবের মৌসুমের দিকে চলে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ